Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সর্বশেষ সংযোজন চ্যাটজিপিটি


হীরেন পণ্ডিত
শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক জার্নালগুলির জন্য লেখকদের একটি ফর্মে স্বাক্ষর করতে হবে যাতে ঘোষণা করা হয় যে তারা কাজটিতে তাদের অবদানের জন্য দায়বদ্ধ। যেহেতু চ্যাটজিপিটি এটি করতে পারে না, এটি একজন লেখক হতে পারে না, থর্প বলেছেন। কিন্তু এমনকি একটি পেপার তৈরিতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা সমস্যাযুক্ত, তিনি বিশ্বাস করেন। চ্যাটজিপিটি প্রচুর ভুল করে, যা সাহিত্যে তাদের পথ খুঁজে পেতে পারে, তিনি বলেন, এবং যদি বিজ্ঞানীরা সাহিত্য পর্যালোচনা তৈরি করতে বা তাদের অনুসন্ধানের সংক্ষিপ্তসারের জন্য এআই প্রোগ্রামটির উপর নির্ভর করতে আসেন, তবে কাজের সঠিক প্রেক্ষাপট এবং গভীর পর্যালোচনা যা ফলাফলের যোগ্য হতে পারে। ঘুচা”এটি আমাদের যেখানে যেতে হবে তার বিপরীত দিক,” তিনি বলেছিলেন।
অন্যান্য প্রকাশকরা অনুরূপ পরিবর্তন করেছেন। মঙ্গলবার, স্প্রিংগার নেচার, যা প্রায় ৩,০০০ জার্নাল প্রকাশ করে, তার নির্দেশিকা আপডেট করেছে যে চ্যাটজিপিটি একজন লেখক হিসাবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না। কিন্তু প্রকাশক সরাসরি চ্যাটজিপিটি নিষিদ্ধ করেনি। হাতিয়ার এবং এর মতো অন্যান্য, এখনও কাগজপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি পান্ডুলিপিতে সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়।
নেচার-এর প্রধান সম্পাদক ম্যাগডালেনা স্কিপার বলেন, “নির্দিষ্ট বিকাশ যেটি আমরা খুব দৃঢ়ভাবে অনুভব করেছি যেটির প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন ছিল তা হল যে হঠাৎ করেই টুলটি একজন সহ-লেখক হিসাবে উপস্থিত হয়েছিল।” সঠিক গার্ডেলের জায়গায়, স্কিপার বিশ্বাস করেন, চ্যাটজিপিটি এবং অনুরূপ এআই সরঞ্জামগুলি বিজ্ঞানের জন্য উপকারী হতে পারে, অন্তত ইংরেজি মাতৃভাষা নয় এমন ভাষাভাষীদের জন্য খেলার ক্ষেত্র সমতল করার ক্ষেত্রে যারা তাদের কাগজপত্রে ভাষাকে আরও সাবলীল করতে এআই প্রোগ্রামগুলি ব্যবহার করতে পারে।
এলসেভিয়ার, যা সেল এবং ল্যানসেট সহ প্রায় ২,৮০০ জার্নাল প্রকাশ করে, স্পিংগার-নেচারের অনুরূপ অবস্থান নিয়েছে। এলসেভিয়ের অ্যান্ডরু ডেভিস বলেছেন, এর নির্দেশিকাগুলি “গবেষণা নিবন্ধের পাঠযোগ্যতা এবং ভাষা উন্নত করতে, কিন্তু লেখকদের দ্বারা করা উচিত এমন মূল কাজগুলিকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, যেমন ডেটা ব্যাখ্যা করা বা বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তগুলি আঁকার জন্য” এআই সরঞ্জামগুলির ব্যবহারের অনুমতি দেয়। যে লেখকদের অবশ্যই ঘোষণা করতে হবে যে তারা এআই ব্যবহার করেছে কিনা।
ইলাইফের প্রধান সম্পাদক মাইকেল আইজেন বলেছেন, চ্যাটজিপিটি একজন লেখক হতে পারে না, তবে তিনি এটিকে গ্রহণ করা অনিবার্য বলে দেখেছেন। “আমি মনে করি এটিকে অনুমতি দেওয়া হবে কিনা তা নয় বরং এটি ব্যবহার করা হচ্ছে তা কীভাবে পরিচালনা করা যায় তা হল ভাল প্রশ্ন,” তিনি বলেছিলেন। “সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এখনকার জন্য, অন্ততপক্ষে, লেখকদের জন্য এটির ব্যবহার সম্পর্কে খুব অগ্রগামী হওয়া এবং এটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তা বর্ণনা করা এবং আমাদের জন্য পরিষ্কার হওয়া যে টুলটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তারা এর আউটপুটের দায়িত্ব নিচ্ছে।”
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি এবং রেগুলেশনের অধ্যাপক স্যান্ড্রা ওয়াচটার বলেছেন: “প্রকাশকরা পদক্ষেপ নিচ্ছে দেখে খুবই ভালো লাগছে। চ্যাটজিপিটি কোণগুলি কাটার অনুমতি দেয় এবং এটি বিশেষত সমস্যাজনক যদি প্রস্তবিত বিষয়বস্তু কঠোরভাবে দুবার চেক না করা হয় তবে কেবল সঠিক বলে ধওে নেওয়া হয়। এটি ভুল তথ্য এবং জাঙ্ক বিজ্ঞানের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি শিক্ষা, শিল্প এবং সাংবাদিকতার মতো আরও অনেক সেক্টরকে একই ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবতে হবে, কারণ তারা একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।”
এ বিষয়ে আমাদের একটি ছোট অনুরোধ আছে। অত্যাবশ্যক, স্বাধীন, মানসম্পন্ন সাংবাদিকতার জন্য প্রতিদিন লাখ লাখ অভিভাবকের কাছে যান। বিশ্বের ১৮০টি দেশের পাঠকরা এখন আমাদের আর্থিকভাবে সমর্থন করে। এখনই সময় একটি মুক্ত গণমাধ্যম এবং সত্য-সন্ধানী সাংবাদিকতাকে সমর্থন করার। কোনো শেয়ারহোল্ডার বা বিলিয়নিয়ার মালিক না থাকায় আমরা রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক প্রভাব থেকে মুক্ত। আমরা তদন্ত করতে পারি, চ্যালেঞ্জ করতে পারি এবং ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের উন্মোচন করতে পারি এবং ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই রিপোর্ট করতে পারি।

এবং যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি যে প্রত্যেকে বিশ্বাসযোগ্য, সত্য-নেতৃত্বপূর্ণ সংবাদ এবং বিশ্লেষণে অ্যাক্সেসের যোগ্য, তাই আমরা গার্ডিয়ান রিপোর্টিং সব পাঠকের জন্য উন্মুক্ত রাখি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন বা তারা কী অর্থ প্রদান করতে পারে তা নির্বিশেষে।
আমরা আমাদের কাজকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পাঠকদের উদারতার উপর নির্ভর করি। প্রতিটি অবদান, যাই হোক না কেন বড় বা ছোট, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি পার্থক্য করে।
চ্যাটজিপিটি : যা জানা দরকার
অ্যাপ্লিকেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রæতগতিতে ব্যবহারকারী বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে ‘চ্যাটজিপিটি’। উন্মোচনের দুই মাসের মধ্যেই গ্রাহকসংখ্যার এ রেকর্ড করে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি বিষয়টি উঠে এসেছে বিশ্লেষক সংস্থা ‘ইউবিএস’-এর গবেষণাপত্রে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারিতে আনুমানিক ১০ কোটি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে ওপেনএআই’র তৈরি জনপ্রিয় এ চ্যাটবট। ওই প্রতিবেদনে আরেক বিশ্লেষক সংস্থা ‘সিমিলারওয়েব’ জানাচ্ছে, জানুয়ারিতে দৈনিক প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ স্বতন্ত্র ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন, যা ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ইউবিএস বিশ্লেষকরা বলেন, “ইন্টারনেট অনুসরণের ২০ বছরে আমরা কোনো গ্রাহক ইন্টারনেট অ্যাপকে এত দ্রæত বৃদ্ধি পেতে দেখিনি।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, উন্মোচনের পর থেকে ১০ কোটি গ্রাহকের মাইলফলকে পৌঁছাতে টিকটকের সময় লেগেছে নয় মাস। আর ইনস্টাগ্রামের বেলায় সেটি আড়াই বছর। নিবন্ধ, প্রবন্ধ, কৌতুক এবং এমনকি কবিতাও রচনা করতে পারে চ্যাটজিপিটি। নভেম্বর থেকেই সর্বজনীনভাবে অ্যাপটি বিনামূল্যে উন্মুক্ত করেছে মাইক্রোসফট সমর্থিত সফটওয়্যার কোম্পানি ওপেনএআই।
এরই মধ্যে ওপেনএআই তার চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি প্লাসের জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি চালু করেছে। চ্যাটজিপিটি প্লাসে রয়েছে বিশেষ কিছু ফিচার ও সুবিধা। কোম্পানিটি নিশ্চিত করেছে চ্যাটজিটিপি সবাই এখনো বিনামূল্যেই ব্যবহার করতে পারছে। এর পাশাপাশি থাকছে চ্যাটজিটিপি প্লাস। যারা বিশেষ ফিচার সুবিধাযুক্ত এই ভার্সনটি ব্যবহার করতে চান, তাদের প্রতি মাসে ২০ ডলার গুনতে হবে। আপাতত এ সুবিধা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সীমিত রয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। সংস্থাটির মতে, এ নতুন সাবস্ক্রিপশন পরিকল্পনাটি তাদের চ্যাটজিটিপিতে বেশি সংখ্যক মানুষকে অ্যাক্সেস দিতে সহায়তা করবে। চ্যাটজিপিটি প্লাস ব্যবহারকারীরা পিক টাইমেও চ্যাটজিপিটিতে সাধারণ অ্যাক্সেস পাবেন। একই সঙ্গে, চ্যাটজিপিটি প্লাস ব্যবহারকারীরা নতুন আরও সুবিধা পাবেন। বিজ্ঞান সাময়িকী কাগজপত্রে সহ-লেখক হিসাবে চ্যাটজিপিটিতে এর তালিকা নিষিদ্ধ করে কিছু প্রকাশক জমা দেওয়ার প্রস্তুতিতে বট ব্যবহার নিষিদ্ধ করে কিন্তু অন্যরা এটিকে গ্রহণ করা অনিবার্য হিসাবে দেখে হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক জার্নালের প্রকাশকরা অবদানকারীদের একটি উন্নত এআই-চালিত চ্যাটবট ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ করেছে এই উদ্বেগের মধ্যে যে এটি একাডেমিক সাহিত্যকে ত্রæটিপূর্ণ এবং এমনকি বানোয়াট গবেষণায় সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে।
চ্যাটজিপিটি দ্বারা তৈরি একটি সাবলীল কিন্তু ফ্ল্যাকি চ্যাটবট, নভেম্বরে চালু হওয়ার পর থেকে কবিতা, ছোট গল্প, প্রবন্ধ এবং এমনকি ব্যক্তিগত পরামর্শের মাধ্যমে এক মিলিয়নেরও বেশি মানব ব্যবহারকারীকে মুগ্ধ বা বিরক্ত করেছে। কিন্তু যখন চ্যাটবট মজার একটি বিশাল উৎস প্রমাণ করেছে কিং জেমস বাইবেলের স্টাইলে কীভাবে একটি ভিসিআর থেকে একটি পিনাট বাটার স্যান্ডউইচ মুক্ত করা যায়, সেটি একটি উল্লেখযোগ্য হিট প্রোগ্রামটি জাল বৈজ্ঞানিক বিমূর্তও তৈরি করতে পারে যা মানব পর্যালোচকদের বোকা বানানোর জন্য যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য।
নিবন্ধ তৈরিতে চ্যাটজিপিটি-এর আরও বৈধ ব্যবহার ইতিমধ্যেই এটিকে কয়েকটি কাগজে সহ-লেখক হিসাবে কৃতিত্বের দিকে পরিচালিত করেছে। চ্যাটজিপিটি-এর আকস্মিক আগমন প্রকাশকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্ররোচিত করেছে। বৃহস্পতিবার, নেতৃস্থানীয় ইউএস জার্নাল সায়েন্সের প্রধান সম্পাদক হোল্ডেন থর্প একটি আপডেট সম্পাদকীয় নীতি ঘোষণা করেছেন, চ্যাটজিপিটি থেকে পাঠ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এবং প্রোগ্রামটিকে লেখক হিসাবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না তা স্পষ্ট করে। চ্যাটজিপিটি কিভাবে সৃজনশীল কাজকে রূপান্তরিত করবে? – পডকাস্ট এর চারপাশে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে, এটি একেবারে স্পষ্ট করে দেওয়া একটি ভাল ধারণা যে আমরা চ্যাটজিপিটি-কে লেখক হতে বা কাগজপত্রে এর পাঠ্য ব্যবহার করার অনুমতি দেব না,” থর্প বলেন।
চ্যাটজিপিটির জন্ম
বিশ্বখ্যাত ফরচুন ম্যাগাজিনের ফেব্রæয়ারি-মার্চ সংখ্যার প্রচ্ছদ গল্প হতে যাচ্ছেন ওপেনএআই-এর সিইও এবং সম্প্রতি টেক জগতে আলোড়ন জাগানো ব্যক্তি স্যাম অল্টম্যান। ওপেনএআই একটি আমেরিকান সংস্থা যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবতার কল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা ও বিকাশ।
সান ফ্রান্সিস্কোতে ২০১৫ সালে এলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং পিটার থেইল-এর মতো আরও অনেক এক্সপার্ট টেক উদ্যোক্তাদের মালিকানায় অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম।
২০২২ সালের ৩০ নভেম্বও কোম্পানি চ্যাটজিপিটি নামক একটি নেচারাল লেঙ্গুয়েজ প্রসেসিং সফটওয়্যার চালু করে। যটি মূলত একটি কৃত্রিম আলাপচারিতা, যা চালু হওয়ার পর থেকেই ঝড় তৈরি হয়েছে টেক দুনিয়ায়। চ্যাটবট সফটওয়্যারগুলোর ধারণা খুব নতুন নয়। এই ধরনের সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকে। যেখানে আগে থেকেই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ডাটাবেজে জমা থাকে এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন মতো উত্তর বাছাই করে প্রতিক্রিয়া প্রদান করা হয়।
চ্যাটবট আর চ্যাটজিপিটির পার্থক্য
অহরহ আমরা বিভিন্ন ফেসবুকঅ্যাপসগুলোয় এই ধরনের চ্যাটবট দেখতে পাই। প্রশ্ন জাগতে পারে, একটি সাধারণ চ্যাটবটের সাথে এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী চ্যাটজিপিটির পার্থক্য কোথায়? চ্যাটজিপিটি হলো সুপারভাইজড মেশিন লার্নিং এবং রিইনফোর্সমেন্ট মেশিন লার্নিং-এর এক চমৎকার বাস্তবায়ন। এর ডাটাবেজে প্রথমে অনেক বিষয়ের তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।
সংক্ষেপে এর উত্তর দেওয়া যায় এভাবে শক্তিশালী মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম এবং বিশাল ডাটাবেজ। সহজভাবে মেশিন লার্নিং বলতে কম্পিউটারকে কোনো কিছু শেখানো বোঝায়। এই শেখানো পদ্ধতি যত ভালোভাবে হবে, মেশিনও তত চমৎকার উত্তর দেবে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশুকে যদি একটি কালো রঙের কলম কিংবা একটি পাকা আম প্রথমবার এবং একবারই দেখানো হয়, সে হয়তো পরে সেই কালো কলম কিংবা পাকা আমটি ভুলে যেতে পারে। কিন্তু, যদি অনেক রকমের কালো কলম এবং অনেক রকমের পাকা আম বারবার শিশুকে দেখানো হয় এবং সেগুলোর নাম শেখানো হয়, তাহলে খুব সহজেই কয়েকদিন পওে সে কলম এবং আম চিনতে পারবে। মেশিন লার্নিং-এর ক্ষেত্রে এই ধরনের শেখানোর ব্যবস্থাকে আমরা বলি সুপারভাইজড মেশিন লার্নিং।
ডিজিটাল ডিভাইস ও আগামীর শিশু
এক পর্যায়ে শিশুর মস্তিষ্কের নিউরনে জিনিসগুলোর স্মৃতি খুব পাকাপোক্তভাবে স্থান নেওয়ার পরে তাকে যদি কালো কলমের পরিবর্তে লাল কলম কিংবা পাকা আমের পরিবর্তে কাঁচা আম দেখানো হয়, তাহলেও হয়তো সে সঠিকভাবেই বলে দিতে পারবে সেটি আম না কি কলম। এই লাল কলম কিংবা কাঁচা আম শিশুটি কিন্তু নিজে নিজেই শিখলো, তাকে আলাদাভাবে শেখানোর দরকার হয়নি। এই বিষয়কে যে অ্যালগরিদম দিয়ে মেশিনকে শেখানো হয় আমরা তাকে বলি সেলফ লার্নিং অ্যালগরিদম।
এবার ধরে নেই, শিশুটি কোনো কারণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে একটি লাল কলমকে লাল পেন্সিল বলে ফেললো। এক্ষেত্রে তাকে যদি আমরা সংশোধন করে আবার শেখাই এবং পেন্সিল ও কলমের পার্থক্যটা ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা যায়, তাহলে পরবর্তীতে শিশুটি হয়তো আর ভুল করবে না। মেশিন লার্নিং-এর ক্ষেত্রে এই ধরনের শেখানোর ব্যবস্থার অ্যালগরিদমকে আমরা বলি রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং অ্যালগরিদম। শক্তিশালী মেশিন লার্নিং-এর ক্ষেত্রে এমনই কিছু অ্যালগরিদম সমূহের বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে করে কম্পিউটার নিজে নিজেই শিখতে পারে, ভুলগুলো থেকে নিজেকে সংশোধন করতে পারে এবং প্রয়োজনমতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। শিশু আরেকটু বড় এবং সবকিছুতে অভ্যস্ত হওয়ার পরে আমরা যদি তাকে একটি আম কিংবা কলমের বর্ণনা করতে বলি, সে খুব সাবলীলভাবেই আম অথবা কলম সম্পর্কে বেশকিছু লাইন বলতে পারবে। এটা সম্ভব, কেননা মানুষের মস্তিষ্কের লক্ষ লক্ষ নিউরন সেলফ লার্নিং এবং রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং-এর মতো এক ব্যবস্থার মাধ্যমে শিখতে পারে অনবরত। মেশিন লার্নিং-এর অ্যালগরিদমগুলো মূলত মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যপদ্ধতিরই অনুকরণ।
চ্যাটজিপিটি কী?
চ্যাটজিপিটি হলো সুপারভাইজড মেশিন লার্নিং এবং রিইনফোর্সমেন্ট মেশিন লার্নিং-এর এক চমৎকার বাস্তবায়ন। এর ডাটাবেজে প্রথমে অনেক বিষয়ের তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। তারপর অনবরত সেলফ লার্নিং এবং রিইনফোর্সমেন্ট মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের সাহায্যে শেখানো হয়েছে এবং হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে তার ডাটাবেজের আয়তন এবং ব্যবহৃত অ্যালগরিদমগুলো এতই শক্তিশালী যে এখন তাকে একটি বিষয় সম্পর্কে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে সে প্রায় শতভাগই মানুষের মতো করে উত্তর কিংবা তথ্য প্রদান করতে সক্ষম।
অনলাইন গেইমের রীতিনীতি ও অর্থনীতি
শুধু তাই নয়, তার ডাটাবেজে রয়েছে লক্ষ লক্ষ সংগীতের নোটেশন, কবিতা, রূপকথা, গল্প এবং নানাবিধ রচনা। যার কারণে সে এখন নিজে থেকেই যেকোনো কনন্টেন্ট তৈরি করতে পারে সেই সব বিষয়ের। আপনি কোনো বিষয় সম্পর্কে একটি রিপোর্ট লিখতে চান, চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করুন। টেক বিশেষজ্ঞরা তাই আশঙ্কা করছেন আগামী দুই বছরের মধ্যেই হয়তো সার্চ ইঞ্জিনগুলো মানুষ আর ব্যবহার করবে না। প্রশ্ন আসতে পারে যে,চ্যাটজিপিটি যা তৈরি করে তা শতভাগ ঠিক কিংবা বিশ্বাস করা যায় কি না? চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট এবং তার নিজস্ব ডাটা সেটের লক্ষ লক্ষ রিপোর্ট অ্যানালাইসিস করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিজেই তৈরি করে হাজির করবে কাক্সিক্ষত রিপোর্ট। আপনি কোনো বিষয়ে একটি কবিতা চান, চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করুন। কবিতা রচনার প্রায় সব কাঠামো মেনে চলেই সে আপনার সামনে হাজির করবে তার রচিত কবিতা।
এমনকি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে যেকোনো ছোটোখাটো প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারের কোডও লিখে দিতে পারে এটি। এ যেন সত্যিকারের এক বিস্ময়!
গুগল বনাম চ্যাটজিপিটি
আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে মানুষের আর খেটেখুটে কোনো আর্টিকেল তৈরি করার দিন শেষ। গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলো যেখানে কেবলমাত্র ইন্টারনেটের বিভিন্ন স্থানের তথ্যগুলো খুঁজে আমাদের সামনে এনে দেয়, চ্যাটজিপিটি সেখানে আমাদের সামনে পুরোদমে কাক্সিক্ষত একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাজির করে। টেক বিশেষজ্ঞরা তাই আশঙ্কা করছেন আগামী দুই বছরের মধ্যেই হয়তো সার্চ ইঞ্জিনগুলো মানুষ আর ব্যবহার করবে না। প্রশ্ন আসতে পারে যে, চ্যাটজিপিটি যা তৈরি করে তা শতভাগ ঠিক কিংবা বিশ্বাস করা যায় কি না? উত্তরে বলা যায়, যেহেতু সফটওয়্যারটি ডাটাবেজ এবং তাকে কীভাবে শেখানো হচ্ছে সে সব অ্যালগরিদমের উপর নির্ভরশীল, সেহেতু সবসময় সঠিক তথ্য আশা করাটা ঠিক নয়।
চ্যাটজিপিটির ভবিষ্যৎ
ওপেনএআই নিজেরাই স্বীকার করেছে যে চ্যাটজিপিটি অনেকসময় অসত্য ও অসংবেদনশীল তথ্য দেয়। পৃথিবীর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং গবেষক ইতিমধ্যেই এর ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে হয়তো খুব সহজে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে অসদুপায় অবলম্বন করা যাবে। এর সমাধান হিসেবে, আমাদের একটু ভিন্ন পদ্ধতি চিন্তা করতে হবে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে।
পানি যমন আমাদের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয়, আবার সেই পানিই হতে পারে ক্ষতির কারণ; নির্ভর করছে আমি কীভাবে পানি ব্যবহার করছি। সব মিলিয়ে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পূর্ণ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে পৃথিবী। এটি মানব সভ্যতার জন্য কতটুকু সুফল বয়ে আনবে সেটি সময়ই বলে দিবে।
চ্যাটজিপিটি ও সাংবাদিকতা
২০২০ সালে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় ছাপা ‘একজন রোবট এই রিপোর্ট লিখেছে, তুমি কি ভয় পাচ্ছ মানব?’ শিরোনামের সংবাদ দিয়ে জিপিটি-থ্রি চ্যাটবট তার অসম্ভব ক্ষমতার কথা জানান দেয়। সেই সংবাদের বাইলাইনে কোনো সাংবাদিকের নাম ছিল না। ছিল শুধু জিপিটি-থ্রির নাম। আপনি যদি সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ দেখতে চান, তাহলে এখনই আপনার ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সেই নিউজ দেখে নিতে পারেন। হ্যাঁ, এটাই সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ। ব্যক্তি সাংবাদিকের বদলে বাইলাইনে থাকবে রোবট সাংবাদিক। আর এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মেশিন আপনার সব তথ্য সংগ্রহ করে পছন্দমতো সংবাদ আপনাকে সব সময় সরবরাহ করবে।
আপনি বাংলাদেশের নাম করা দৈনিকের সাংবাদিক। ভাবছেন, আপনার চাকরি চ্যাটজিপিটি নিয়ে নেবে না। এর মূল কারণ, বাংলায় এর দক্ষতা অনেক কম। বিশ্বাস না হলে বাংলায় কিছু লেখার জন্য দিয়ে দেখুন। এই বটগুলো অনেকটা মানুষের মতো। এগুলোকে যেভাবে শেখানো হবে, তারা সেভাবেই শিখবে। তাদের ডাটা বেজে বাংলা ভাষার ভান্ডার কম। তাই তারা বাংলায় দুর্বল। কিন্তু বাংলা ভাষা শিখতে তার বেশি সময় লাগবে না। কারণ তার শেখার ক্ষমতা অনেক বেশি এবং দ্রæত। ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের এলগরিদম একটু ভালো হলেই তার মগজে সব ঢুকে যাবে। হয়তো দেখা যাবে, আমার এই লেখা প্রকাশ হওয়ার আগেই চ্যাটজিপিটি ভালো বাংলা বলছে।
এই চ্যাটজিপিটি এবং অন্য বটরা সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ বদলে দেবে। এটা আমার কথা না; সাংবাদিকতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বের যেসব পÐিত কাজ করেন, তাঁদের কথা। বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমও পিছিয়ে নেই। ‘রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর স্টাডি জার্নালিজম’-এর গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থাকে পরিবর্তন করবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে বড় বড় নিউজরুমের এক-তৃতীয়াংশ তাদের নিউজরুমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। নিউজরুমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে কীভাবে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা যায়, এ নিয়ে চলছে গবেষণা। সংবাদ সংস্থাগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ইতোমধ্যে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য ব্যবহূত হয়। ডিজিটাল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার আবির্ভাবের সঙ্গে এখন পুরো সংবাদপ্রবাহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এলগরিদমের ওপর নির্ভরশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কোনো সংবাদ সংস্থার জন্য বিলাসিতা নয়। এটি বিশ্বব্যাপী অনলাইনভিত্তিক নিউজ পোর্টালগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
চ্যাটজিপিটি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শেখা। সঠিক গবেষণা আর দিকনির্দেশনা পেলে এ প্রযুক্তি সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ বদলে দেবে এবং সবার সামনে অবারিত সুযোগ সেই বদলের অংশিদার হওয়ার।
চ্যাটজিপিটি একটি শক্তিশালী মেশিন লার্নিং মডেল ওপেন এআই নামের একটি প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করেছে। সহজাত ভাষা দিলে (ইনপুট) সেটি বুঝতে পারে চ্যাটজিপিটি এবং সেই কথার প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারে। কী চ্যাটজিপিটির বৈশিষ্ট্যগুলো?
চ্যাটজিপিটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের মতো লেখা বা টেক্সট তৈরি করার ক্ষমতা। এর মানে হলো, কোনে একটি বিষয়ে একজন মানুষ যেমন প্রত্যুত্তর দিতে পারে, চ্যাটজিপিটি সে রকমই জবাব লিখে জানাতে পারে। এটি চ্যাটবটের মতো অ্যাপগুলোর জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। চ্যাটজিপিটির লক্ষ্য হলো, এমন একটি কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া, যা প্রায় সহজাত মনে করা।
চ্যাটজিপিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, স্বাভাবিক ভাষাকে যন্ত্র যাতে আরও বেশি করে বুঝতে পারে এবং বিস্তৃৃত পরিসরে এর প্রয়োগ করতে পারে, সেই ক্ষমতা চ্যাটজিপিটির রয়েছে। বর্তমানে ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং বা এনএলপি নিয়ে যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তারই প্রায়োগিক রূপ এই চ্যাটজিপিটি। ইন্টারনেট থেকে লিখিত কথোপকথনের একটি বড় তথ্যভান্ডার দিয়ে চ্যাটজিপিটিকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের অর্থ হলো, এটি মানুষের বিভিন্ন রকম ভাষাশৈলী, বিন্যাস এবং বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। যত বেশি ধরনের কথোপকথন পাওয়া যাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রোগ্রামটি তত সঠিকভাবে কথার প্রত্যুত্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিতে পারবে।
কেন এটি সম্ভাবনাময়?
এনএলপির আকর্ষণীয় অ্যাপগুলোর একটি হলো এই চ্যাটজিপিটি। এনএলপির গবেষণা ও কাজ হচ্ছে কম্পিউটার ও মানুষের মধ্যকার কথোপকথনকে কেন্দ্র করে। সহজাত বা প্রাকৃতিক ভাষা বোঝা এবং সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাসহ, চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে মানুষ ও যন্ত্রের যোগাযোগে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে এখন মনে করা হচ্ছে।
যেমন চ্যাটজিপিটি প্রোগ্রামিং ভাষা দিয়ে এমন চ্যাটবট তৈরি করা যেতে পারে, যা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা চালিয়ে যাবে। অনেক সময় এ প্রান্তের ব্যবহারকারী হয়তো বুঝতেও পারবেন না, যে অপর প্রান্তে আদতে কোনো মানুষ নেই। এই চ্যাটবটগুলো গ্রাহক পরিষেবা, ই-কমার্স এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো জনপ্রিয় ও বিস্তৃত অ্যাপগুলোতে ব্যবহার করা যাবে। অনলাইনভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো আরও বিশেষায়িত অ্যাপ্লিকেশনেও ব্যবহার করা যেতে পারে চ্যাটজিপিটি।
চ্যাটজিপিটির আরেকটি সম্ভাব্য প্রয়োগ হতে পারে অনুবাদের ক্ষেত্রে। একে এক ভাষার লেখা অন্য ভাষায় অনুবাদ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী কাজ করে, এমন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কার্যকর প্রযুক্তি হতে পারে এটি। ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট লেখা, এমনকি নিবন্ধ রচনাতেও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রসঙ্গ বা বিষয় মানুষের মতো পাঠ করার ও বোঝার ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে চ্যাটজিপিটির, ফলে এটি মানুষের মতো করেই তথ্য জানাতে ও কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারবে। ফলে নানা কাজে মানুষের সময় ও শ্রম বাঁচানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
‘চ্যাটজিপিটি’ শব্দটা ভাইরাল হয়ে উঠে ২০২৩ সালের শুরু থেকে প্রযুক্তি বিশ্বের মানুষের কাছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে আমেরিকার সানফ্রান্সসিসকো ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’ চ্যাটজিপিটি উন্মোচন করার ৫ দিনের মধ্যে ১ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার হয় চ্যাটবটটির। চ্যাটজিপিটি মানুষের ডায়ালগ যেমন প্রশ্ন-উত্তরের ধরণের ওপর ভিত্তি করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স নির্ভর প্রতিক্রিয়া জানানো একটি চ্যাটবট, যা আপনার এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করে আপনার লেখার প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে।

চ্যাটজিপিটি বা চ্যাটবট জেনারেটিভ প্রি-ট্রেনিং ট্রান্সফরমার হচ্ছে, একটি চ্যাটবট যা ওপেনএআই কর্তৃক জিপিটি (জেনারেটেভ প্রি-ট্রেনিং ট্রান্সফর্মার) ল্যাংগুয়েজ জেনারেশন মডেল’র ওপর ভিত্তি করে ডেভেলপ করা। জেনারেটেভ প্রি-ট্রেনিং ট্রান্সফর্মার (জিপিটি) এক ধরণের আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স মডেল, যা ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রোসেসিং বা এনএলপি টাস্ক’র জন্যে ব্যবহার হয় এবং ভাষা রূপান্তর, টেক্সট তৈরি, ও ভাষা মডেল করে। মূলত ট্রান্সফর্মার কাঠামো’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলটি ২০১৭ সালে গুগল গবেষকরা ‘অ্যাটেনশন ইজ অল ইউ নিড’ গবেষণাপত্রে আলোচনা করে। চ্যাট জিপিটি মানুষের কথোপকথনের একটি বৃহত্তম ডেটাসেটে প্রশিক্ষিত, প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের দ্বারা দ্রæত সাড়া প্রদান তৈরি করতে সক্ষম। কাস্টমার সার্ভিস, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট, এবং বিনোদনের মতন বিভিন্ন ধরণের অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহার হয়।
চ্যাটজিপিটি প্রো ফিচার
চ্যাটজিপিটি’র অন্যতম ফিচার হচ্ছে, এটি ব্যবহারকারীদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স(এআই) সুবিধা প্রদান করে উচ্চ ট্র্যাফিক অথবা প্রযুক্তিগত সমস্যার সময়েও। প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হয়না, একারণে তারা দ্রæত সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং প্রতিযোগিতা কাজে ভালো সহায়তা পায়। অপরদিকে, দ্রæত রেসপন্স সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। এটি এপিআই রিকুয়েস্ট সীমিত আকারে বৃদ্ধি করে অর্জন করতে হয়।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা
চ্যাটজিপিটি শক্তিশালী টুল চ্যাটবটের এবং অন্য কনভার্সনাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স অ্যাপ্লিকেশনের জন্যে। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা হলো জিপিটি মডেল পূর্বানুমান করে আর্টিকেলের মধ্যে পরবর্তী শব্দটি কি হবে, আগের শব্দটির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী সম্ভাব্য শব্দ খুঁজে নেয়। বহুমুখী ম্যাকানিজম এবং ব্যক্তিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করায় ইনপুট টেক্সট প্রদান করলে আউটপুট তৈরি হয়। চ্যাট জিপিটি প্রযুক্তি দ্রæত এবং দক্ষতার সাথে কনটেন্ট তৈরি করতে ব্যবহার হয়, লেখকরা বøগপোস্ট অথবা আর্টিকেল লেখার জন্যে ব্যবহার করে, পরবর্তীতে নিজের স্টাইল বা ধরণে লেখাটিকে আরও পরিবর্ধন বা পরমার্জিত অবস্থায় রূপ দেয়া যায়।
বৃহৎ পরিসরে ডেটা থেকে শিখার সুবিধা চ্যাটজিপিটি’তে রয়েছে। এটি পূর্বনির্ধারিত অবস্থায় বৃহৎ পরিসরে টেক্সট ডেটাসেট, যা প্যাটার্ন বা ধরণ এবং ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রি-ট্রেনিং চ্যাটজিপিটি’কে রেসপন্স তৈরি করতে সুযোগ দেয় অনেকটা মানুষের মত, এতে ওয়ার্ড বা শব্দের ধারাবাহিকতা বিদ্যমান থাকে। ভিন্ন ভিন্ন পারিপার্শ্বিকতা এবং অবস্থায় খাপখাওয়ানোর সক্ষমতা চ্যাটজিপিটি’র রয়েছে, এটি কথোপকথনের প্রাসঙ্গিকতা বুঝে এবং সঠিক রেসপন্স তৈরি করতে পারে প্রাসঙ্গিকতার ওপর নির্ভর করে।
জিপিটি চ্যাটবট তৈরি করে যা ব্যবহারকারীদের সাথে ন্যাচারাল এবং এনগেজিং উপায়ে কথোপকথন করতে পারে। এক ভাষা থেকে আরেক ভাষাতে অনুবাদ করতে ব্যবহার হয়, এবং ভিন্ন ভাষাতে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। বাক্য বা প্যারাগ্রাফ সম্পন্ন করতে, দক্ষতার সাথে লিখতে এবং বৃহৎ কনটেন্টের সামারি, গল্প, আর্টিকেল সম্পন্ন করে সময় সাশ্রয় করে।
ডেটাসেট চ্যাটজিপিটি গ্রহণ করে ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ’র ধরণ এবং কাঠামো বুঝতে সহায়তা করে, কিন্তু সর্বদা চ্যাটজিপিটি নিখুঁত তথ্য দিতে পারেনা। যার ফলে চ্যাটজিপিটি বুঝতে, সাড়া প্রদান, এবং ইনপুট গ্রহণে সমস্যা হয়। এতে মডেল পারফর্মেন্স নিয়মিত হয়না।
চ্যাটজিপিটি’র আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এটি মেশিন লার্নিং অ্যালগোরিদম’র সাথে সম্পর্কিত যেরকম ডেটা ট্রেইন করা। যদি ট্রেনিং ডেটা বায়াসড অথবা ভুল ধারণ করে, তাহলে চ্যাটজিপিটি পুনরায় রেসপন্সের সময় ভুল করতে পারে। রিসোর্স কন্সট্রেইন্ড পরিবেশ এতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে থাকে।
চ্যাটজিপিটি প্রো সাবস্ক্রিপশন ব্যবসা এবং ব্যবহারকারীদের জন্যে সর্বোচ্চ টার্গেটেড, যেখানে নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার দরকার পরে। সাবস্ক্রাইবাররা ভবিষ্যতে অসংখ্য ফিচার ব্যবহারের সুবিধা পাবে, এবং বেশিরভাগ ব্যবহারকারীরা তাৎপর্যপূর্ণভাবে খুব বেশি পরিবর্তন পরিলক্ষিত করবেনা।
চ্যাটজিপিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন দরকারি
চ্যাটজিপিটি বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত একটি নাম। যুগ যুগ ধরে কৃত্রিমতা বর্জন করার আহ্বান শুনে এলেও প্রযুক্তি বিপ্লবের এই বিশেষ সময়ে চলছে বিশেষ এক কৃত্রিমতার জয়গান, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম হলেও ‘বুদ্ধিমত্তা’ বলে কথা।
বুদ্ধিমত্তা এমনই এক অমূল্য সম্পদ, যেটির কৃত্রিম রূপও হয়ে উঠেছে কার্যকর। ওপেনএআই কর্তৃক উদ্ভাবন করা চ্যাটজিপিটি একধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভাষা মডেল, যেটি মানুষের মতোই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর, ব্যাখ্যা কিংবা পরামর্শ দিতে চেষ্টা করে।
চ্যাটজিপিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ এক ধারা ‘মেশিন লার্নিং’ ব্যবহার করে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। একটি শিশু যেমন চারপাশের উদাহরণ থেকে দেখে শেখে, মেশিন লার্নিংও তেমন অতীত ডেটা বা উদাহরণ থেকে শেখে। যে ডেটা দিয়ে মেশিনকে শেখানোর কাজটা করানো হয়, সেটিকে বলা হয় ‘ট্রেনিং ডেটা’। এ রকম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভাষার মডেল কিন্তু এই প্রথম আমাদের সামনে আসেনি, বেশ কিছু মডেল অনেক দিন ধরে ভাষা প্রক্রিয়াকরণ (এনএলপি) কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জিপিটি-৩ ভিত্তিক চ্যাটজিপিটিকে পূর্ববর্তী ভাষা মডেল জিপিটি-২-এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ট্রেনিং ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। মেশিন বা সিস্টেম এই শিখে ফেলা অংশটুকু মনে রাখে বিভিন্ন গাণিতিক সম্পর্ক, সূত্র ও সমীকরণের মাধ্যমে। যেটি কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময় কেউ ইনপুট দিলে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমটি আউটপুট দিয়ে থাকে। চ্যাটজিপিটির ক্ষেত্রে ইনপুট হবে ‘প্রশ্ন’, ‘উত্তর’ হবে আউটপুট এবং সিস্টেম হবে চ্যাটজিপিটি নিজেই। জিপিটি-৩-এর গাণিতিক প্যারামিটারের সংখ্যা ১৭৫ বিলিয়ন, যেখানে জিপিটি-২-এর প্যারামিটারের সংখ্যা দেড় বিলিয়ন। একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে না হলেও এই প্যারামিটারের সংখ্যা পরোক্ষভাবে চ্যাটজিপিটির লার্ন করা বা শেখার সক্ষমতা আগের তুলনায় কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি নির্দেশ করে।
চ্যাটজিপিটির বিশেষত্ব হলো এর ব্যবহারবান্ধব উপস্থাপন এবং ব্যবহারকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মানের উত্তর। যেমন প্রোগ্রামিং কোডের ভুল ঠিক করে দেওয়া, বিশেষ কোনো রীতিতে পদ্য রচনা, একটি নির্দিষ্ট কাঠামো বজায় রেখে বিভিন্ন ফরম বা ডকুমেন্ট প্রস্তুত করে দেওয়া ইত্যাদি। কাছাকাছি ধরনের আরেক সিস্টেম ‘সার্চ ইঞ্জিন’-এর সঙ্গে এটির বিশেষ পার্থক্য আছে। চ্যাটজিপিটির মতো সিস্টেমগুলোয় যে সময় পর্যন্ত নেওয়া ডেটা দিয়ে ট্রেইন করা হয়েছে, তার পরের কোনো তথ্যই তার কাছে থাকবে না, উত্তরও দিতে পারবে না।
সার্চ ইঞ্জিন তাৎক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য দিতে পারলেও অনেকগুলো তথ্য বা উৎস এনে উপস্থাপন করে। ব্যবহারকারীদের নিজেদেরই সঠিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ উত্তর বের করে নিতে হয়। কিন্তু চ্যাটজিপিটি কথোপকথনের মতো ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বার্তার আদান-প্রদান করে। প্রশ্নের উত্তর চ্যাটজিপিটি নিজেই উপস্থাপন করে। এটি একই সঙ্গে সিস্টেমটির সবলতা ও দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এক বিশালসংখ্যক ব্যবহারকারীকে (বিশেষ করে নন-টেকনিক্যাল) এটি তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব থেকে যেমন মুক্তি দেয়, তেমনই আবার সংশয়হীনভাবে ভুল তথ্যকেও সঠিক বলে চালিয়ে দেয়।
আলোচনা হচ্ছে এই চ্যাটজিপিটি আমাদের চেনাজানা ইন্টারনেট জগৎকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করে ফলবে নাকি! লাখ লাখ ব্যবহারকারী প্রতিনিয়ত এটি ব্যবহার করে দেখছেন, অনেকেই অবাক হচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো চ্যাটজিপিটি আসার আগেই ভাষা প্রক্রিয়াকরণ অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিল। বহুদিন ধরে গুগল অনুবাদক যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে যেকোনো ডিজিটাল বই, ওয়েবসাইট কিংবা লেখাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করে ফেলছে, সেটি কি কম অবাক করার বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষের বিকল্প হয়ে দাঁড়াবে? মানুষ কি হেরে যাবে মেশিনের কাছে? এ রকম নানা ধরনের প্রশ্ন উঁকি দিয়ে বেড়াচ্ছে আমাদের মনে। বস্তুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের বিকল্প হিসেবে না ভেবে সহায়ক হিসেবে চিন্তা করাটাই বাস্তবসম্মত। রাত দুইটার সময় ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্য তাঁর সহকারীকে বা টিকিট বুকিংয়ের জন্য ট্র্যাভেল এজেন্টকে ফোনে যদি না পাওয়া যায়, সে সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি তার কৃত্রিম কণ্ঠ দিয়েও অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে দিতে পারে বা কম দামে টিকিট কেটে দিতে পারে, ক্ষতি কি? ১০ মিনিট গ্রাহক সেবার লাইনে অপেক্ষা করার চেয়ে, ১০ সেকেন্ডে মেশিন যদি তার যান্ত্রিক ভাষায় অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সেটি বলে দিতে পারে, ক্ষতি কি?
এত দিন গুগল থেকে খোঁজ করেও কি অ্যাসাইনমেন্ট করে ফেলা যেত না? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এসব আসবে যাবে, সময় বলে দেবে কোনটি সময়ের স্রোতে তলিয়ে যাবে আর কোনটি টিকে থাকবে।
স্বল্প ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এআই
গত বছরের নভেম্বরে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সফটওয়্যার চ্যাট জেনারেটিভ প্রি-ট্রেইনড ট্রান্সফরমার (চ্যাটজিপিটি)। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে নতুন এই চ্যাটবট। বলা হচ্ছে এআই প্রযুক্তিতে বিপ্লব এনে দেবে এটি। প্রধান সুবিধা হলো দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যেসব কাজ পুনরাবৃত্তিমূলক এবং সময়সাপেক্ষ, এআই সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারবে। ফলে মানুষ আরও জটিল এবং সৃষ্টিশীল কাজে মনোযোগ দিতে পারবে। এআই যথাযথভাবে নির্ভুল কাজ করতে পারে, অনেক তথ্য খুব কম সময়ে বিশ্লেষণ করতে পারে, তাতে মনুষ্যসৃষ্ট ভুলের মাত্রা কমে আসবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়বে। যেহেতু এটি বিশাল তথ্যভাÐার বিশ্লেষণ করে, তার একটা অন্তর্দৃষ্টিও রয়েছে, ফলে অনেক বিষয়েই সিদ্ধান্ত দেওয়া সহজ হয়ে যাবে। এআই বিরতিহীন কাজ করতে পারে, ফলে সব সময়েই এটি সেবা দিতে পারবে। অন্যদিকে এর অন্যতম অসুবিধা হলো, কর্মসংস্থান কমবে। আগে মানুষ করত এরকম অনেক কাজ এখন এআইয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যাবে। যার কারণে কর্মসংস্থান হারাবে, বেকারত্ব বাড়বে। বৈচিত্র্য এবং প্রতিনিধিত্বশীল তথ্য এবং প্রশিক্ষণ না দেওয়া হলে, এআই সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য এবং পক্ষপাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। হ্যাকিং এবং সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও বাড়বে। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এআইয়ের কাছে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, এআইয়ের কাজের ধরন এবং পদ্ধতি বেশ জটিল, এটি সব মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফলে এতে ভুল বা পক্ষপাত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
এআই হয়তো অনেক কাজই আরও বেশি দক্ষ ও নির্ভুলভাবে করতে পারবে, কিন্তু এরপরেও তাদের মানুষের মতো সৃজনশীলতা, সহানুভূতি এবং ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের ক্ষমতা নেই। বরং তারা মানুষের কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতা বাড়াতেই কাজে লাগবে। তবে এটা ঠিক এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানের নতুন ধরনের দক্ষতা তৈরি করতে হবে, নতুন কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।
ডবভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের অন্তর্ভুক্তি সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। যেমন চাকরির বাজারে বদল আসবে। এআই যেহেতু অনেক ধরনের কাজ করে দিতে পারবে, ফলে কিছু কিছু চাকরির বাজার বাড়বে, আবার কিছু কিছু কমে যাবে, এখন যেমন রয়েছে সে রকম আর থাকবে না। এআইয়ের কারণে ক্ষমতা কাঠামোও বদলে যাবে, নতুন ধরনের বৈষম্যেরও জন্ম হতে পারে।
এই সব পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়ে সমাজকে অবগত থাকতে হবে, গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ প্রস্তুত হতে পারে, এআই ব্যবহার করে কাজ করতে পারে। সমাজ এবং ব্যক্তির অধিকার তথা সার্বিক মঙ্গলের জন্য এআই যেন দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
এআইয়ের সুফল যাতে সব মানুষ সমানভাবে পায়, তা নিশ্চিত করতে সামাজিক এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে আরও বেশি প্রতিনিধিত্বশীল কণ্ঠস্বর যুক্ত করতে হবে।
বিশেষ করে যেসব কাজ পুনরাবৃত্তিমূলক, রুটিন বাঁধা, সেগুলো খুব সহজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যাবে। যেমন ডাটা এন্ট্রি, প্রশাসনিক কিছু কাজ, কাস্টমার সার্ভিস, ম্যানুফ্যাকচারিং বা অ্যাসেম্বলিং, টেলিমার্কেটিং, সেলস, ট্রান্সপোর্টেশন আর ডেলিভারির কাজ, ফিনান্সিয়াল আর অ্যাকাউন্টিং-এর কিছু কাজ, ডাটা অ্যানালাইসিস, রিসার্চ আর রিপোর্টিং-এর কাজও এআই করতে পারবে।
সেই সঙ্গে নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্রও কিন্তু তৈরি হবে মানুষের জন্য। বিশেষত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা সায়েন্স, ডিজাইন ইত্যাদি। আবার অনেক কাজের ধরন পালটে নতুন রূপ নেবে। এআইয়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য নতুন নতুন দক্ষতার প্রয়োজন হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
চ্যাটজিপিটি এখনই কিন্তু এআই সরল কবিতা, গদ্য, ভিজ্যুয়াল আর্ট এমনকি সংগীত তৈরি করতে পারছে। এগুলো হয়তো মানুষের সমপর্যায়ের সৃষ্টিশীলতা বা বৈচিত্র্যপূর্ণ নয়, কিন্তু তা একটি নতুন ধারার আর্টিস্টিক এক্সপ্রেশন, নতুন ধরনের শিল্প তৈরির সক্ষমতা রাখে। ঐতিহ্যগতভাবে শিল্প বলতে যা বোঝানো হয়, সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
আবার অনেকেই মনে করছেন, এ আইয়ের তৈরি করা শিল্পে অনুভূতির গভীরতা নেই, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নেই। যে সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মানুষের তৈরি শিল্প এত শক্তিশালী হয়ে ওঠে, অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে এআইয়ের সেই প্রেক্ষাপটও নেই। আর যেখানে এআই দিয়ে সৃষ্টিশীল শিল্প তৈরি করা হবে, সেখানে তার স্বত্ব এবং মালিকানা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হবে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের ভূমিকা কী হবে তাও স্পষ্ট নয়।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে যে ম্যাট্রিক্স রিয়েলিটি দেখা যায়, সে রকম কোনো পরিস্থিতি এখানে তৈরি হচ্ছে না। যদিও প্রযুক্তির উন্নতির কারণে খুবই বাস্তব ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্ট এবং সিমুলেশন তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী আর বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করতে পারাটা জরুরি। বর্তমান প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তিতে বলা যায়, ম্যাট্রিক্স সিনেমায় যেমনটা দেখানো হয়েছে ততটা এখনো সম্ভব নয়।
চ্যাটজিপিটি ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কোনোটাই নয়, এটি মূলত মানুষ এবং এআইয়ের মধ্যে চারিত্রিক পার্থক্য। অনুভূতি মানবীয় অভিজ্ঞতার একটা অংশ, যা মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পর্ক এবং সার্বিক কল্যাণের ওপর অনেক বড় ভূমিকা রাখে। এআইয়ের অনুভূতি নেই, সে আগে থেকে প্রোগ্রাম করে দেওয়া অ্যালগরিদম এবং নিয়ম দ্বারা পরিচালিত। এই অনুভূতি না থাকাটা ভালো না মন্দ, তা নির্ভর করবে এআইকে কী ক্ষেত্রে, কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুভূতি না থাকাটাই ভালো হতে পারে কেননা তাতে পক্ষপাত দূর করে স্থিতিশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা ক্ষতিকরও হতে পারে, যেহেতু এটি সহমর্মিতা বা সহানুভূতিহীনতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, এটি মানুষ এবং এআইয়ের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝার অন্তরায় হতে পারে।
চ্যাটজিপিটি এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের মতাদর্শিক এবং ধর্মীয় আপত্তি উঠেছে। অনেকেই মনে করে এআই-এর উদ্ভাবন এবং ব্যবহার নীতি-নৈতিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যেমন এআইয়ের কারণে যদি কোনো ক্ষতি হয়, তার দায় কে নেবে? এআই যে দায়িত্বশীল বা নৈতিক আচরণ করবে তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়গুলোকেই বা কীভাবে সামলানো হবে? এছাড়া আছে মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর প্রশ্ন। তাতে করে সার্বিক অর্থনীতিতেই একটা ভাঙন তৈরি হতে পারে। এ কারণেই এআইয়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম-দক্ষ জনশক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো সিঙ্গুলারিটি বা একাধিপত্য ও স্বতন্ত্রতা। অনেকেই মনে করছে, সুপার ইন্টেলিজেন্ট এআই তৈরির মাধ্যমে প্রযুক্তিগত একাধিপত্য, স্বতন্ত্রতা তৈরি হতে পারে। যেখানে যন্ত্র মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, পুরো বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, যা মানবসভ্যতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সব ধর্মেই বলা হয় যে, একমাত্র মানুষেরই আত্মা, বিবেক এবং সচেতনতা রয়েছে, এক ধরনের ঐশ্বরিক স্ফুলিঙ্গ রয়েছে তার ভেতরে। যন্ত্রের মাধ্যমে সেটা অনুকরণ করার চেষ্টা ঐশ্বরিক আদেশের বিরুদ্ধাচরণ। এআইয়ের অনুভূতি নেই, এটিও একটা বড় আপত্তির জায়গা। মানুষ এবং এআইয়ের মধ্যকার যে সহানুভূতিহীন সম্পর্ক তৈরি হবে, তা সার্বিকভাবে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিথস্ক্রিয়া তথা গোটা সমাজের ওপরেই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। চ্যাটজিপিটি তাত্তি¡কভাবে এটা সম্ভব, এআইকে যদি সেভাবে প্রোগ্রাম করে দেওয়া হয় তাহলে এটি মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। কিন্তু এটা সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ মানুষই এআই তৈরি করেছে, একে ডিজাইন এবং প্রোগ্রাম করেছে। এই মুহূর্তে এআইয়ের সেই ক্ষমতা নেই যে সে নিজে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, এআইয়ের মাধ্যমে যদি কোনো ক্ষতি হয়, তা এআই দ্বারা নয়, বরং এর ডিজাইনে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ভুলের পরিণতি, বা ভুলভাবে ব্যবহারের কারণে হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। ফলে এআই যারা ডিজাইন করবেন, যারা ব্যবহার করবেন তাদের উচিত এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা, ক্ষতির আশঙ্কা কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া। সিআইএ কিংবা অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানই চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে পারে। যেহেতু এটা বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলে যে কেউই এটা ব্যবহার করতে পারবে। এখানে খেয়াল করতে হবে, ওপেন এআইয়ের শর্ত অনুযায়ী তাদের প্রযুক্তি কোনো অবৈধ বা ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। এটা ঠিক যে সিআইএর মতো কোনো সরকারি সংস্থা যদি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাহলে তারা নৈতিক এবং আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত চ্যাটজিপিটি বা অন্য কোনো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের ওপর, আর তাদের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা মেনেই সেটা করতে হবে।
চ্যাটজিপিটি গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলতে পারে
জেনেভার সুইস ক্যান্টনে গত ১ ফেব্রæয়ারি স্কুল মিডিয়া সার্ভিস (এসইএম) আয়োজিত একটি কর্মশালায় শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের কাছে চ্যাটজিপিটির নানা দিক তুলে ধরেন। ই-মেইল, স্কুল-কলেজের রচনা, নিবন্ধ কিংবা নিত্যদিনের পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য আমরা যা কিছু মগজ খাঁটিয়ে লিখি, তার সবই মাত্র সপ্তাহ কয়েক আগে উন্মুক্ত হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র কারণে হুমকির মুখে পড়ে গেছে। প্রযুক্তি কোম্পানি ওপেনএআই-এর বানানো এই চ্যাটবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের লিখিত প্রশ্নে এমনভাবে সাড়া দিতে পারে যার ধরন প্রায় মানুষের কাছাকাছি হয়ে থাকে।
কবিতা কিংবা নাটকের চিত্রনাট্য রচনার মতো প্রতিভানির্ভর সৃষ্টিশীল কাজও এই চ্যাটবট দখল করে নিতে পারে এমনও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে তার চেয়ে আশঙ্কার কথা হলো, চ্যাটজিপিটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি হতে পারে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গণতন্ত্রের লড়াইয়ে মানুষের জায়গা দখল করবে; আর সেটি করবে ভোটার আকর্ষণের দিক থেকে ততটা নয় যতটা করবে লবিংয়ের দিক থেকে।
চ্যাটজিপিটির কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে পড়বে যে ১০ পেশা
চ্যাটজিপিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় কারও হয়ে মন্তব্য তৈরি করতে পারে। স্থানীয় খবরের কাগজে সম্পাদক বরাবর মেইল লিখতে পারে। প্রতিদিন এটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত লাখ লাখ সংবাদ কিংবা নিবন্ধের লিংকে, বøগে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নির্দিষ্ট এজেন্ডা ধরে মন্তব্য করতে পারে। ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রাশিয়ার সংস্থা রাশিয়ান ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি কোটি কোটি ডলার খরচ করে শত শত কর্মী নিয়োগ করে যেভাবে প্রচারণা চালিয়েছিল, সে ধরনের অর্থ ও লোকবল ব্যয় না করেই চ্যাটজিপিটি একই কাজ করতে পারে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা মন্তব্যের উৎপাত নতুন কোনো সমস্যা না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনটেন্ট পোস্ট করতে পারে এমন ধরনের বট কিংবা মেশিনের তৎপরতার সঙ্গে মাঝে মাঝেই আমাদের যুঝতে হয়েছে।
চ্যাটজিপিটি গুগলকে ধ্বংস করতে পারে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত চ্যাটবটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ধারণা করা হয়, পাঁচ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের কাছে প্রস্তাবিত পক্ষপাতমুক্ত ইন্টারনেট নীতির উপর অন্তত ১০ লাখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা মন্তব্য জমা পড়েছিল। ২০১৯ সালে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জনগণের কাছে পরামর্শসূচক মন্তব্য আহ্বান করার পর হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একজন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পরীক্ষামূলকভাবে ১০০১টি মন্তব্য সাবমিট করতে একটি টেক্সট জেনারেশন প্রোগ্রাম ব্যবহার করেছিলেন। ওই সময়টাতে অবশ্য মন্তব্য সাবমিট করাটা নেহাত সংখ্যাধিক্য দেখানোর খেলা ছিল। এখন প্ল্যাটফর্মগুলোর হাতে ‘সংগঠিত বিশ্বাসযোগ্যতাহীন আচরণ’ শনাক্ত করার এবং সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার অনেক উন্নত প্রযুক্তি এসেছে। যেমন ফেসবুক গত এক বছরে এক শ কোটির বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে। কিন্তু এখন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে সক্রিয় হচ্ছে তাতে কোন মেসেজটি আসল, অর্থাৎ মানুষের পাঠানো, আর কোনটি স্বয়ংক্রিয় তা বেছে আলাদা করাই কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কৌশল শনাক্ত হয়ে গেলেই চ্যাটজিপিটির মতো এআই চ্যাটবট সেই ব্যক্তি ও কৌশলের সঙ্গে সংগতি রেখে এমনভাবে টেক্সট তৈরি করে ফেলতে পারে যা চিঠি, মন্তব্য বা নানা কিছুতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শনাক্ত করা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তখন মানব লবিয়িস্টও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
আইনপ্রণেতাদের সবার ইনবক্স স্বয়ংক্রিয় কায়দায় ই-মেইল দিয়ে ভওে ফেলা কিংবা সিনথেটিক ভয়েস কল দিয়ে ক্যাপিটল ভবনের সুইচবোর্ড ব্যস্ত রাখার বদলে চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যন্ত্র দিয়ে বেছে বেছে টার্গেট করে করে আইনপ্রণেতাদের কাছে বার্তা পাঠানো যাবে এবং নীতি নির্ধারণী ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো শনাক্ত করে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। এর মাধ্যমে জনসংযোগ সংক্রান্ত প্রচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা যাবে এবং আইনপ্রণেতাদের বিভ্রান্ত করা যাবে।
আমরা মানুষেরা যখন এই কাজগুলো করি তখন সেগুলোকে আমরা বলি ‘লবিং’ বা চেষ্টা তদবিরের মাধ্যমে প্রভাব খাটানো। নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কেতাদুরস্ত ভাষায় মেসেজ লেখা ও সেগুলোকে নিশানা করা ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজের জন্য অনেক পেশাদার সংস্থা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। এখন চ্যাটজিপিটি-সজ্জিত লবিয়িস্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যুদ্ধে ব্যবহার্য মনুষ্যবিহীন ড্রোনের মতো প্রচারাস্ত্র প্রয়োগ করবে।
এটি এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা কিনা রাজনৈতিক নেটওয়ার্কগুলোর গতিপ্রকৃতি বুঝতে পারে। চ্যাটজিপিটির টেক্সচুয়াল জেনারেশন সক্ষমতা ব্যবহার করে এই সিস্টেম কংগ্রেসের সদস্যদের মধ্যে কে কোন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কতটা প্রভাবশালী; কোন কংগ্রেস সদস্য করপোরেট কর নীতি আর কোন সদস্য সামরিক ব্যয় সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে প্রভাব খাটাতে সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বের করে ফেলতে পারে। মানব লবিয়িস্টদের মতোই এই সিস্টেমটি স্বার্থ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণী কমিটিতে থাকা প্রতিনিধিদের টার্গেট করতে পারে এবং একটি বিল ফ্লোর ভোটে গেলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্যদের ওপর দৃষ্টি ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কৌশল শনাক্ত হয়ে গেলেই চ্যাটজিপিটির মতো এআই চ্যাটবট সেই ব্যক্তি ও কৌশলের সঙ্গে সংগতি রেখে এমনভাবে টেক্সট তৈরি করে ফেলতে পারে যা চিঠি, মন্তব্য বা নানা কিছুতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শনাক্ত করা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তখন মানব লবিয়িস্টও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা কর্মকর্তাদের সক্ষমতা ও প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারার ক্ষমতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এটি দিয়ে হ্যাক করা এবং অবিশ্বাস্য দ্রæততায় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা সম্ভব হবে।
নীতি নির্ধারণী ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ করার উদ্দেশ্য এত জোরালো; এই ধরনের সিস্টেমকে প্রশিক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় ডেটার সহজপ্রাপ্যতা এত অবাধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শনাক্ত করা এত কঠিন যে, যৌক্তিকভাবেই মনে হচ্ছে, আইনপ্রণেতাদের বেছে বেছে টার্গেট করা হবে। দিন যত যাবে ততই এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষিত হবে। আর ততই গণতন্ত্র ঝুঁকিতে পড়বে।
চ্যাটজিপিটির পাল্টা বট বার্ড নিয়ে আসছে গুগল
চ্যাটজিপিটির বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে গুগল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছিল। কারণ, গুগলের সার্চ ইঞ্জিন যেখানে মানুষকে নানা ধরনের সূত্র ধরিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয়, সেখানে চ্যাটজিপিটি রীতিমতো লিটরেচার রিভিউ করে দেয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই জগতে গুগলও পিছিয়ে থাকতে চাইবে না, এটাই স্বাভাবিক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে গুগলও তার সার্চ ইঞ্জিনে চ্যাটবট যুক্ত করতে যাচ্ছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে বার্ড (বিএআরডি) নামের এক এআই সেবা নিয়ে আসছে গুগল। আপাতত ব্যবহারকারীদের মতামত নেওয়ার জন্য তা বাজারে ছাড়া হবে।
চ্যাটজিপিটিতে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে মাইক্রোসফট
সুন্দর পিচাই বলেছেন, গুগল তার সার্চ ইঞ্জিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করবে, যা অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। যেমন গিটার নাকি পিয়ানো বাজানো সহজ এমন প্রশ্নের উত্তরও দেবে গুগলের নতুন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বার্ড। যদিও বর্তমানে গুগল সার্চ ইঞ্জিন শুধু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরাজমান নানা টেক্সট বিভিন্ন উৎস থেকে খুঁজে বের করে হাজির করে।
গুগল শিগগিরই সার্চ ইঞ্জিনের হালনাগাদ প্রকাশ করবে, তবে কবে প্রকাশ করবে, তার দিনক্ষণ এখনো জানায়নি। তবে গুগল কীভাবে চ্যাটজিপিটি থেকে বার্ডকে আলাদা করবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। পিচাই বলেছেন, গুগলের নতুন সেবা অন্তর্জাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে, যেখানে চ্যাটজিপিটির জ্ঞান ২০২১ সাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
হীরেন পণ্ডিত, প্রাবন্ধিক ও গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

https://www.chicagokebabrestaurant.com/

sicbo

roulette

spaceman slot