Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট জাতি গঠনে সমানতালে এগিয়ে চলছে প্রযুক্তি


হীরেন পণ্ডিত: চাকরি থেকে ব্যবসার ক্ষেত্র সব জায়গায় রোবোটিকসের মতো প্রযুক্তি জায়গা করে নিচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পে এ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে দ্রুত গতিতে। তৈরি পোশাক শিল্প বৃহৎভাবে স্বয়ংক্রিয়করণের দিকে ধাবিত হলে এর ব্যাপক প্রভাব দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রেই দেখা যাবে। প্রথম সম্ভাব্য প্রভাব হলো চাকরি হারানো। তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস এবং অটোমেশনের দিকে এর স্থানান্তর হলে বর্তমান শিল্পে নিযুক্ত বিশালসংখ্যক শ্রমিকের উল্লেখযোগ্য চাকরি হারাতে পারেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবর প্রভাবে চাকরি হারাবেন ২৫ লাখ তৈরি পোশাক কর্মী। এটি দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি স্বতন্ত্র শ্রমিকদের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চাকরি হারানো কর্মীদের নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এ কথা সত্য, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবটের ব্যবহারের দিকে পরিবর্তন তৈরি পোশাক খাতে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে; যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে। জ্ঞানভিত্তিক এ শিল্প বিপ্লবে প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে দক্ষ মানবসম্পদই হবে বেশি মূল্যবান। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে বিপুল পরিমাণ মানুষ চাকরি হারালেও এর বিপরীতে সৃষ্টি হবে নতুন ধারার নানা কর্মক্ষেত্র। এক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশের যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবটির ভিত হচ্ছে ‘জ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’-ভিত্তিক কম্পিউটিং প্রযুক্তি। রোবটিকস, আইওটি, ন্যানো প্রযুক্তি, ডাটা সায়েন্স ইত্যাদি প্রযুক্তির প্রসার প্রতিনিয়ত চতুর্থ বিপ্লবকে নিয়ে যাচ্ছে অনন্য উচ্চতায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে কর্মবাজারে। অটোমেশন প্রযুক্তির ফলে ক্রমে শিল্প-কারখানা হয়ে পড়বে যন্ত্রনির্ভর। টেক জায়ান্ট কোম্পানি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সকন এরই মধ্যে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করে তার পরিবর্তে রোবটকে বেছে নিয়েছে। বিগত বছরগুলোয় চীনের কারখানাগুলোয় রোবট ব্যবহারের হার বেড়েছে বহুগুণে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তাদের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে রোবটের কারণে বিশ্বজুড়ে সাড়ে সাত কোটি মানুষ চাকরি হারাবে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত তৈরি পোশাক শিল্পের এসব আশঙ্কার ভেতরেই রয়েছে আগামী দিনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের বিশাল সম্ভাবনা। বর্তমানে তরুণের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি, যা মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আগামী ৩০ বছরজুড়ে তরুণ বা উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। বাংলাদেশের জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ভোগ করার এটাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। জ্ঞানভিত্তিক এ শিল্প বিপ্লবে প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে দক্ষ মানবসম্পদই হবে বেশি মূল্যবান। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে বিপুল পরিমাণ মানুষ চাকরি হারালেও এর বিপরীতে সৃষ্টি হবে নতুন ধারার নানা কর্মক্ষেত্র। নতুন যুগের এসব চাকরির জন্য প্রয়োজন উঁচু স্তরের কারিগরি দক্ষতা। ডাটা সায়েন্টিস্ট, আইওটি এক্সপার্ট, রোবটিকস ইঞ্জিনিয়ারের মতো আগামী দিনের চাকরিগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী তরুণ জনগোষ্ঠী।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, আগামী দুই দশকের মধ্যে মানবজাতির ৪৭ শতাংশ কাজ স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে শ্রমনির্ভর এবং অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতানির্ভর চাকরি বিলুপ্ত হলেও উচ্চদক্ষতানির্ভর যে নতুন কর্মবাজার সৃষ্টি হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করে তোলার এখনই সেরা সময়। দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুত করা সম্ভব হলে কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ভোগ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্য অনেক দেশ থেকে বেশি উপযুক্ত। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হতে পারে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে আজকের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান শুধু মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ও সার্বিক জীবনমানের উত্তরণ ঘটিয়েছে। জাপানের প্রাকৃতিক সম্পদ অত্যন্ত নগণ্য এবং আবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ মাত্র ১৫ শতাংশ। জাপান তার সব প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করেছে জনসংখ্যাকে সুদক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে। জাপানের এ উদাহরণ আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। সুবিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশের পক্ষেও উন্নত অর্থনীতির একটি দেশে পরিণত হওয়া অসম্ভব নয়।
শিল্প-কারখানায় কী ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা লাগবে, সে বিষয়ে শিক্ষাক্রমের তেমন সমন্বয় নেই। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজাতে হবে। প্রাথমিক পাঠ্যক্রম থেকেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সারা দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অফিসের ফাইল-নথিপত্র ডিজিটাল ডকুমেন্টে রূপান্তর করতে হবে। আর নতুন ডকুমেন্টও ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি করে সংরক্ষণ ও বিতরণ করতে হবে। এ বিষয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব এখনো অনুপস্থিত। কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদকেও যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে এ পরিবর্তনের জন্য। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, আইওটি, বøকচেইন এসব প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। এসব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পণ্য সরবরাহ, চিকিৎসা, শিল্প-কারখানা, ব্যাংকিং, কৃষি, শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করার পরিধি এখনো তাই ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত। সত্যিকার অর্থে যেহেতু তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সুফলই সবার কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়নি, চতুর্থ বিপ্লব মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটকু তা আরো গভীরভাবে ভাবতে হবে। ব্যাপক সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে তা করা সম্ভব। উল্লেখ্য, শুধু দক্ষ জনগোষ্ঠী নেই বলে পোশাক শিল্পের প্রযুক্তিগত খাতে কমবেশি তিন লাখ বিদেশী নাগরিক কাজ করেন। অবাক হতে হয়, যখন দেখা যায় প্রায় এক কোটি শ্রমিক বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম কওে দেশে যে রেমিট্যান্স পাঠান, তার প্রায় অর্ধেকই চলে যায় তিন লাখ বিদেশীর হাতে। তাই শুধু শিক্ষিত নয়, দেশে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু দেশেই নয়, যারা বিদেশে কাজ করছেন তাদেরও যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠাতে হবে। বিদেশে এক কোটি শ্রমিক আয় করেন ১৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ভারতের ১ কোটি ৩০ লাখ শ্রমিক আয় করেন ৬৮ বিলিয়ন ডলার। কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অদক্ষতাই তাদের আয়ের ক্ষেত্রে এ বিরাট ব্যবধানের কারণ। সংগত কারণেই উচিত কারিগরি দক্ষতার ওপর আরো জোর দেয়া।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনাটাও জরুরি। আগামী দিনের সৃজনশীল, সুচিন্তার অধিকারী, সমস্যা সমাধানে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার উপায় হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো, যাতে এ দক্ষতাগুলো শিক্ষার্থীর মধ্যে সঞ্চারিত হয় এবং কাজটি করতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে। একই ধরনের পরিবর্তন হতে হবে উচ্চশিক্ষার স্তরে। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য টিচিং অ্যান্ড লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গ্র্যাজুয়েট তৈরির জন্য স্কিল বিষয়ে নিজেরা প্রশিক্ষিত হবেন। উচ্চশিক্ষার সর্বস্তরে শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংযোগ বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষানবিশি কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের কার্যক্রম সম্পর্ক হাতে-কলমে শিখতে পারেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের যে ভিত্তি তৈরি করে গেছেন, সে পথ ধরেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এক যুগের বেশি পথচলায় এখন এটা প্রমাণিত, শেখ হাসিনার এক উন্নয়ন দর্শনের এখন লক্ষ্য ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার।
প্রানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ পরিণত করার প্রধান হাতিয়ার হবে ডিজিটাল সংযোগ। তিনি বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি হবে ডিজিটাল সংযোগ। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজের জন্যে ডিজিটাল সংযোগ মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’ দেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ পরিণত করার প্রধান হাতিয়ার হবে ডিজিটাল সংযোগ। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি হবে ডিজিটাল সংযোগ। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজের জন্যে ডিজিটাল সংযোগ মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ডিজিটাল পণ্য বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন একটি বাস্তবতা। স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট জাতি গঠনই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই।’
‘সরকারি বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট, ভার্চুয়াল বাস্তবতা, উদ্দীপিত বাস্তবতা, রোবোটিকস অ্যান্ড বিগ-ডাটা সমন্বিত ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে চায়। শিল্পাঞ্চলে ফাইভ-জি সেবা নিশ্চিত করা হবে। ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম এখন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন স্থাপন করেন। যার মাধ্যমে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়।
সরকার ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচনী অঙ্গীকারে রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশী জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করেছে, যা সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। গত বছর সিত্রাং ঘুর্ণিঝড়ের সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় বিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছেন। স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ এখন বিশ্বের স্যাটেলাইট পরিবারের ৫৭তম গর্বিত সদস্য। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে বহুমুখী কার্যক্ষমতা সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার ২০২৪ সালের মধ্যে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করতে যাচ্ছে। কারণ, ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা অর্জন করেছে । প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা ৭২০০ জিবিপিএসে উন্নীত করা হবে। তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের পর এটি ১৩ হাজার ২০০ জিবিপিএসে উন্নীত হবে। সৌদি আরব, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া ও ভারতকে ব্যান্ডউইথ লিজ দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৪.৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। বাংলাদেশকে আর বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করতে হবে না। সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ গিগাবাইট ক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে যা জনগণ ও সরকারি অফিসগুলোতে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে সহায়তা করে। সারাদেশে মোট ৮ হাজার ৬০০টি পোস্ট অফিসকে ডিজিটালে পরিণত করা হয়েছে।
বর্তমানে ১৮ কোটি ৬০ লাখ মোবাইল সিম ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডিজিটাল বৈষম্য এবং দামের পার্থক্য দূর করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকায় টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাদেশে এক দেশ এক রেট একটি সাধারণ শুল্ক চালু করা হয়েছে। সারাদেশে বৈষম্যহীন ”এক দেশ এক দর’ শুল্ক ব্যবস্থা চালু করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ অ্যাসোসিও (এএসওসিআইও)-২০২২ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।’
যিনি নিজের মেধা খাটিয়ে পণ্য উৎপাদনের জন্য কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাকে বলে উদ্যোক্তা। আর তার নতুন উদ্যোগকে বলে স্টার্টআপ। নতুন উদ্যোগের বিষয়ে একজন উদ্যোক্তাকে যেসব বিষয়ের ওপর লক্ষ্য রাখতে হয় তা লো ব্যবসায়িক কলাকৌশল, পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন। ব্যবসা শুরু করার পূর্বে এসব জানা প্রয়োজন। যেকোনো ব্যবসায়ের শুরুতে প্রথম যে কাজটি চ্যালেঞ্জিং সেটি হলো বিজনেস প্ল্যান। সফল ব্যবসার জন্য এখন বলিষ্ঠ উদ্যোক্তার প্রয়োজন। এই উদ্যোক্তা প্রথমেই নির্ধারণ করবেন পণ্য বা সেবাটি কী এবং ব্যবসাটি কোথায় অবস্থিত হবে। এসব নির্ধারণের ওপর ভিত্তি করে একটি ব্যবসার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্টাডি পরিচালনা করতে হবে এবং প্রস্তাবিত ব্যবসার একটি সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল প্রস্তুত করতে হবে। অতঃপর উদ্যোক্তাকে একটি ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। প্রজেক্টের ধরন, স্থান, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে, একজন উদ্যোক্তাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অগ্রসর হতে হবে। সারা দুনিয়াতে স্টার্টআপ একটা আকর্ষণীয় উদ্যোগ। সিলিকন ভ্যালি থেকে জন্ম নেওয়া স্টার্টআপগুলো এখন সারা বিশে^ দাপটের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার করেছে। ভারত ইতিমধ্যে অত্যন্ত ব্যবসাসফল কিছু স্টার্টআপ সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে বেশ কিছু জায়ান্ট স্টার্টআপ সফলতার দেখা পেয়েছে। এর মধ্যে আছে বিকাশ, পাঠাও কিংবা ফুড পান্ডার মতো স্টার্টআপ যেগুলো ইতিমধ্যে বড় বড় সমস্যা সমাধান করার পাশাপাশি প্রচুর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক লেনদেন করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে ‘স্টার্টআপ’ শব্দটা প্রায়ই ‘নতুন উদ্যোগ’-এর একটা প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার হয়। যদিও অনুবাদ করলে স্টার্টআপের অর্থ দাঁড়ায় নতুন ব্যবসা। ধরে নেওয়া যেতে পারে, সব স্টার্টআপই নতুন উদ্যোগ, তবে সব নতুন উদ্যোগ যে স্টার্টআপ, ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। যেকোনো নতুন উদ্যোগ হয় স্টার্টআপ, নয়তো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই। তবে উদ্যোগটা স্টার্টআপ নাকি একটি এসএমই চিন্তাধারাই প্রভাবিত করবে কোম্পানির ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত, ব্যবসায়িক বিকাশ এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদনের যোগ্যতা।
এসএমই এবং স্টার্টআপের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো একটি স্টার্টআপ সেটা ১ বছরে, অথবা তারও কমে করার স্বপ্ন দেখে, একটা এসএমই তা ১০ বছরে করে। যেকোনো স্টার্টআপ থেকে বিনিয়োগকারীরা সবার আগে যা আশা করে, তা হলো ব্যবসা স্কেলাপ করতে পারার সম্ভাবনা। সে জন্য সবার আগেই প্রয়োজন একটা বড় বাজার বা মার্কেট নিয়ে কাজ করা। বড় অর্থাৎ শুধু কতজন গ্রাহক আছেন তা নয়, বরং মোট কত টাকার ব্যবসা করা সম্ভব, সেটা।
আপনি যে মার্কেটে কাজ করছেন, সেটা বড় নাকি তা বোঝার একটি উপায় হলো বিনিয়োগের বিপরীতে প্রবৃদ্ধি মেপে দেখা। যেমন-আপনি যদি প্রথমবার ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে পাঁচজন গ্রাহক পেয়ে থাকেন, দ্বিতীয়বার ১০০ টাকা বিনিয়োগে আপনাকে অবশ্যই সাতজন গ্রাহক পেতে হবে এবং তৃতীয়বার অবশ্যই নয়জন। এ রকম যদি হয়ে থাকে, আপনার প্রতিষ্ঠানটি এমন একটা সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখছে, যার বাজার অংশ বেশ বড়।
আরেকটু ভেঙে বলা যায়। ধরুন একটি ব্যাংক, যেটা গতানুগতিক পদ্ধতিতে টাকা জমা নিচ্ছে ও হস্তান্তর করছে। প্রতিটি লেনদেনের জন্য তাদের আলাদা করে কাজ করতে হবে। যত বেশি লেনদেন করতে চাইবে, তাদের তত বেশি মানুষ নিয়োগ করতে হবে। এতে ব্যবসার পরিধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের লোকবল ও খরচ বাড়বে। এবার ধরুন বিকাশ অথবা পাঠাওয়ের মতো প্রতিষ্ঠান। তাদের যে প্রযুক্তি রয়েছে, এতে বর্ধিত লেনদেনের জন্য আরও লোকবল নিয়োগের প্রয়োজন নেই। অতএব ব্যবসার পরিধি দ্বিগুণ হলেও খরচ দ্বিগুণ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। তার ব্যবসার পরিধি যত বাড়বে, প্রতি লেনদেনে লভ্যাংশ আরও বেশি বাড়বে।
প্রতিটি উদাহরণেই দেখা যাচ্ছে, একটি স্টার্টআপের স্কেলাপ করার ক্ষমতা অনেক গুণ বেড়ে যায় যদি সেটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে থাকে বা একটি টেকনোলজিক্যাল সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। তবে শুধু যেকোনো সাধারণ টেক ব্যবহার করলেই যে স্টার্টআপটি সফল হবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যে কিছু সফল স্টার্ট প্রচুর রেভিনিউ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ফুডপান্ডা কিংবা পাঠাওয়ের মতো সংস্থার অপর পিঠ হলো, শুরুর অবকাঠামো দাঁড় করতে যথেষ্ট বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় এবং লাভ করতে হলে ন্যূনতম একটি আয়তনে পৌঁছতে হয়। এ কারণেই একটি স্টার্টআপের জন্য প্রথম কয়েক বছর সবচেয়ে জরুরি হলো বিনিয়োগ করে করে বাজার দখল করা, মুনাফা করা নয়। সে কারণেই স্টার্টআপের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক বছর বিনিয়োগের প্রয়োজন অনেক বেশি।
একটি স্টার্টআপ সাধারণত শুরুতেই লভ্যাংশ দেয় না। যদি কোনো বিনিয়োগকারী শুরুতেই আশানুরূপ লভ্যাংশ পাওয়ার আশা করে থাকেন, তা হলে তার অন্য কোথাও বিনিয়োগ করাই ভালো। এসএমইর ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই লাভ করা সম্ভব, যাতে করে অল্প কিছু বছরের মধ্যেই কোম্পানি লাভজনক হয়ে যেতে পারে আর বিনিয়োগেরও তেমন প্রয়োজন হয় না।
একটি স্টার্টআপ এবং একটি এসএমই- দু’টোই নতুন উদ্যোগ হলেও দুটি ব্যবসার ধাঁচ এবং ঝুঁকি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি স্টার্টআপে ঝুঁকি যেমন বেশি, বিনিয়োগের ওপর রিটার্নও অনেক অনেক বেশি। অতএব বিনিয়োগ করার আগে উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীর ভালোমতো বুঝে নিতে হবে উদ্যোগটি কোন ধাঁচের, এতে ঝুঁকি কেমন এবং রিটার্নের সম্ভাবনা কেমন। নইলে পরে ব্যবসার পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্ব›দ্ব তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল স্টার্টআপের সম্ভাবনা ব্যাপক। বর্তমান সরকার প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) এক হিসাব দেখাচ্ছে, গেল বছর বাংলাদেশে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। এদের ৯৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ গ্রাহক মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখ। এর অর্থ, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বড় অংশটিই তাদের মোবাইলের মাধ্যমে তা ব্যবহার করেন। এ ছাড়া জনসংখ্যার ৬০ ভাগ তরুণ। গড় বয়স ২৫-এর কাছাকাছি।
তাই তরুণদের মাঝে স্টার্টআপের প্রতি আগ্রহেরও কমতি নেই। তাই প্রতিদিনই স্টার্টআপ জন্ম নিচ্ছে। এখন দেশে ১২শরও বেশি আইটি কোম্পানি আছে। গত নভেম্বরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান যে, এ খাত থেকে ২০১৭ সালে আয়ের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালে ৮ হাজার কোটি স্পর্শ করবে। ২০২১ সালে এ খাত থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
এ বছর নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে ঋণ দিতে ৫০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। ঋণ দেওয়া যাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদে। প্রত্যেক ব্যাংককে এ তহবিলের ঋণের ন্যূনতম ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাকে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল উদ্যোগের জন্য ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি যেকোনো উদ্যোক্তা এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন। ফলে নতুন একটি স্টার্টআপ শুরু করার এখনই সময়।
এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে হাইওয়েটু আ ১০০ ইউনিকর্নস উদ্যোগ চালু করেছে মাইক্রোসফট। ভারতে এ উদ্যোগের সফলতার পর বাংলাদেশে একই উদ্যোগ চালু করল মাইক্রোসফট। এ উদ্যোগের আওতায় উদ্ভাবনী স্মার্টআপগুলোকে উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে সত্যিকার অর্থেই যেসব স্টার্টআপের বৈশ্বিক বিস্তৃৃতির সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে খুঁজে বের করতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে মাইক্রোসফট সরকার ও খাতসংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কাজ করবে। বাংলাদেশে স্টার্টআপগুলোর জন্য সহায়তামূলক ইকোসিস্টেম তৈরিতে মাইক্রোসফটে আমরা কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান বাজার বিশ্বের দ্রæতপ্রবৃদ্ধিশীল অর্থনীতির মধ্যে অবস্থান কওে নেবে। এক্ষেত্রে ইনোভেটর, ডিসরাপটর এবং ফার্স্ট-মুভার হিসেবে স্টার্টআপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১৬টি দেশের বাংলাদেশ, ভুটান, ব্রæনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের হাইওয়েটু আ ১০০ ইউনিকর্নস উদ্যোগের অংশ হতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির প্রভাবে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা কমে যায় ও সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। তবে এত সব ঘটনার মধ্যেও ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে ভালো আয় করতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ভালো অবস্থানে ছিল না। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টক দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংক খাতে অস্থিরতার কারণে প্রযুক্তি খাত কিছুটা সহায়তা পেয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩৮টি কোম্পানির মধ্যে ৮১ শতাংশ তাদের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রথম প্রান্তিকে বেশি আয়ের কথা জানিয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী ঘুরে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে অ্যালফাবেট প্রতি মিনিটে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৮০ ডলার আয় করেছে। মূলত সার্চ ইঞ্জিন ও ক্লাউড ইউনিটের ব্যবসার মাধ্যমে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেছে এবং প্রথমবারের মতো লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ৬ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অ্যালফাবেটের বর্তমান বাজারমূল্য ১ দশমিক ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার। মাইক্রোসফট প্রথম প্রান্তিকে প্রতি মিনিটে ৪ লাখ ৮ হাজার ১৭৯ ডলার আয় করেছে। ক্লাউড ব্যবসার পাশাপাশি লিংকডইন থেকে এ আয় হয়েছে। কোম্পানিটি জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত ৫ হাজার ২৯০ কোটি ডলার আয় করেছে। এর বাজার হিস্যা ২৮ শতাংশ বেড়েছে এবং বাজারমূল্য ২ দশমিক ২৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি উৎপাদনের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে টেসলা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৭৫ ইউনিট গাড়ি সরবরাহ করেছে। এর মাধ্যমে মাস্কের কোম্পানি প্রতি মিনিটে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮৩ ডলার আয় করেছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে লভ্যাংশ ২৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৩০ কোটি ডলারে উত্তীর্ণ হয়েছে।
ভিডিও স্ট্রিমিং পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স প্রথম প্রান্তিকে ৮১৬ কোটি মুনাফা আয় করেছে। এ প্ল্যাটফর্মটি প্রতি মিনিটে ৬২ হাজার ৯৬২ ডলার আয় করেছে। বর্তমানে এর বাজারমূল্য ১৪ হাজার ৬৬৬ কোটি ডলার।
ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা ৩১ মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে প্রতি মিনিটে ২ লাখ ২০ হাজার ৬৭৯ ডলার আয় করেছে। এ সময় ফেসবুকের দৈনিক ও মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০৪ কোটি ও ২৯৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানিটি ২ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার আয় করেছে এবং এর বর্তমান বাজারমূল্য ৬১ হাজার ৬৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রেকর্ড করেছে অ্যামাজন। কোম্পানিটি প্রতি মিনিটে ৯ লাখ ৮৩ হাজার ২৪ ডলার আয় করেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে স্পর্শবিহীন কেনাকাটা ও অনলাইন লেনদেন বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ কারণে অ্যামাজনে গ্রাহকের অংশগ্রহণও বেড়েছে। সিয়াটলভিত্তিক কোম্পানিটির আয় প্রথম প্রান্তিকে ১২ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে এর বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
হীরেন পণ্ডিত: প্রাবন্ধিক ও রিসার্চ ফেলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

https://www.chicagokebabrestaurant.com/

sicbo

roulette

spaceman slot