Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কারণ ও উদ্দেশ্য


হীরেন পণ্ডিত: ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বাঙালি জাতির জীবনে এক বেদনাসিক্ত ও কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই দিনেদেশ-বিদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে বাঙালি জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হন। সেদিন আরো শহীদ হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী, তিন ছেলেসহ পরিবারের উপস্থিত সব সদস্য, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি কৃষক নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও তার পরিবারের সদস্যরা এবং বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ শেখ মনির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও সেদিন রেহাই পাননি। বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিলও নিহত হন। কামানের গোলার আঘাতে মোহাম্মদপুরে ১৩ জন নিরীহ মানুষও সেদিন নিহত হন।

এ ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ভাগ্যক্রমে সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সেদিন যাদের হত্যা করা হয়েছিল তারা প্রত্যেকেই ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চরম শত্রু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবমুক্ত করা দলিলের ভাষ্যমতে, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে কতগুলো খাঁটি দেশপ্রেমিক ও সৎ লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে কিন্তু তাদের দেশপ্রেম ও সততা প্রশ্নাতীত।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের আদলে রূপান্তরিতকরণের এই ষড়যন্ত্র কখনও সম্ভব হতো না এটা কুশীলবরা বুঝতে পেরেছিলো। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যদি বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল কারণ না জানে বাংলাদেশ কখনও মর্যাদাশীল, কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ ও লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে ১৯৭২-এর সংবিধানে। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহযোগী, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ১৯৭২-এর সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন তাঁরা বাঙালী জাতির আশা-আকাক্সক্ষা সম্পর্কে সম্যকরূপে অবগত ছিলেন। ১৯৭২-এর সংবিধানে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য যে চারটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছিল সেগুলো হচ্ছে- ১) জাতীয়তাবাদ, ২) গণতন্ত্র, ৩) সমাজতন্ত্র ও ৪) ধর্মনিরপেক্ষতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এভাবেই ধারণ করা হয়েছে হয়েছে ১৯৭২-এর সংবিধানে।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালী জাতির সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামকে পাকিস্তানী শাসকরা আখ্যায়িত করেছিল পাকিস্তানের অখণ্ডতা ও ইসলামবিরোধী ভারতীয় চক্রান্ত হিসেবে। পাকিস্তানী শাসক এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীরা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকেও একইভাবে পাকিস্তান ও ইসলামবিরোধী ভারতীয় চক্রান্ত বলেছে। মুক্তিযোদ্ধারা ছিল তাদের বিবেচনায় ‘দুষ্কৃতকারী’, ‘ভারতের চর’ ও ‘ইসলামের দুশমন’।

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের আন্তর্জাতিক প্রভুদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টো বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালাতে থাকেন এবং বাংলাদেশের চরম ডান ও বামপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। আমেরিকান গবেষক ও লেখক স্টেনলি ওলপার্টের মতে, ‘ভুট্টো দুই বছর ধরে আব্দুল হকসহ অন্যান্য মুজিববিরোধী দলকে অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য অব্যাহত রাখেন এবং বিনিময়ে ১৯৭৫ সালের আগস্টে ফল লাভ (মুজিব হত্যা) করেন।’ দুই বৃহৎ শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধাচরণ করায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে তাদের নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থন থাকাটাও অস্বাভাবিক কিছু ছিলো না।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রথম বিপ্লব তিন বছর পর ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু নতুন যে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনে উদ্যোগী হন, তাকে তিনি দ্বিতীয় বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেন। দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির মধ্যে ছিল সরকার পদ্ধতির পরিবর্তন সংসদীয় পদ্ধতির স্থলে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা, সব দল বিলুপ্ত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দল ও সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় দল গঠন, চারটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার অনুমতি, মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করা, জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে জনপ্রতিনিধি বা গভর্নর নিয়োগ, সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, পল্লী অঞ্চলে হেলথ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা, প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার ব্যবস্থার সংস্কার ইত্যাদি।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ। তিনি ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার আগে কলকাতায় হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় একজন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দাঙ্গা আক্রান্ত মানুষের জীবন রক্ষার্থে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। এ দাঙ্গা তার মনে ভীষণ দাগ কাটে। মুক্তিযুদ্ধের পর সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর সুস্পষ্ট বক্তব্য: ‘রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে, যারা সাম্প্রদায়িক তারা হীন-নীচ, তাদের অন্তর ছোট। যে মানুষকে ভালোবাসে সে কোনোদিন সাম্প্রদায়িক হতে পারে না।’

১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ অর্থ ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান ইসলাম ধর্ম পালন করবে। হিন্দু হিন্দু ধর্ম পালন করবে। খ্রিস্টান তাদের ধর্ম পালন করবে। কেউ কাউকে বাধা দিবার উচিত না, দিতে পারবে না।’ বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গিকে ষড়যন্ত্রকারীরা ধর্মহীনতা বা নাস্তিকতা বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে এবং দেশে ও বিদেশে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অথচ বঙ্গবন্ধু কখনই ইসলাম বা ধর্মবিরোধী ছিলেন না। স্রষ্টার প্রতি তার ছিল অগাধ বিশ্বাস। ৭ মার্চের ভাষণেও তার স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখেই ‘ইনশাআল্লাহ’ দিয়ে তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের সমাপ্তি টানেন।

১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা কোনো গুরুতর অপরাধ অর্থাৎ হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেনি, শুধু তাদের ক্ষমা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী বিচারের অপেক্ষায় কারাগারে বন্দি ছিল। ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করে রাতারাতি সব যুদ্ধাপরাধীকে মুক্ত করে দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করার ফলে রাজাকাররা সমাজে বুক ফুলিয়ে হাঁটে। শহীদ পরিবারের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। মানবতা লঙ্ঘনকারীদের অন্যায় কাজ করতে আরো উৎসাহ জোগায়।

মুক্তিযুদ্ধের পরও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্ত অব্যাহত ছিল। ১৯৭২-এর ৪ নভেম্বর গণপরিষদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর সদ্যস্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর তা যৌক্তিক কারণেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়। ১৯৭২-এর সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি তাদের বিবেচনায় ছিল ইসলামবিরোধী ভারতীয় চক্রান্ত। ধর্মনিরপেক্ষতাকে এখনও তারা মনে করে ধর্মহীনতা, যার সঙ্গে সত্যের কোন সম্পর্ক নেই। ১৯৭২-এর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছেন- “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়; তাতে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্ম-কর্ম করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা আইন করে ধর্মকে নিষিদ্ধ করতে চাই না এবং করব না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। ২৫ বছর আমরা দেখেছি ধর্মের নামে জুয়া, চুরি, ধর্মের নামে বেঈমানী, ধর্মের নামে অত্যাচার, খুন, ব্যভিচার বাংলাদেশের মাটিতে চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে যে, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে- আমি বলব, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা করেছি।” (গণপরিষদের ভাষণ, ৪ নভেম্বর, ১৯৭২)

পৃথিবীর বহু দেশের সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ১৯৭২-এর সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে ধর্মকে বিযুক্ত করার জন্য ধর্মের নামে রাজনৈতিক দল গঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের সংবিধানেও নেই। প্রকৃতপক্ষে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের বাইরে কোথাও সাংবিধানিকভাবে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি।

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ শীর্ষক অধ্যায়ে চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যাসহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মালিকানার নীতি, কৃষক শ্রমিকের মুক্তি, মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা, সুযোগের সমতা, নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ, জাতীয় সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন বিষয়ক বিধিমালায় একটি প্রগতি ও শান্তিকামী আধুনিক রাষ্ট্রের যাবতীয় অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল তাদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় আছে। তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল রাজনৈতিক কারণে। যদিও এ কথা বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে- সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চাভিলাষী অধঃস্তন কর্মকর্তা নিছক ক্ষমতার লোভে তাঁকে হত্যা করেছে, এর ভেতর কোনও রাজনীতি নেই। কারণ আত্মস্বীকৃত খুনীদের কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল, কিন্তু প্রকৃত সত্যের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই।

বঙ্গবন্ধু হত্যার এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনোভাব পরবর্তীকালে বিচার কার্যক্রমকেও প্রভাবিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় তারা মাঠ পর্যায়ের স্বঘোষিত ঘাতক। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, প্রশ্রয় ও মদদদানকারী, হত্যার বেনিফিসিয়ারিরা পর্দার আড়ালেই থেকে গেছে।

বঙ্গবন্ধু কর্তৃক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেয়ার একটি পটভূমি রয়েছে। স্বাধীনতা-উত্তর বঙ্গবন্ধু সরকারকে এক চরম বৈরী অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। সশস্ত্র ডাকাতি, লুটতরাজ, ঘুষ, দুর্নীতি, কালোবাজারি, মজুদদারি, ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নবগঠিত সরকারের পক্ষে মোকাবেলা করা খুবই কঠিন ছিল। তৎকালীন চরম বামপন্থী কিছু সংগঠন যেমন সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বাধীন সর্বহারা পার্টি, আব্দুল হকের পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, আ স ম আব্দুর রবের জাসদসহ আরো কিছু চরমপন্থী দল থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, বাজার ও ব্যাংক লুট, পাটের গুদামে আগুন, রেললাইনের স্লিপার উপড়ে ফেলা, শ্রেণী শত্রু খতমের নামে মানুষ হত্যা, সংসদ সদস্য হত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে কার্যত সরকারের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং দেশে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। অধিকন্তু আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে চরম অনৈক্য, কিছু নেতাকর্মীর সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতিপরায়ণতার কারণেও বঙ্গবন্ধু অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ওই সময় বিভিন্ন বক্তৃতায় আক্ষেপ করে বলতেন, ‘সবাই দেশ স্বাধীন করে পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি’। এমন রাজনৈতিক পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু তার দ্বিতীয় বিপ্লবের সূচনা করেন। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি এবং এ নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও বঙ্গবন্ধুকে বিকল্প কিছু ভাবতে উৎসাহিত করে। তিনি একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসক হওয়ার অভিলাষ থেকে সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন করেননি।

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য হ্রাস পায়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার কৃষিজাত ফসল ও পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের তথ্য অনুসারে ১৯৭৪-৭৫ সালে দেশে সামষ্টিক আয়ের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.৫-৭.০ শতাংশ হয়, যেটি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তার পরও ষড়যন্ত্রকারীরা বাকশাল সম্পর্কে অপপ্রচার চালাতে থাকে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে।

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা একের পর এক চক্রান্তের ফাঁদ পেতেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী উচ্চাভিলাষী কয়েকজন সদস্যকে ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যবহার করেছে ওই চক্রান্তেরই বাস্তবে রূপ দিতে। এরাই স্বাধীনতার সূতিকাগার বলে পরিচিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে হামলা চালায় গভীর রাতে। হত্যা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে।

বিশ্ব ও মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেদিন তারা কেবল বঙ্গবন্ধুকেই নয়, তার সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশার অর্জন স্বাধীনতার আদর্শগুলোকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। মুছে ফেলতে অপপ্রয়াস চালিয়েছিল বাঙালির বীরত্বগাথার ইতিহাসও।

বঙ্গবন্ধুর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড বাঙালি জাতির জন্য করুণ বিয়োগগাথা হলেও ভয়ঙ্কর ওই হত্যাকাণ্ডে খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আড়াল করার অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি খুনিরা পুরস্কৃতও হয়েছে নানাভাবে। হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

https://www.chicagokebabrestaurant.com/

sicbo

roulette

spaceman slot