জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের অঙ্গীকার


হীরেন পণ্ডিত: বিশ্ব অর্থনীতি চারটি বড় চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, জলবায়ু পরিবর্তন, যুবদের কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিশ্বায়নের গ্রহণযোগ্য কাঠামোর অনুসন্ধান। নতুন গঠিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরবে, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করবে এবং তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গত ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিয়েছেন, তা একসময় ছিল অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয় ছিল। সে তুলনায় এবারের ১১টি খাতকে চিহ্নিত করে পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সেটি দেশবাসীকে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ৫২ বছর পর বাংলাদেশ পরিচিত হয়েছে উন্নয়নের মডেল হিসেবে। সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করার মাধ্যমে আজ বাংলাদেশ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। বঙ্গবন্ধুর জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের আদর্শকে সামনে নিয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় এটিকে পররাষ্ট্র নীতির মূল বিষয় হিসেবে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
অর্থনীতিতেও সাফল্য অর্জন করছে। বাংলাদেশের অব্যাহত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বিস্মিত করেছে। এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সমাজে বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে ১১টি বিষয়কে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, আয়ের মধ্যে সঙ্গতি প্রতিষ্ঠা, দেশের রূপান্তর ও উন্নয়নে তরুণ এবং যুব সমাজকে সম্পৃক্ত রাখা, পুঁজি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘুষ-দুর্নীতি উচ্ছেদ, ঋণ-কর-বিল খেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় এনে তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রতিশ্রতি দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া গুরুত্ব পেয়েছে কৃষি, সেবা, অর্থনৈতিক ও শিল্প উৎপাদন খাত, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মৌলিক অধিকারও নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে পরিবর্তন বাংলাদেশে ঘটাতে পেরেছেন তা একসময় ছিল অকল্পনীয়। টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা ছিল, সব মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ নিয়ে এসেছেন। এতে এটি প্রমাণ হয় যে এই মেয়াদে তিনি অর্থ, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া দুর্নীতি, সুশাসনকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত দলীয় ইশতেহারেও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই মেয়াদে সরকার পরিবর্তন আনতে চাইছেন, সেটি তখনই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ১১টি জনগুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন, লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষিব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটানো, ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা, সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, সাম্প্রদায়িকতা ও সব ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ রোধ করা এবং সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার ঘটানো। আর্থিক খাতে এবার বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ রয়েছে সরকারের পরিকল্পনায়। ব্যয় সংকোচনের জন্য বাজেটেও কম গুরুত্বের প্রকল্প কাটছাঁট করা হয়েছে। করোনার পরপরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতির লাগাম ধরে রাখা যায়নি। এ ছাড়া দেশ থেকে অর্থ পাচার বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট অন্যতম। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এখন ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থানে আগে থেকেই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত ও টেকসই উন্নয়নের বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সুশাসন খুবই জরুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের, দলের নেতাকর্মীদের ও প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের, সর্বোপরি দেশের জনগণকেও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১৫ বছরে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রশ্নে সরকারের ভাবমূর্তি ভালোই বলা যায়, তবে আরও ভালো হওয়া প্রয়োজন ছিল, আশানুরূপ সাফল্য আসেনি এবার জনগণ প্রতীক্ষায় আছে দুর্নীতিমুক্ত একটি স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দুর্নীতি দমনের অভিযানকে সফল করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ-উদ্যমকে একযোগে কাজে লাগাতে হবে। তবে এই কঠিন লক্ষ্যে সফলতা অর্জনের একটি পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। যদি সংঘবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে দুর্নীতির কদর্য চেহারাকে পরিচিত করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এবং জনস্বার্থে এর কুফল সম্পর্কে তথা জনসচেতনতা সৃষ্টি করা যায়, তা হলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

জনগণের প্রত্যাশার কথা ও এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছে সরকার এবং পরিবর্তন করার কথা বলছে। একটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের কাছ থেকে মানুষ এমন কথাই শুনতে চায়। দেখতে চায়, যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার, সরকার সেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। সংকটের নিরসনও করতে হবে সরকারকেই। সরকার নির্বাচন-পরবর্তী মুহূর্ত থেকেই কী কী সমস্যার সমাধান জরুরি, সেসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে করেছে। সামনে অনেক রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমতও অনেকটা এ রকমই। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা। অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাণিজ্য ও বাজার। মুদ্রাস্ফীতির হার কমিয়ে আনা। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ঠিক রাখা। আমদানি-রফতানিকে কীভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা যায়, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না বাড়িয়ে কর আদায় বৃদ্ধি করা যায়, সেসব উপায়ও খুঁজতে হবে। দুর্নীতি এখনও বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগ দুর্নীতির ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করেছিল, কিন্তু গত পাঁচ বছরে সরকার এ অঙ্গীকার পূরণকে খুব একটা সফলতার মুখ দেখেনি সরকার। বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় ঊর্ধ্বগতি ও ডলার-জ্বালানি সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধসহ নানামুখী সমস্যায় বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা পর্যুদস্ত। এ সংকট শিগগিরই দূর হয়ে সেটি ভাবা যাচ্ছে না।

দেশের অর্থনীতিকে মোটামুটি সচল রাখা পোশাক শিল্পেও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে দেখা যায়। কতিপয় সুযোগসন্ধানী অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছে। একের পর এক হরতাল-অবরোধে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় একসঙ্গে যতগুলো সংকট এসেছে, তা অতীতে কখনো মোকাবিলা করতে হয়নি। সেটিরই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের ওপর। বাইরের এ ধরনের সংকট এলে আমরা ঠেকাতে পারব না। আমরা কোনো রকম রাজনৈতিক অস্থিরতা চাই না, হরতাল-অবরোধ চাই না। এসব করে অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করা হয়েছে। কাজেই দেশের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে সংকটগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে তা না হলে রিজার্ভ- রেমিট্যান্স, রফতানি আয় ছাড়াও রাজস্ব ও ব্যাংক খাত নিয়ে যে ভয়াবহ উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন হবে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসাই হবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকার আইএমএফ ও অন্য দাতাদের কাছ থেকে যেসব সংস্কারের শর্তে ঋণ পাচ্ছে, নির্বাচনের পর সেগুলো বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো ব্যাপারে শঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়। বড় ধরনের কোনো সংস্কার ছাড়া অর্থনীতির সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে। কাজেই অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে হলে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ প্রয়োজন, তার ওপরই অর্থনীতির সংকট উত্তরণ নির্ভর করবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।
আমাদের মানসম্মত ও কারিগরি শিক্ষার ওপর নজর দিতে হবে। শিক্ষা শেষ করে লাখ লাখ তরুণ দক্ষতার অভাবের কারণে চাকরি খুঁজে পায় না। দেশের অভ্যন্তরে যেমন শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, প্রবাসেও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন জনসম্পদের চাহিদা রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে শৃঙ্খলা, ব্যবস্থাপনা, দক্ষ ও মেধাবী প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের কৃষিব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বহুমুখী ফসল উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণনব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রয়োগ করেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। কৃষিব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

সংকট দূর করে উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে অনুকূল পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও সহিষ্ণুতা না থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনো টেকসই হয় না। নানা ধরনের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখতে হলে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সুশাসন দরকার। যেকোনো সমস্যা সমাধানে যৌক্তিক আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতায় দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের অবস্থান থেকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতার পাশাপাশি জনমত গঠন জরুরি। সব অপতৎপরতা প্রতিরোধ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দেশ গঠনে মনোযোগ দিতে হবে।

দুর্নীতি মারাত্মক ব্যাধির মতো সমাজ, প্রশাসনসহ সর্বত্র বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতির কথা ঘোষণা করেছেন। তার এই ঘোষণার যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। দ্রব্যমূল্য গত দুই বছর লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ছিল। সরকার স্বল্প আয়ের মানুষদের কষ্ট লাঘবের জন্য টিসিবিকে সক্রিয় করে এক বছর ন্যায্যমূল্যে কিছু পণ্য ক্রয় করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
বাংলাদেশকে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল না থেকে শিল্পের বহুমুখীকরণের দিকে এখনই গুরুত্ব দিতে হবে এবং রফতানি বহুমুখী করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছেন। সেগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো, বিদেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা যায়, সে বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে পারে। আমাদের সমাজে দুর্নীতি নানাভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সমাজে যোগ্য মেধাবী, দক্ষ ও অভিজ্ঞরা ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সব ধরনের প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি, সেবা, পরিষেবায় স্বচ্ছতা নিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *