Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবার জন্য ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের যে ভিত্তি তৈরি করে গেছেন, সে পথ ধরেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। এক যুগের বেশি পথচলায় প্রমাণিত হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার এক উন্নয়ন দর্শন।
এখন স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ ভিশনে নেতৃত্ব হিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নির্মাণে ৪টি স্তম্ভের আলোকে, স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিটিআরসি প্রকাশিত সর্বশেষ ইন্টারনেট সংযোগের হিসাব থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায় মোবাইল ব্যবহার কারী ১৮ কেটি ৬০ লাখ। প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট ইন্টারনেট গ্রাহক ১৩ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার। এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ১২ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার। আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮ লাখ ২২ হাজারের মতো।
বৈষম্য আমাদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই পরিচিত একটি শব্দ। আর্থিক বৈষম্য, সামাজিক বৈষম্য বা রাজনৈতিক বৈষম্য শব্দগুলো আমরা প্রতিনিয়ত শুনে থাকি। প্রযুক্তির চরম উন্নতির এই যুগে আমরা নতুন এক বৈষম্য দেখতে পাচ্ছি আর তা হলো ডিজিটাল বৈষম্য। প্রযুক্তি অগণিত মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে বহু মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেটিও মেনে নিতে হবে।
এই করোনাকালে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। ব্যক্তিগত ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহু দেশ তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অফিস-আদালত সব ক্ষেত্রেই বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হয়েছে। ডিজিটাল বৈষম্যের আলোচনা এখন তাই ব্যাপকভাবে হচ্ছে। বিশ্বে বহু মানুষ আছেন, যারা প্রযুক্তির নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্য অনলাইন ক্লাস, অফিস প্রভৃতি একটি বিভীষিকার নাম। ডিজিটাল বৈষম্য একটি বৈশ্বিক সমস্যা। উন্নত বিশ্বের বহু দেশ এ সমস্যায় ভুগছে। আমেরিকা ও ইউরোপেও দেখা যায়, বহু মানুষ প্রযুক্তি সুবিধার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। আবার এর সঙ্গে নানা সামাজিক শ্রেণিবিভাজনও যুক্ত হয়ে যায়। অঞ্চল, লিঙ্গ, আর্থসামাজিক অবস্থাও ডিজিটাল বৈষম্যের সঙ্গে জড়িত থাকে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থা যে আরও খারাপ, তা সহজেই বোঝা যায়।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য লাগসই ডিজিটাল সংযোগ ও ডিজিটাল ডিভাইস অপরিহার্য। ইন্টারনেট ও স্মার্ট ফোন শ্বাস প্রশ্বাসের মতো। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় ইন্টারনেট এখন মানুষের জীবনধারায় অনিবার্য একটি বিষয় হিসেবে জড়িয়ে আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হচ্ছে ইন্টারনেট। কাউকে এ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়।
শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা সম্পন্ন মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা থেকেই ইতোমধ্যেই প্রাথমিক স্তরে বই ছাড়া ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে লেখা পড়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের সুযোগ না দিলে আগামী পৃথিবীতে তারা টিকে থাকার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়বে। ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি মানুষ ইন্টারনেটের উচ্চগতিও এখন প্রত্যাশা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসতে ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর ভারনারেবল এক্সেপশন উদ্যোগের আওতায় আত্মকর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।
ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১ আজ বাস্তবতা। এই ধারাবাহিকতায় জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ করছে লক্ষ্য এখন ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ।
এখন এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে ইন্টারনেট প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। ইন্টারনেট প্রযুক্তি দেশে নতুন অর্থনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কৃষক-শ্রমিক, প্রবাসী এবং গার্মেন্টেসের কর্মীরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছেন, তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে ৬.৫০ লাখের মতো ফ্রিল্যান্সার আইটি তরুণ তরুণী। ইন্টারনেটকে অনেক দেশ মৌলিক অধিকার হিসেবে মেনে নিয়েছে আমাদের সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার।
ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ অবশ্যই নিতে হবে। একটা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ইন্টারনেট সহজলভ্য করা, প্রযুক্তি সম্পর্কিত অবকাঠামোর উন্নয়ন করা, মানুষকে প্রযুক্তি-সাক্ষর হিসেবে গড়ে তোলার মতো পদক্ষেপগুলো ডিজিটাল বৈষম্য রোধে ভালো ভূমিকা রাখবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যেমন দারিদ্র্য বিমোচনের সহায়ক একই সঙ্গে তা সুশাসন, গুণগত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায্যতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালায় তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে অন্যতম কৌশল হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তিতে সামাজিক সমতা ও সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে; যাতে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যম সমাজের মূল¯্রােতে নিয়ে আসা।
তবে ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও সবার সামনে আসছে। মূলত দরিদ্র ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী, যারা গ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে, যাদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইস বা সংযোগ নেই বা সেবা গ্রহণ করার জন্য যাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দক্ষতা নেই তারা এই সেবা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়েছে।
বর্তমানে দেশের ৫৫ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই। পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলোর ৫৯ শতাংশের স্মার্টফোন নেই এবং ৪৯ শতাংশের কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ নেই। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবা গ্রহণে যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ একই সঙ্গে সেবাগুলোর সহজীকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতাও প্রয়োজনীয়। এ দুই ক্ষেত্রেই দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ঘাটতি রয়েছে।
বর্তমান সময়ে তথ্য ও প্রযুক্তিতে অংশগ্রহণ যে কোনো জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা ও ক্ষমতায়নের বহিঃপ্রকাশ। তথ্যপ্রযুক্তি শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যমই না একই সঙ্গে তা নতুন নতুন ক্ষেত্র ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। করোনাকালে এর কিছু প্রয়োগ আমরা দেখতে পেয়েছি, যদিও তা সার্বিকভাবে ও সামগ্রিকভাবে নয়। তথ্যপ্রযুক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বোঝা। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা সুযোগ সৃষ্টি না করাও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।
প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অসমতা দেশের জনগণের মধ্যকার বর্তমান অসমতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এমনিতেই আমাদের শ্রেণিবিভক্ত সমাজে সরকারি ও বেসরকারি সেবায় সবার সমান সুযোগ না পাওয়া একটি কঠিন বাস্তবতা। সরকার প্রণীত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালায় ‘সামাজিক সমতা ও সর্বজনীন প্রবেশাধিকার’ অংশে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। এখন এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করা জরুরি এবং এজন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সবার আগে তথ্যপ্রযুক্তিকে সব জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। এজন্য সরকারি উদ্যোগে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগী করে তুলতে হবে। পাশাপাশি কম খরচে বিশেষত দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীরা যাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে তার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

দক্ষ জনবল তৈরির ব্যবস্থা করা ও সহজ শর্তে অর্থায়ন করা জরুরি
২০২৫ সাল নাগাদ তথ্য প্রযুক্তি খাত থেকে ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় ও আইটি ডিভাইস উৎপাদন শিল্পে অন্তত এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাই-টেক পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১০ সাল থেকে। আজ এক যুগ পর এসে খবর মিলছে, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি খুব একটা লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। হাইটেক পার্কগুলোর কার্যক্রম চালাচ্ছে খুবই স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও কমে এসেছে। জমি ও ফ্লোর স্পেস বরাদ্দ নেয়ার পর উৎপাদন শুরুই করেনি অনেকে। ফলে বিপুল পরিমাণ জায়গা বরাদ্দ হলেও তা অব্যবহৃতই পড়ে থাকছে। সীমিত সম্পদ ও বিপুল শিক্ষিত বেকারের দেশের জন্য এমন খবর উদ্বেগজনক। এতে করে যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে সরকার হাই-টেক পার্ক বাস্তবায়ন করেছিল, তা ঝুঁকিতে পড়বে।
আইটি খাতের এত এত সাফল্য ও সম্ভাবনা থাকা সত্তে¡ও এর সামনে রয়েছে শুরু থেকেই অনেক বড় বড় বাধাবিপত্তি। আইটি খাতে সাফল্যের জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন কানেক্টিভিটি, সেই কানেক্টিভিটির পথে সমস্যা হিসেবে দেখা যায় ধীরগতিসম্পন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে, যার কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় যথাযথ এমনকি একান্ত প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক অনুপস্থিতি আইটি খাতের প্রধান উদ্দেশ্যকে সমস্যায় ফেলছে। হিসাবমতে, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪০ হাজার বিভিন্ন পর্যায়ের স্নাতক এবং প্রকৌশল ও আইটি খাত থেকে ১০ হাজার স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী বের হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, তারা আইটি বিষয়ে যতটুকু দক্ষতা অর্জন করার কথা তা পারে না, যার কারণে তাদের পুনরায় প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে। এসবের কারণ হিসেবে দায়ী করা যায় ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমির মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি না হওয়া, তাই এসব দিকে দৃষ্টি দিতে হবে, যাতে এ খাতের প্রয়োজনের দিকে নজর রেখে কারিকুলাম তৈরি করা যায়। সহজ শর্তে অর্থায়ন ও দক্ষ জনবলের বিষয়কেও বিবেচনায় রাখতে হবে।
ডিজিটাইজেশনের দিকে দ্রæত অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে দেশী প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশ রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চান দেশে প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের বিকাশ ঘটুক। তা সত্তে¡ও আমাদের অগ্রগতি কম। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতে কাজের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সফটওয়্যার ব্যবহার এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে এসএপি ওরাকল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের সলিউশনগুলো সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। কিন্তু এ ধরনের সফটওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশনের ক্ষেত্রে যে দক্ষ লোকবল দরকার তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই এসব সফটওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশনের জন্য প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বীমা, গ্রæপ অব কোম্পানিজ, ফার্মাসিউটিক্যাল, গার্মেন্টস সেক্টর, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, অটোমোবাইল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, এনার্জি সেক্টর, হাসপাতাল ইত্যাদি অটোমেশনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহার হয়। যে ইআরপি সফটওয়্যারগুলো জার্মানি, আমেরিকা বা ইসরায়েলের বানানো। বাংলাদেশের দক্ষ জনবলের অভাবে সে সফটওয়্যারগুলো বাংলাদেশে ইমপ্লিমেন্টেশনও করছে ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলংকার মতো দেশ। এসব করেই ভারত আয় করছে একটি বিশাল অংকের টাকা। বাংলাদেশের সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো আশানুরূপ আয় করতে পারছে না তাদের দক্ষ জনবলের অভাবে।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় ১৯৯০ সালে টাটা গ্রæপের হাত ধরে এসব এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ব্যবহারের গোড়াপত্তন ঘটে। বর্তমানে এসব সফটওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশনে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের সক্ষমতার ব্যবধান অনেক। টাটা কনসালটিং লিমিটেড তাদের ব্যবসায় এ ধরনের সফটওয়্যার কনসালট্যান্সি এবং ইমপ্লিমেন্টেশন তাদের ব্যবসার মূলধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তারই ফলে ভারতজুড়ে এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি দক্ষ জনবল বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের দক্ষতার ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভারতজুড়ে রাতারাতি অনেক কোম্পানি এ ধরনের দক্ষ জনবল তৈরি করে বিভিন্ন ইমপ্লিমেন্টেশন প্রজেক্টের সঙ্গে নিজেদের দেশের জনবলকে সম্পৃক্ত করে। ভারতের ‘ইনফোসিস’ এমন এক প্রতিষ্ঠানের নাম, যা আইটির দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে পৃথিবীতে এক রোল মডেল।
সরকার আইটি খাতকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এবং এর অগ্রযাত্রা আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে দিতে বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ নিচ্ছে, যা প্রশংসনীয়। অনেক আগে থেকেই আইটি খাত নিয়ে আশার স্বপ্ন দেখছে সরকার। আইটি খাতের উন্নয়নে এরই মধ্যে সরকার ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ খাতের সব ট্যাক্স মওকুফ করে দিয়েছে। যেমন কেউ সফটওয়্যার রপ্তানি করলে ১০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে। দেশী সফটওয়্যার ব্যবহারে করপোরেট ট্যাক্স যাতে কমিয়ে দেয়া হয় এবং বিদেশী সফটওয়্যার ব্যবহারে যাতে ট্যাক্স বাড়িয়ে দেয়া হয়, সে বিষয়ে নীতি প্রণয়নে উচ্চপর্যায়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো যে ক্রমবর্ধমান আইটি খাতকে এগিয়ে দেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা কাম্য নয়। এক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে হাই-টেক পার্কগুলোয় বরাদ্দকৃত জমি ও ফ্লোর ফাঁকা থাকছে সেগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান জরুরি। দক্ষ জনবল ও বিনিয়োগ তহবিলের অভাবের কথা কিছু উদ্যোক্তা বলছেন। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কী কী সহযোগিতা প্রদান করা যেতে পারে দ্রæতই তার একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।
বর্তমান আধুনিক সভ্যতার উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি নির্ভর করছে তথ্য ও প্রযুক্তির ওপর। আজকের বিশ্বের সম্পদ হিসেবে যেহেতু তথ্যকে বিবেচনা করা হয়, সেহেতু তথ্যের আধুনিক ব্যবহারে প্রযুক্তির সংযোগ থাকবে সর্বোত্তমভাবে এবং এ তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সম্পদ যথাযথভাবে কাজে দেবে। বর্তমানে আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা সম্পূর্ণভাবে আইসিটি-নির্ভর। আর এই আইসিটি গঠন হয়েছে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ইত্যাদির সমন্বয়ে। আর সবকিছুর সমন্বয় শুধু তথ্যের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। আইটি খাতকে বর্তমান যুবসমাজ খুবই আগ্রহের সঙ্গে নিচ্ছে এবং যথাযথ সাফল্যও অর্জন করতে পারছে। বাংলাদেশে আইটি সেক্টর ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধে এই সেক্টরকে সরকারিভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকার নিজেও আইটি সেক্টর নিয়ে আশাবাদী। দ্রæত সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, যা সংকটে থাকা আর্থিক খাতকে কিছুটা হলেও স্বস্তি বাড়াবে। এছাড়া বাড়বে কর্মসংস্থান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত¡বাবধানে পরিচালিত অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এ খাতে এনেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। আমরা দেখেছি, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নিয়ে প্রথম দিকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া নানা মহলে উত্থাপিত হলেও উচ্চাভিলাষী এ প্রকল্প এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্তেও বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে। অস্বীকার করার অবকাশ নেই যে তথ্যপ্রযুক্তি এখন কেবল রাজধানী কিংবা বড় শহরে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির সুফল ভোগ করছে। বিশেষত মোবাইল ফোনের গণবিস্তৃৃতি এ কাজকে সহজ করে দিয়েছে। বেসরকারি নানা গবেষণা-সমীক্ষাতেই দেখা যাচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে, সরকারি সেবা পাওয়া সহজ হয়েছে। সফটওয়্যার পার্ক ও হাই-টেক পার্ক স্থাপন এরই ধারাবাহিকতায় চৌকষতম উদ্যোগ। চাকরির জন্য অন্যের দরজায় না ঘুরে তরুণদের নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তা হিসেবে অন্যের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে দিয়েছেন, এসব পার্কের মাধ্যমে তার বহু ও বহুমাত্রিক দুয়ার খুলে যাবে। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার পার্ক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এ পরামর্শ প্রণিধানযোগ্য যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প এড়াতে হবে। বাংলাদেশের সীমিত সম্পদে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে হলে এর বিকল্প নেই। তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যাপারে নীতিগত পর্যায়ের সদিচ্ছা যাতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমেও যথাযথ প্রতিফলিত হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

https://www.chicagokebabrestaurant.com/

sicbo

roulette

spaceman slot