Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

ট্রানজিট ও আঞ্চলিক কানেকটিভিটিতে সম্পৃক্ত হওয়ার গুরুত্ব


হীরেন পণ্ডিত: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে সম্প্রতি যে দশটি সমঝোতা স্মারকে সই হয়েছে, সেগুলোর একটি হচ্ছে রেল ট্রানজিট। এটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রেলযোগে দেশের এক অংশ থেকে আরেক অংশে সরাসরি নিজেদের পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাবে ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী জুলাই মাসে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের রেল চালানো হতে পারে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো থেকে পণ্য ও মালামাল আনার-নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ বেগ পেতে হয় ভারতকে। মাঝখানে বাংলাদেশ থাকায় দেশের অন্য অংশের সাথে রাজ্যগুলোর পণ্য পরিবহন বেশ বেশবহুল এবং সময়সাপেক্ষ। সেই কারণেই বাংলাদেশের কাছে পণ্য ট্রানজিট সুবিধা চেয়ে আসছিলো ভারত। কয়েক বছর আগে দু’টি রুটে পণ্য পরিবহনের অনুমতি বা ট্রানজিট দেয় বাংলাদেশ।
এই সমঝোতা চুক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার মিত্ররা বলছেন, ‘এ চুক্তি দেশ বিক্রির শামিল।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি তো দরজা বন্ধ করে বসে থাকতে পারি না। ইউরোপের এক দেশ থেকে বহুদেশ হয়ে ট্রেন চলে। তারা যোগাযোগের অপার সুযোগ ভোগ করছেন। তারা তো কেউ দেশ বিক্রির কথা বলে না। ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানির উৎস এবং শীর্ষ দশ বিনিয়োগকারী দেশের একটি। প্রধানমন্ত্রী ভারতকেই বেছে নিয়েছেন তার সবচেয়ে বড় প্রায়োরিটি হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সব সময় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে চলি। আওয়ামী লীগ দেশকে বিক্রি করে না। কারণ আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলার আগে আপনাকে ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট এবং করিডোর ব্যাপারগুলো বুঝতে হবে। বর্তমানে পাঁচটি রুটে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে তিনটি যাত্রীবাহী ইন্টারচেঞ্জ, বাকি দু’টি পণ্যবাহী। করিডোর পদ্ধতিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকবে ভারতের পণ্যবাহী রেল। এই রেল ভারতের গেদে থেকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় আসবে। সেখান থেকে পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের আব্দুলপুর, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, নীলফামারী সীমান্তবর্তী চিলাহাটী স্টেশন হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ী স্টেশনে যাবে। এই চুক্তিতে ভারতের অন্তত ছয়টি রাজ্যে পণ্য পরিবহনের খরচ অনেক কমে যাবে। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্য পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের করিডোর ব্যবহারে ভারত অনেক লাভবান হবে ঠিক। কিন্তু বাংলাদেশের লাভের হিস্যাটি নেহায়েত কম তো নয়ই, উপরন্তু দীর্ঘমেয়াদে লাভ বাংলাদেশরই বেশি’।
ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার সফট লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে দুই বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে প্রদান করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানের ৮০ শতাংশ পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনীকিকরণের নীতিকে সমর্থন করে ভারত ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। কারণ ভারত বাংলাদেশে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখতে চায়।
বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে হঠাৎ কোনো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশ সরকার ভারতের সহযোগিতা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করে। যার ফল সরাসরি পায় দেশের জনগণ। একটি বড় বিষয় বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি। বর্তমানে চীন ভারতকে টপকে বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য পার্টনার হলেও এখনো ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান বাণিজ্য পার্টনার। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য তিনটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল মূলত ভারত থেকে আসে, যা বাংলাদেশ রেডিমেড গার্মেন্টস করে ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি করে। পেট্রোলিয়াম এবং খাদ্যদ্রব্য আমদানির প্রধান উৎস ভারত। পশ্চিমা রাষ্ট্রের বাইরে ভারত বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিরও উৎস। গার্মেন্টস শিল্পে ভারত নিজেই বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী। তারপরও ভারত কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতা এবং বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়ীদের জোরালো সম্পর্কের কারণে। সরকারের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ নীতি বাংলাদেশের স্বার্থ সর্বাধিক রক্ষা করেছে। ভারতবিরোধিতা নয়; ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই কেবল পারে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে সেই বাস্তসম্মত ও অতি প্রয়োজনীয় পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
ভারতকে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়ায় বাংলাদেশের লাভ না ক্ষতি? এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে এ বিষয়টি এখন সবার আগ্রহের, সবার কাছে বিশ্লেষণের। ট্রানজিট হলো কোন দেশকে ব্যবহার করে যখন অন্য দেশের জন্য পণ্য বহন করা হয়, তখন তা সে দেশের ট্রানজিট সুবিধা বিবেচিত হয়। বাংলাদেশকে ভারত ট্রানজিট সুবিধা দিলে বাংলাদেশের পণ্যবাহী গাড়ি ভারতের ভূমি ব্যবহার করে নেপাল বা তৃতীয় কোন দেশে যেতে পারবে। এর সাথে কম করে হলেও ৩টি দেশ সম্পৃক্ত থাক। এখানে শুধু একটি দেশের ভূমি ব্যবহার করা হয়।
আবার একটি দেশের পণ্যবাহী যানবাহনগুলো প্রতিবেশী একটি দেশের সীমান্তবর্তী বন্দরে গিয়ে মালামালগুলো ঐ দেশের নিজস্ব যানবাহনে তুলে দিবে। সেই যানবাহনগুলো মালামাল পরিবহন করে অন্যপ্রান্তের সীমান্তে অপেক্ষমান সে দেশের যানবাহনে তুলে দিয়ে আসবে নির্ধারিত ভাড়ার বিনিময়ে- এটাই ট্রান্সশিপমেন্ট। ভারতের পণ্যবাহী জাহাজগুলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে এসে তাদের পণ্যগুলো খালাস করে। আবার বাংলাদেশের ট্রাকগুলো সেই পণ্য বহন করে ভারতের আসাম-ত্রিপুরার সীমান্ত পর্যন্ত গিয়ে আবার ভারতের ট্রাকে তুলে দিয়ে আসে।
ট্রান্সশিপমেন্ট স্থল বন্দর দিয়েও করা যায় এবং এতে অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া যায়। অর্থাৎ ভূমি যার, যানবাহনও তার হতে হবে। আবার করিডোর হলো একটি দেশের যানবাহন অন্য একটি দেশের উপর দিয়ে সে দেশের অন্য অংশে পৌঁছানোর সুযোগ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের কোন যানবাহন বাংলাদেশের উপর দিয়ে আসাম রাজ্যে গেলে বাংলাদেশ হবে তাদের জন্য করিডোর। ২০১০ সালে বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি হয়। ভারতকে বাংলাদেশ মূলত মাল্টিমোডাল বা বহুমাত্রিক ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দিতে শুরু করেছে ২০১০ সালে। দুদেশের মধ্যকার নৌ প্রটোকলের আওতায় আশুগঞ্জ নৌবন্দর ব্যবহার করে এটি শুরু হয়৷ প্রথমে কলকাতা থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত নৌপথে, তারপর আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া-আগরতলা পর্যন্ত সড়কপথে ভারতীয় পণ্য পরিবহন করা হয় পরীক্ষামূলকভাবে। এরপর ২০১৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত ব্যবস্থা হিসেবে চালু করা হয়। বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের জন্য ২০১৬ সালে নামমাত্র মাসুল টন প্রতি ১৯২ টাকা ধার্য করা হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় নিয়মিতভাবে পণ্য আনা-নেয়ার দ্বার পুরোপুরি খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ৷
এতে করে বাণিজ্যিকভাবে এই দু’টি বন্দর ব্যবহার করতে পারছে ভারত। ভারতের প্রধান ভূখণ্ড থেকে জাহাজে আসা পণ্যগুলো বাংলাদেশি যানবাহনে তুলে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেতরে আটটি রুট দিয়ে চারটি স্থলবন্দর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় নেওয়ার কাজটি হলো মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট। একইভাবে ঐ রাজ্যগুলো থেকেও পণ্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে আবার ভারতে নেওয়া যাবে৷
ভবিষ্যতে কখনো যদি তৃতীয় দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে খালাস করে ত্রিপুরা বা মেঘালয়ে নেয়া হয়, তাহলে তা একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট। এই সুবিধার আওতায় মূলত ভারতের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে পণ্য আনা-নেয়া করা যাবে বাংলাদেশকে নির্ধারিত মাশুল প্রদান করে। বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পরিবহনের সময় বাংলাদেশী যানবাহন ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ভারতীয় কন্টেইনার পরিবহনে ন্যূনতম মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮৯ টাকা।
বাংলাদেশের সাথে ট্রানজিট চুক্তি করেছিল নেপাল ও ভুটান যথাক্রমে ১৯৭৬ ও ১৯৮৪ সালে। কিন্তু তা কাজ করেনি নানা প্রতিবন্ধকতায়। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে স্থলবন্দর ও ট্রানজিট রুটের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে ২০১০ সালের পর। বর্তমানে নেপাল ও ভুটানের ট্রাক ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত পণ্য বহণ করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের ভেতর প্রবেশ করে মোংলা বা চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারে না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য নিয়ে ভারতীয় সীমান্তে গিয়ে তা খালাস করা হয়।
তারপর আবার ভারতীয়, নেপালি বা ভুটানি ট্রাক তা তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলে যায়। এই ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবস্থা অনেকদিন থেকেই চালু আছে। ইতোমধ্যে ২০২২ সালে ভারত বাংলাদেশকে বিনা মাশুলে তাদের স্থলবন্দর, বিমানবন্দর ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাক এখন ভারতের নির্দিষ্ট স্থলবন্দর ও পথ হয়ে নেপাল ও ভুটানে যেতে পারবে। অবশ্য এর আগেই মাশুল দিয়ে ২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে নেপালে সার রপ্তানিতে ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছে ভারত।
তবে এখনো সার্বিক ট্রানজিট ও ফ্রি ট্রানজিট সুবিধা পাওয়া যায়নি। নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) মোটরযান চুক্তি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের জন্য হয়তো আরেকটু সুবিধা হতে পারে। ভুটান অবশ্য এখনো এই চুক্তি অনুস্বাক্ষর করেনি৷
২৩শে জুন, ২০২৪ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে রেল ট্রানজিট বিষয়ে আলোচনা হয়। ভারতের ট্রেন এতদিন বাংলাদেশের সীমান্তে এসে ইঞ্জিন পরিবর্তন করে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ওপর বাংলাদেশের ইঞ্জিনে চলতো। কিন্তু এখন ভারতের রেলগাড়ি বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের পূর্ব-পশ্চিমে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।
এই সমঝোতার মূল বিষয়বস্তু হলো আঞ্চলিক কানেকটিভিটি। ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্যই চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। এত ভারতের সুবিধা, ভারতের পশ্চিম পাশের রাজ্যগুলো থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার সঙ্গে কলকাতার দূরত্ব ১৬৮০ কিলোমিটার। আর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগরতলার দূরত্ব মাত্র ২৪৮ কিলোমিটার। মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের সঙ্গে কোলকাতার দূরত্ব ১১৫০ কিলোমিটার হলেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এ দূরত্ব ৫৭০ কিলোমিটার। মিজোরামের রাজধানী আইজলের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ৬৫৫ কিলোমিটার আর কলকাতার দূরত্ব ১৫৫০ কিলোমিটার। নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমার সঙ্গে বন্দরের দূরত্ব ৮৮০ কিলোমিটার হলেও কলকাতার দূরত্ব ১৪৫০ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে অন্যান্য রাজ্যের দূরত্বও চট্টগ্রামের তুলনায় গড়ে তিনগুণের বেশি৷
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে পণ্য পরিবহণে ভারত সরকারের সময় ও অর্থ দু’টিই বেশি যাচ্ছে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সাত রাজ্যে পণ্য পরিবহণ শুরু হওয়ায় এখন আগের চেয়ে ভারতের খরচ কমে যাবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে পণ্য নিতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। সময় এবং দূরত্বেও লাভবান হবে তারা। ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারত মিয়ানমারসহ আসিয়ানভুক্ত দেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারবে। ভারত এর পূর্বাঞ্চলীয় নীতি এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের লাভ কী? এটি হবে কূটনীতির হাতিয়ার, ভারতকে প্রদত্ত এ বিশেষ সুবিধাটি ভারতকে ব্যাপকভাবে লাভবান করবে এবং ভারত বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ভারতের এ নির্ভরতাকে বাংলাদেশ আলোচনার বিষয় হিসেবে ব্যবহার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। ইতোমধ্যে ২০২৪ সালের ২৩ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণ করে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পদার্পণ করবে। তখন এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে রপ্তানিতে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতো, তা পাবে না। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতে পণ্য রপ্তানিতে ৯৭% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী সময়েও শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে ভারতের সাথে একটি কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশীপ আলোচনা চলমান।
আসলে ভারতকে সুবিধা দেয়ার পরে ভারতও বাংলাদেশকে ট্রানজিট দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য ভারতের ভূমি ব্যবহার করে নেপাল, ভূটান, পাকিস্তান, ইরান ইত্যাদি দেশে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৩ জুন দু’দেশের বৈঠকে নেপাল থেকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্য বাড়াতে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট ভূমিকা রাখবে। মহেশখালীতে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের ৪র্থ সমুদ্রবন্দর, যা হবে দেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর। ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয়ায়, এ সমুদ্রবন্দরটি ভারত ব্যবহার করবে এবং বাংলাদেশের আয় অনেক বাড়বে। আরো বেশি সুবিধা পেতে বাংলাদেশের করণীয়। ভারত থেকে যাতে বাংলাদেশি জাহাজে পণ্য আনা যায়, সেই ব্যবসা ধরতে নজর দিতে হবে। বন্দরের সুযোগ-সুবিধা, সক্ষমতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা দেখতে হবে। ভালো সেবা দিতে পারলে সেবামাশুলও বাড়ানো যাবে। ভারতের ভূমি ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশ ও তৃতীয় দেশের পণ্য আনা-নেওয়ার যে সুযোগ রয়েছে, তা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটা ভাবা উচিত। ভারত থেকে যে সব জাহাজে করে পণ্য আসে। বাংলাদেশী জাহাজগুলো সেই বাজারটা ধরতে পারে। পায়রা বন্দরকে আরো সক্রিয় করতে হবে। রেল ট্রানজিটে বাংলাদেশ যেন ন্যায্য মাশুল পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ভারতকে সুবিধা দেয়ায়, বাংলাদেশও তিস্তা পানিবণ্টনে সুবিধা আদায় করে নিতে হবে।
আমাদেরকে বুঝতে হবে যে রিজিওনাল কানেকটিভিটি, ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট, করিডোর এগুলো একটি স্বাভাবিক বিষয়। আমরা ইউরোপিয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এরকম সহযোগিতা দেখে আসছি। এতে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে না, বরং সকলেই লাভবান হচ্ছেন।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ও ভারত একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে চায়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানি করে ভারত থেকে। বিশেষত, খাদ্যপণ্যের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক নিরাপত্তায়ও দুদেশেরই একে অপরকে প্রয়োজন। আইওআরএ, বিবিআইএন, বিমসটেক, সার্ক, এনডিবি এর সদস্য দু’টি দেশই। দু’টি দেশই গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশ এর কন্ঠ হিসেবে স্বীকৃত।
অনেকে বলছেন, বাংলাদেশ ভারতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হচ্ছে। যা আদৌ যৌক্তিক নয়। বাংলাদেশ যথেষ্ট স্বাধীনভাবে তার সবার প্রতি বন্ধুত্ব ও কারো প্রতি শত্রুতা নয়। পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। বাংলাদেশ সফলভাবেই ভারসাম্যের কূটনীতি প্রয়োগ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত, জাপান, আসিয়ান ও মধ্যপ্রাচ্যের সবার সাথেই বাংলাদেশ ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তবে প্রতিবেশি বলে স্বাভাবিকভাবেই দুদেশের সম্পর্কের গভীরতা ও নির্ভরশীলতা বেশি এবং দুদেশের অগ্রযাত্রার জন্য বিষয়টি অনিবার্য। এক্ষেত্রে একপাক্ষিক লাভ না হয়ে যেন উইন উইন বা দু’পক্ষের লাভ যেন বজায় থাকে সেটাই মূল বিষয়। বর্তমানে পাঁচটি রুটে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে তিনটি যাত্রীবাহী ইন্টারচেঞ্জ, বাকি দু’টি পণ্যবাহী। তবে বর্তমান পদ্ধতিতে ট্রেন সীমান্তে আসার পর বাংলাদেশি ইঞ্জিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসে।
এরপর বাংলাদেশি চালক তা চালিয়ে আনেন। ফেরার সময়েও একই রকম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। নতুন যে চুক্তিটি হয়েছে, সেটির আওতায় ভারতের মালবাহী ট্রেন পশ্চিমবঙ্গে গেদে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করবে বলে জানা যাচ্ছে। এরপর দর্শনা রেল স্টেশন থেকে পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের আব্দুলপুর, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, নীলফামারীর চিলাহাটি হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ী স্টেশনে মালবাহী ট্রেন নিতে চায় ভারত। সেখান থেকে রেল লাইনটি ভুটান সীমান্তবর্তী ডালগাঁও পর্যন্ত যাবে বলেও জানা যাচ্ছে। ভারত আগে থেকেই এটা চেয়েছিলো। এটা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তারও একটি পরিকল্পনা এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে, দুই দেশের সরকার প্রধানের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা।
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগের ফলে আগের তুলনায় ভারতের পণ্য পরিবহন ব্যয় অনেক কমে আসবে। কাজেই তাদের যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে একটি বেনিফিট শেয়ারিংয়ের ফর্মুলায় বাংলাদেশ যেতে পারে।
হীরেন পণ্ডিত: প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কলামিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

sicbo

roulette

pusathoki slot

orbit4d slot

pusatmenang slot

https://www.firstwokchinesefood.com/

orbit4d

https://www.mycolonialcafe.com/

https://www.chicagotattooremovalexpert.com/

fokuswin

slot bet 200

pusatmenang

pusatplay

https://partnersfoods.com/

https://www.tica2023.com/

https://dronesafeespana.com/

https://mrzrestaurants.com/

slot server luar