Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

নতুন আশঙ্কা তৈরি করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা


হীরেন পণ্ডিত:
বিশ্বজুড়ে কর্মহীনতার বাড়বাড়ন্তে অশনিসঙ্কেত দেখছেন সবাই। এর মধ্যেই নতুন করে আশঙ্কা বাড়িয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। গবেষকদের দাবি, অদূর ভবিষ্যতেই চাকরি হারাতে চলেছেন ৩০ কোটি মানুষ। আর তাদের জায়গা নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।
ঘর পরিষ্কার করা, নতুন কিছু তৈরি করা এসব ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খুব একটা কাজে লাগবে না। মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া এসব কাজ প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেছেন গবেষকরা। তবে যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে উঠছে, তাতে ভবিষ্যতে ওই কাজেও যে সে ভাগ বসাবে না, এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারছেন না কেউই। এমনকি যারা এই প্রযুক্তি নিয়ে এসেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে তাদেরও একদিন প্রতিস্থাপন করে ফেলা অসম্ভব নয়, এমনটাই দাবি গবেষকদের। যেভাবে সব কাজের ক্ষেত্রেই আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে, তা নিয়ে সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখছিলেন বিশেষজ্ঞরা। মনে করা হচ্ছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরও উন্নত প্রয়োগ ঘটানো গেলে তা দিয়েই একাধিক মানুষের কাজ সামলে ফেলা যাবে। কিন্তু তেমনটা হলে যে অনেক মানুষ তাদের কাজ হারাবেন, তা নিয়েও সংশয়ের অবকাশ নেই। যেখানে বিশ্বজুড়ে কর্মহীনতার জের ক্রমেই এক মহামারির রূপ নিতে বসেছে, সেখানে আরও মানুষের কাজ হারানো নিয়ে আশঙ্কা ছিলই। আর সেই আশঙ্কাতেই এবার কার্যত সিলমোহর দিল এক সমীক্ষা। যেখানে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জেরে চাকরি হারাতে পারেন ৩০ কোটি মানুষ।
জুতাসেলাই থেকে চÐীপাঠ, এআই যেন সবই করতে পারে। অন্তত এর নির্মাতারা তো তেমনভাবেই প্রচার করছেন। কম্পিউটারে কাজ কিংবা বই লেখা, সবই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা সম্ভব। এমনকি প্রেমপত্র লেখাতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এবার এত কাজ যদি স্রেফ একটা যান্ত্রিক প্রযুক্তি করতে ফেলতে পারে তাহলে আর মানুষের দরকার কেন? এ কথা ভাবতে শুরু করেছেন বিশ্বের বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ। তাদের সেই আশঙ্কাতেই যেন সিলমোহর দিল এই সাম্প্রতিক সমীক্ষা। গবেষকদের দাবি, ইতিমধ্যেই অনেক অফিসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যেই বিভিন্ন কাজ করে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে তা বাড়বে বই কমবে না। তাদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে কর্মজগতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাজই এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করবে। ফলত কর্মহীন হয়ে পড়বেন সেখানে কর্মরত ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া, ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ হারাতে পারে মানুষ, সে তথ্যও জানিয়েছে ওই সমীক্ষা। এই তালিকায় সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসনিক ক্ষেত্র। গবেষকদের দাবি, প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রশাসনিক কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিস্থাপন করতে পারে। তাই প্রশাসনিক পদে কর্মরত অনেকেই এর জেরে চাকরি হারাতে পারেন। এরপরই রয়েছে আইনি কাজকর্ম। সেখানেও নাকি ৪৪ শতাংশ মানুষের চাকরি প্রতিস্থাপন করতে পারে এআই। পাশাপাশি লেখালাখি, ছবি আঁকা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ খুবই কম সময়ের মধ্যে করে ফেলতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তাই এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাজও কিন্তু এই মুহূর্তে যথেষ্ট বিপদের মুখে। তবে যেসব কাজে কায়িক পরিশ্রম প্রয়োজন, সেগুলোকে বিপন্মুক্ত বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুশোচনায় ভুগছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গডফাদার
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গুগলে নিযুক্ত ছিলেন জিওফ্রে হিন্টন। জিওফ্রে হিন্টনকে বলা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গডফাদার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক উন্নতির পেছনে তাঁর রয়েছে বিশাল অবদান। নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজের জন্য পেয়েছেন কম্পিউটিংয়ের নোবেল পুরস্কার হিসেবে খ্যাত এসিএম এএম ট্যুরিং অ্যাওয়ার্ড। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গুগলে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া তাঁর এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে নির্দ্বিধায় কথা বলতেই গুগলের চাকরি ছেড়েছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নিজের অবদান নিয়ে অনুশোচনায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি। দ্য ভার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমি সাধারণ অজুহাত দিয়ে নিজেকে সান্ত¡না দিই। যদি আমি না করতাম, তবে অন্য কেউ করত। অসৎ কাজের উদ্দেশ্যে খারাপ মানুষকে এটি (এআই) ব্যবহার থেকে বিরত রাখার ব্যাপারটি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। গত মাসেই গুগলের চাকরি ছেড়ে দেন হিন্টন। সম্প্রতি টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে কী নিয়ে কথা হয় তা তিনি জানাননি। আজীবন একাডেমিক কাজে ব্যস্ত থাকা হিন্টন গুগলে যোগ দেন তাঁর দুই ছাত্রের সঙ্গে শুরু করা কোম্পানি গুগলের অধিগ্রহণের পর। সেই দুই ছাত্রের একজন এখন ওপেন এআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী। হিন্টন এবং তাঁর দুই ছাত্র মিলে একটি নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন, যেটি নিজে নিজে হাজার হাজার ছবি বিশ্লেষণ করে কুকুর, বিড়াল ও ফুলের মতো সাধারণ বস্তুগুলো শনাক্ত করতে শিখেছিল। এ কাজটিই শেষ পর্যন্ত চ্যাটজিপিটি ও বার্ড তৈরির পথ প্রদর্শক হয়ে ওঠে।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাক্ষাৎকারে হিন্টন জানান, মাইক্রোসফট ওপেন এআইয়ের প্রযুক্তি যুক্ত করে বিং চালুর আগ পর্যন্ত তিনি গুগলের প্রযুক্তিতেই সন্তুষ্ট ছিলেন। মাইক্রোসফটের এই পদক্ষেপ গুগলের মূল ব্যবসাকে চ্যালেঞ্জ জানায় এবং সার্চ জায়ান্টটির ভেতরে একটি উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
হিন্টন বলেন, এই ধরনের ভয়ংকর প্রতিযোগিতা থামানো অসম্ভব হতে পারে। ফলে এমন একটি পৃথিবী তৈরি হবে, যেখানে নকল চিত্র এবং পাঠ্যের ভিড়ে কোনটি সত্য তা শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়বে।
হিন্টনের বক্তব্যের ফলে সৃষ্ট উত্তাপ কমাতে গুগলের প্রধান বিজ্ঞানী জেফ ডিন এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা এআইয়ের জন্য একটি দায়িত্বশীল পদ্ধতির প্রতি প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। সাহসিকতার সঙ্গে উদ্ভাবনের পাশাপাশি আমরা ক্রমাগত উদীয়মান ঝুঁকিগুলো বুঝতে শিখছি।
আপাতত ভুল তথ্যের বিস্তার হিন্টনের উদ্বেগের কারণ। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এআই চাকরি দখলের পাশাপাশি মানবতাকেই মুছে দেবে বলা ধারণা করছেন হিন্টন, যেহেতু এআই এরই মধ্যে কোড লিখতে এবং তা চালাতে শুরু করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎ
কম্পিউটার যুগের শুরু থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভয় মানব জাতিকে তাড়িত করছে। একটা সময় পর্যন্ত এই ভয় ছিল, যন্ত্রটি ভৌত উপায়ে মানুষকে হত্যা, দাসত্ব বা প্রতিস্থাপন করতে পারে। কিন্তু গত কয়েক বছরে নতুন এআই টুলস আবির্ভূত হয়েছে, যা মানব সভ্যতার অস্তিত্বের প্রতিই অপ্রত্যাশিত হুমকি সৃষ্টি করেছে। এআই শব্দ, ধ্বনি বা চিত্র দিয়ে ভাষাকে পাল্টে দেওয়া বা নতুন ভাষা তৈরি করার কিছু অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করেছে। বলা যায়, এআই আমাদের সভ্যতার অপারেটিং সিস্টেম হ্যাক করেছে।
প্রায় সব মানব সংস্কৃতিই ভাষা দিয়ে তৈরি। মানবাধিকার উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমাদের ডিএনএতে খোদাই করা হয় না। বরং এগুলো সাংস্কৃতিক নিদর্শন, যা আমরা গল্প বলার মাধ্যমে এবং আইন লিখে তৈরি করেছি। টাকাও একটি সাংস্কৃতিক নিদর্শন, ব্যাংক নোটগুলো হলো কাগজের রঙিন টুকরো এবং বর্তমানে ৯০ শতাংশেরও বেশি টাকা এমনকি ব্যাংক নোট নয়; কম্পিউটারে গচ্ছিত ডিজিটাল তথ্য মাত্র। যে কারণে টাকা আমাদের কাছে মূল্যবান হয় তা হলো সেই গল্প যা ব্যাংকার, অর্থমন্ত্রী এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি গুরুরা আমাদের এটি সম্পর্কে বলেন। স্যাম ব্যাঙ্কম্যান-ফ্রাইড, এলিজাবেথ হোমস এবং বার্নি ম্যাডফ প্রকৃত মূল্য তৈরিতে বিশেষভাবে ভালো ছিলেন না, তবে তাঁরা সবাই ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ গল্পকার।
গল্প বলা, সুর রচনা, ছবি আঁকা এবং আইন ও ধর্মগ্রন্থ লেখার ক্ষেত্রে একজন অমানবীয় বুদ্ধিমত্তা গড় মানুষের চেয়ে দক্ষ হয়ে গেলে কী হবে? মানুষ যখন চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য নতুন এআই সরঞ্জাম সম্পর্কে তাদের ধারণা প্রকাশ করে, তখন তারা প্রায়ই স্কুলের বাচ্চাদের এআই ব্যবহারের মাধ্যমে নিবন্ধ লেখা জাতীয় ঘটনার মধ্যেই আটকে থাকে। তাদের উদ্বেগ, বাচ্চারা এমনটা করলে স্কুল সিস্টেমের কী হবে? কিন্তু এ ধরনের চিন্তার মধ্য দিয়ে তারা গাছ দেখতে গিয়ে বনের কথাই ভুলে যায়। এসব বাদ দিয়ে বরং ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রতিযোগিতার কথা ভাবুন; তখন এআই সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে কী পরিমাণ ভুয়া রাজনৈতিক কনটেন্ট, ভুয়া সংবাদ এবং নতুন নতুন কাল্ট তৈরির বাণীর জন্ম হতে পারে?
আমরা হয়তো শিগগির গর্ভপাত, জলবায়ু পরিবর্তন বা ইউক্রেনে রাশিয়ান আগ্রাসন সম্পর্কে দীর্ঘ অনলাইন আলোচনায় যুক্ত হবো, যেখানে প্রতিপক্ষ আমরা ভাবছি মানুষ; বাস্তবে তা এআই। মনে রাখতে হবে, মানুষের মত পাল্টানো যায়, কিন্তু এআইর মত পাল্টানো যায় না। অতএব এহেন পরিবর্তনের চেষ্টা সময়ের অপচয় ছাড়া কিছু নয়। উপরন্তু এআই তার বার্তাগুলোকে এত নিখুঁতভাবে বানাতে পারে যে, এর দ্বারা আমাদের প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক। ভাষার দক্ষতার মাধ্যমে এআই এমনকি মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তৈরি করতে পারে। আর মানুষের মত এবং বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ঘনিষ্ঠতার শক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে কে না জানে!
আমরা সবাই জানি, গত এক দশকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের এআই উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের ফ্রন্ট মনোযোগ থেকে ঘনিষ্ঠতার দিকে সরে যাচ্ছে। আমাদের সঙ্গে জাল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির লড়াইয়ে একাধিক এআই যখন পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত হবে এবং জয়ী এআই আমাদের নির্দিষ্ট রাজনীতিবিদদের ভোট দিতে বা নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে বোঝাতে ব্যবহৃত হবে তখন মানবসমাজ এবং মানব মনস্তত্তে¡র কী হবে?
এমনকি জাল ঘনিষ্ঠতা তৈরি না করেও নতুন এআই সরঞ্জাম আমাদের মতামত এবং বিশ্বদর্শনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষ ওয়ানস্টপ সার্ভিসের জন্য সবজান্তা ওরাকলের মতো একটা এআইকে উপদেষ্টারূপে নিয়োগ দিতে পারে। গুগল কি এমনি এমনি আতঙ্কিত?
এমনকি এসব বিষয়েও সত্যিকারের ছবিটা ফুটে উঠছে না। আমরা যে বিষয়ের কথা বলছি তা সম্ভবত মানব ইতিহাসের শেষ। ইতিহাসের শেষ নয়, শুধু তার মানবপ্রধান অংশের শেষ। ইতিহাস হলো জীববিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির মধ্যে মিথস্ক্রিয়া; খাদ্য ও যৌনতার মতো জিনিসের জন্য আকাক্সক্ষার মতো আমাদের জৈবিক চাহিদার সঙ্গে ধর্ম এবং আইনের মতো আমাদের সাংস্কৃতিক সৃষ্টির মিথস্ক্রিয়া। ইতিহাস হলো সেই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আইন ও ধর্ম দ্বারা খাদ্য ও যৌনতা আকৃতি পায়।
ইতিহাসের গতিপথ কী হবে যখন এআই সংস্কৃতির দখল নেবে এবং নতুন গল্প, সুর, আইন এবং ধর্ম তৈরি করতে শুরু করবে? মুদ্রণযন্ত্র এবং রেডিওর মতো সরঞ্জাম মানুষের সাংস্কৃতিক ধারণা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল, কিন্তু তারা কখনোই তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ধারণা তৈরি করেনি। এআই তাদের থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন। সে সম্পূর্ণ নতুন ধারণা; সম্পূর্ণ নতুন সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে।
অবশ্যই এআইর নতুন শক্তি ভালো উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্যান্সারের নতুন নিরাময় থেকে শুরু করে পরিবেশগত সংকটের সমাধান আবিষ্কার পর্যন্ত অসংখ্য উপায়ে আমাদের সাহায্য করতে পারে। তবে আমার মতো ইতিহাসবিদ ও দার্শনিকের কাজ হলো বিপদগুলো তুলে ধরা। আমরা যে প্রশ্নটির মুখোমুখি হচ্ছি তা হলো কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে, নতুন এআই সরঞ্জাম অসুস্থতার পরিবর্তে ভালোর জন্য ব্যবহার করা যায়? এটি করার জন্য আমাদের প্রথমেই এসব সরঞ্জামের প্রকৃত ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত হতে হবে।
১৯৪৫ সাল থেকে আমরা জানি, পারমাণবিক প্রযুক্তি মানুষের সুবিধার জন্য সস্তা শক্তি উৎপন্ন করতে পারে, কিন্তু শারীরিকভাবে মানব সভ্যতাকেও ধ্বংস করতে পারে। তাই আমরা মানবতার সুরক্ষা এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রাথমিকভাবে ভালোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে সমগ্র আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে পুনর্র্নিমাণ করেছি। কিন্তু আমাদের এখন গণবিধ্বংসী একটি নতুন অস্ত্রের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, যা আমাদের মানসিক এবং সামাজিক জগৎকে ধ্বংস করতে পারে। পরমাণুগুলো কিন্তু আরও শক্তিশালী পরমাণু আবিষ্কার করতে পারে না। অথচ এআই দ্রæতগতিতে আরও শক্তিশালী এআই তৈরি করতে পারে। তাই জনসমক্ষে শক্তিশালী এআই সরঞ্জাম নিয়ে আসার আগে সেগুলোর কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা দাবি করা হবে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঠিক যেমন একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তাদের স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি উভয় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করার আগে নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়তে পারে না, তেমনি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উচিত হবে নিরাপদ প্রমাণ করার আগে কোনো এআই বাজারে না ছাড়া। নতুন প্রযুক্তির জন্য আমাদের মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের সমতুল্য একটা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, আসলে গতকালই এর কার্যক্রম শুরু হওয়া দরকার ছিল।
জনপরিসরে এআই মোতায়েন না করতে দিলে কি গণতন্ত্র আরও নির্মম কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে পিছিয়ে পড়বে? না; ঠিক উল্টো হবে। অনিয়ন্ত্রিত এআই মোতায়েন সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, যা স্বৈরাচারীদের কাজে লাগবে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে। গণতন্ত্র একটি সংলাপ, যা ভাষার ওপর নির্ভর করে। যখন এআই ভাষা হ্যাক করে, তখন আমাদের অর্থপূর্ণ সংলাপ করার সামর্থ্য ধ্বংস হয়। পরিণামে গণতন্ত্রও ধ্বংস হয়।
আমরা একটি অ্যালিয়েন বুদ্ধিমত্তার সম্মুখীন হয়েছি, এখানে পৃথিবীতে। আমরা এটি সম্পর্কে অনেক কিছু জানি না। শুধু জানি, এটি আমাদের সভ্যতাকে ধ্বংস করতে পারে। তাই এআই সরঞ্জামের দায়িত্বজ্ঞানহীন মোতায়েন বন্ধ করা উচিত, যেন এআই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করার আগে আমরা এআইকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। নতুবা কারও সঙ্গে কথোপকথনের সময় আমি বলতে পারব না এটি কি মানুষ, না এআই। এখানেই গণতন্ত্রের অবসান ঘটতে পারে।
বিজ্ঞানের ঈর্ষণীয় সাফল্যের নতুন উদ্ভাবন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এআই)। প্রতিনিয়ত এর ছোট বড় ব্যবহার মানুষের জীবনকে যেমন করছে সহজ, সুন্দর ও সাবলীল, তেমনি করছে জটিল ও বিপজ্জনক। তথ্যপ্রযুক্তির এ ব্যবস্থা মানুষের মনের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আবেগ-অনুভূতি, সিদ্ধান্ত সবই বুঝতে পারে এবং মানুষের বুদ্ধিমত্তার মতোই কাজ করে। বিগত কয়েক বছর ধরেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট চলছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেজ প্রফেসর এমি ওয়েবের মতে, ইতিবাচকভাবে চিন্তা করলে এআই’র রয়েছে বিরাট সম্ভাবনা।
তবে এআই’র উন্নতির জন্য সিস্টেম ডিজাইনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও তথ্যের ইনপুটের ক্ষেত্রে ব্যক্তির প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ঠিক কোন দিকে যাবে সেটা অনেকাংশেই নির্ভর করে যে প্রতিষ্ঠানগুলো এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে তাদের ওপর। প্রতিটি দেশের ও প্রতিষ্ঠানের উচিত প্রযুক্তিটির অপব্যবহার রোধে দ্রæত আইন ও নীতিমালা তৈরি করা।
এআই প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণে যে নীতিমালা দরকার, সেটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নেই। স্টিফেন হকিং থেকে শুরু করে ইলন মাস্ক-বিশ্বের শীর্ষ কয়েকজন বিজ্ঞানী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটি একসময় হয়তো মানব প্রজাতির জন্য একটি হুমকি হয়ে উঠবে, বিরূপ প্রভাব ফেলবে জাতীয় অর্থনীতিতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক বিশ্লেষণমূলক ক্ষমতা মানুষকে বেকারত্বের সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে মানুষের তুলনায় এআই কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সময় বাঁচাতে পারে। ফলে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ চাকরিজীবীর অন্তত ১০ শতাংশ কাজ দখল করবে এআই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ চাকরিজীবীর প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ এ প্রযুক্তিটি দখল করে ফেলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ১৫টি পেশায় চাকরির বাজার উল্লেখযোগ্য হারে দখল করতে পারবে এআই।
এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-গণিতবিদ, ট্যাক্স প্রস্তুতকারী, লেখক, ওয়েব ডিজাইনার মতো পেশা। এ তালিকার এর পরই আছে হিসাবরক্ষক, সাংবাদিক, আইন সচিব, ক্লিনিক্যাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। আবার শতভাগ না হলেও ল্যাংগুয়েজ মডেল টাইপের এআই প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত চাকরির বাজার দখল করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বøকচেইন ইঞ্জিনিয়ার, প্রæফ রিডার, কপি মার্কারের মতো পেশা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ কোটি ফুলটাইম চাকরির বাজার এআই’র দখলে যাবে গোল্ডম্যান স্যাকস রিপোর্ট। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বায়ন ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক ইয়ান গোল্ডিনের বিবিসির এক প্রতিবেদন বলেছে, ইউরোপে আগামী দশকে ৪০ শতাংশ চাকরি চলে যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখলে এবং এর প্রভাবে আফ্রিকার মতো উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাবে, এআইসমৃদ্ধ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জেরে ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের পাঁচটি খাতে (তৈরি পোশাক, আসবাব তৈরি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত, পর্যটন ও চামড়াশিল্প) প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ কাজ হারাবেন। এর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পের ৬০ শতাংশ এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের ৪০ শতাংশ শ্রমিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বেকার হবেন। বিশ্বের অনেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চালকবিহীন গাড়ি চালানোর প্রযুক্তি পুরোদমে বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। এর ফলে অনেক গাড়িচালক কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে সতর্ক করেছেন চ্যাটজিপিটির উদ্ভাবক ও ওপেন এআই’র প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান এবং বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজ কেড়ে নিতে পারে, গুজব ছড়াতে পারে, এমনকি নিজের ইচ্ছায় সাইবার আক্রমণ পর্যন্ত করতে পারে। তাই দিন দিন এ প্রযুক্তির বিকাশকে ধীরগতি করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। যদিও সুবিধার বিবেচনায় দিন দিনই এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে ভবিষ্যতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৪০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে এটি ৫০ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিত্যব্যবহার্য স্মার্টফোনের স্মার্ট অ্যাসিসট্যান্টও এআই প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের স্পর্শ ছাড়াই ভয়েসের মাধ্যমে ইচ্ছামতো অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করা যায়। এছাড়াও সাম্প্রতিক চালকবিহীন গাড়িতে ব্যবহৃত অটো পাইলট ব্যাপারটাও সম্পূর্ণ এআই। বর্তমানে শিল্প-কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতিতেও এআই ইমপ্ল্যান্ট করা হচ্ছে। অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফ্ট, আলিবাবা, অ্যাপল ইত্যাদি বড় বড় সব টেক জায়ান্টও প্রচুর পরিমাণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং এর সম্ভাব্য সব সংস্করণ ও উন্নতি করছে। এ হিসাবে বলা যায়, ভবিষ্যৎ পৃথিবী অবশ্যই এআইনির্ভর হবে এবং এই প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ হবে তা নির্ভর করছে আমাদের চিন্তাধারা ও এর ব্যবহারের ওপর।
তবে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণেই বেকারত্ব বাড়ছে, এমনটিই নয়। নতুন এ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারাটাও এজন্য অনেকটা দায়ী। তাই আগামী দিনগুলোয় আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হবে, নতুন প্রযুক্তি উপযোগী পরিবেশ ও প্রস্তুতি তৈরি করে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। পাশাপাশি এর পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা ও ক্ষমতা নিয়ে সচেতন থাকা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়েই হয়তো ভবিষ্যতে কল সেন্টার এবং পোশাক কারখানার মতো কাজগুলো নিয়ন্ত্রিত হবে। ফলে এসব কাজে নিয়োজিত মধ্যম ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর লাখ লাখ কর্মী যে কর্মহীন হয়ে পড়বে, তার লক্ষণ এখন আমাদের চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে। কাজেই ভবিষ্যতে হয়তো ক্লিনার কিংবা কলকারখানায় শ্রমিক লাগবে না; কিন্তু ক্লিনিং ও শিল্পের যন্ত্র তৈরি, উন্নয়নে ও অপারেশনে দক্ষ জনশক্তি লাগবে। এছাড়া মালির কাজ, কুরিয়ার ডেলিভারির কাজ, গৃহস্থালি কাজগুলো ভবিষ্যতে যে এআই যুক্ত রোবটই করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উন্নত দেশে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এআই দিয়ে। আবহাওয়া কেমন থাকবে, বৃষ্টি, গরম নাকি ঠান্ডা-এমন এক সপ্তাহের আগাম বার্তা সার্বক্ষণিক প্রচার করা হয় গণপরিবহণে সংযুক্ত টিভি মনিটরে। এভাবে আগামী দশকের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অপরিহার্য অংশ হিসাবে আবির্ভূত হবে যে এআই’র ব্যবহার ছাড়া আমরা একদিনও হয়তো চলতে পারব না। স্বাস্থ্যসেবা, জটিল অস্ত্রোপচার কিংবা বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে জটিল সিদ্ধান্ত দেওয়া, শিল্পদ্রব্যের ডিজাইন ও উৎপাদন, গ্রাহকসেবা, ব্যাংকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই নতুন প্রযুক্তি হয়ে উঠবে সুস্পষ্ট ও সর্বব্যাপী। তাই ভবিষ্যতে বেকারত্বের লাগাম টানতে এসব কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সৃজনশীল, নান্দনিক এবং জাতীয় সুরক্ষার উপযোগী করার লক্ষ্যে কী ধরনের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, প্রস্তুতি ও অবকাঠামো দরকার, তা নিরূপণ করার এখনই সময়। সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও ব্যবসাবান্ধব উন্নত পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই এআই’র সঠিক উদ্ভাবন, ব্যবহার এবং সময়োপযোগী উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে।
হীরেন পণ্ডিত: প্রাবন্ধিক ও রিসার্চ ফেলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

sicbo

roulette

slot server luar