Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার মূল প্রেরণা

হীরেন পণ্ডিত: বঙ্গবন্ধু পরাধীন বাঙালি জাতিকে দেখিয়েছেন স্বাধীনতার স্বপ্ন। শুধু স্বপ্নই দেখাননি, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বিশ্ব সভায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন অসংখ্য ভাষণ দিয়েছেন। কিন্তু যে ভাষণ দিয়ে তিনি নিপীড়িত বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, সেটি হলো ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ। এটি তিনি ঢাকার বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দিয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে, ৭ মার্চের ভাষণদানকালে রেসকোর্স ময়দানে ১০ লাখ লোক উপস্থিত হয়েছিল। মাত্র ১৯ মিনিটের জ্বালাময়ী ভাষণ শুধু সেদিনের মুক্তিপাগল মানুষকেই মুক্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করেনি অনেকেই বলেছিলেন ৭ মার্চের ভাষণ ছিল আমাদের জন্য গ্রিন সিগন্যাল। তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ পরবর্তী সময়ে নতুন প্রজন্মকেও দারুণভাবে নাড়া দেয়। এখনো তাঁর ভাষণ তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খল ভাঙার প্রেরণা জোগায়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ লাখো মানুষের পদচারণায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল শ্লোগানের শহর ঢাকা। রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্রে অপেক্ষা করছেন দশ লাখের বেশি স্বাধীনতাকামী মানুষ। শুধু একটা ঘোষণা বা ডাকের অপেক্ষায়, আগের দিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি উত্তেজনায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন- বঙ্গবন্ধু আজ কী বলবেন- কী নির্দেশ দেবেন জাতিকে! সাহসী বাঙালির একমাত্র ইচ্ছা চার অক্ষরের একটি প্রিয় শব্দ ‘স্বা-ধী-না-তা’ স্বাধীনতা! ১৯৭১ সালের এই ঐতিহাসিক দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।’ রেসকোর্সে জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া জাতির পিতার এই কালজয়ী ভাষণে ধ্বনিত হয়েছিল বাংলার মানুষের প্রাণের দাবি। এ ভাষণে বাঙালি হত্যা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের চিত্র ফুটে ওঠে। শত্রুর মোকাবিলায় তিনি বাঙালি জাতিকে নির্দেশ দেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক।’ জাতির পিতার এই সম্মোহনী ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে।

৬ মার্চ শনিবার মধ্যরাতে একজন ব্রিগেডিয়ার ধানমন্ডির বাসায় যান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বাণী পৌঁছে দেন। একদিকে ইয়াহিয়া খান টেলিফোনে কথা বলেন এবং টেলিপ্রিন্টারে বার্তা পাঠান শেখ মুজিবকে স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ঢাকার জিওসি জে. খাদিম হোসেন রাজা শেখ মুজিবুর রহমানকে সাফ জানিয়ে দেন, ‘৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা হলে সামরিক বাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে জনসভায় হামলা চালাবে। এক কথায় ঢাকা ধ্বংস হয়ে যাবে, যেখানে শাসন করার কেউ থাকবে না। প্রয়োজনে জনসভায় বিমান হামলা করা হবে। উল্লেখ্য, ৭ মার্চের জনসভাকে লক্ষ্য করে ঢাকা সেনানিবাস থেকে কামানটি স্থাপন করা হয়। ওইদিন একটি জলপাই রঙের হেলিকপ্টার সমাবেশে টহল দিয়েছিল। অন্য কথায়, শেখ মুজিব যদি সেদিন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জনসভায় নির্বিচারে গুলি চালাবে এবং এতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না যে শুধু হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু কী করবেন- একদিকে ছাত্রনেতাদের স্বাধীনতা ঘোষণার চাপ- অন্যদিকে জনগণের দাবি- একটু ভুল সিদ্ধান্তে জনগণের কতটা ক্ষতি বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমনকি একটি জাতিকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করা যায়। ওই দিন ৭ মার্চ তাঁর ১০৪ ডিগ্রি জ্বর হয় এবং এই জ্বর নিয়েই তিনি রেসকোর্স ময়দানে আসেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্বের অনেক দেশের উদাহরণ দিয়েছেন এবং একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার ভয়াবহ পরিণতির কথাও পরিবারকে জানিয়েছেন। সিদ্ধান্তহীনতার এই সংকটময় মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু যখন তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে অনেক উদাহরণ পেশ করলেন, তখন বঙ্গমাতা মহিয়সী বেগম ফজিলাতুন্নেসা (বেগম মুজিব) বললেন, ‘না, এটা করা ঠিক হবেনা। ছয় দফার মাধ্যমে তাঁদের নেতাকে হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে, এই ঘোষণা না তাদের অনেক ক্ষতি হতে পারে? পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার অপেক্ষায় আছে। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে; তারা এদশের প্রিয় বাঙালি জাতিকেও ধ্বংস করবে।’ বেগম মুজিবের কথা শুনে বঙ্গবন্ধু নীরবে কিছুক্ষণ নীরবে পাইপ ধরে বসে থাকেন। বেগম মুজিব গৃহিণী হয়েও একজন মহান রাজনীতিবিদ, চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ছিলেন।

বিকাল ৩.১৫ মিনিটে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও কালো মুজিব কোট পরিহিত বঙ্গবন্ধু মঞ্চে এলে বাংলার দশ লাখেরও বেশি বীর জনতা তাদের প্রিয় নেতাকে করতালি ও বিকট শ্লোগানে স্বাগত জানায়। মঞ্চ থেকে মাইকে শ্লোগান দেন ছাত্র (ছাত্র) সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। অবিরাম স্লোগানে গর্জে ওঠে বাংলার আকাশ। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামানসহ আরও অনেকে।

৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ঢাকা বেতারে সরাসরি সম্প্রচারের কথা থাকলেও পাকিস্তান সরকারের হস্তক্ষেপে সেদিন তা প্রচার করা যায়নি। তাৎক্ষণিক হরতালে ঢাকা বেতার স্থবির হয়ে পড়ে। পরে পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ পরের দিন সকালে বঙ্গবন্ধুর রেকর্ড করা ভাষণ সম্প্রচার করতে বাধ্য হয়। সারা বিশ্ব কাঁপানো ভাষণে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

মাত্র ১৯ মিনিটের এই পৃথিবী কাঁপানো বজ্রপাতের ঐতিহাসিক ভাষণটি ছিল হাজার বছরের আবেগ, হাজার বছরের স্বপ্ন, হাজার বছরের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন, যা ছিল বাঙালির মুক্তির দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। বঙ্গবন্ধু দীপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ।’ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় এই ঐতিহাসিক ভাষণই স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং এই ভাষণের মধ্য দিয়েই বাঙালির ভবিষ্যৎ ভাগ্য সুস্পষ্ট হয়েছিল।

‘প্রতিটি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং রাস্তাঘাট যা কিছু আছে – আমি যদি হুকুম দিতে না পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’

বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত প্রতীকী স্টাইলে ভাষণ দেন। একদিকে তিনি স্বাধীনতাকামী জনগণকে দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন, অন্যদিকে পাকিস্তানি শাসকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শুধু একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বমানের কূটনীতিক। ৭ মার্চের ভাষণে তিনি একজন কূটনীতিকের মতো সবকিছুই প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত ২৩ বছর বঞ্চনার ইতিহাস। তিনি ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা পরিকল্পনা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং তৎকালীন পাকিস্তানে বাঙালিদের বঞ্চনার কথা বলেছেন। অলিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মর্ম পাকিস্তানিরা বুঝতে পারেনি। তখন কিশোর ও ছাত্র হিসেবে সকলের একমাত্র দাবি ছিল স্বাধীনতা- আমরা অন্য কোনো ঘোষণা মেনে নেব না। মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণ দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ শেষ করেন। ১৬ কোটি মানুষের সাগরে ‘জয় বাংলা’ বলে- যা আজকের পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ। ৮ মার্চ সোমবার প্রকাশিত ঢাকার ‘দৈনিক ইত্তেফাক’, ‘দৈনিক পাকিস্তান’, ‘দৈনিক আজাদ’, ‘দৈনিক সংবাদ’, ‘দৈনিক সংগ্রাম’, ‘মর্নিং নিউজ’ ও ‘পাকিস্তান অবজারভার’ পত্রিকায় তাকালে বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’কে দেখা যাবে। ৮ই মার্চ, ১৯৭১। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আমাদের চির অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ছিল দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা কারণ এতে পাকিস্তানি দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির জন্য জনগণকে লড়াই করার নির্দেশনা ছিল। ৭ মার্চের ভাষণ শুধু বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ ভাষণই নয়, এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ। ভাষণে রয়েছে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জনগণের নির্দেশনা। ভাষণে পাকিস্তানের ২৩ বছরের দুঃশাসন, শোষণ, নিপীড়ন ও বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু বাঙালিদের পাকিস্তানি শোষণ ও শাসন থেকে মুক্ত করার নির্দেশ দেন এবং একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ ও গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতির রূপরেখা দেন।

বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক লাভ এবং সামাজিক অধিকারের মধ্যে বিভাজন মোকাবেলা করেছিলেন এবং সমস্ত বাঙালির সাধারণ সংগ্রামের সাথে নিজেকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করে জনগণের প্রতি তার পাওনাকে সংযুক্ত করে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াইয়ের প্রতি তাঁর দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। সেই বিন্দু থেকে, বক্তৃতাটি এক ব্যক্তি হিসাবে জড়িত সমস্ত দলের কাজকে সহজ করেছিল- যা আওয়ামী লীগকে প্রভাবিত করে, সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের উপর প্রভাব ফেলে; নিরীহ বাঙালিকে গুলি করা আমাদের হৃদয়ে গুলি করার সমান।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

togel online hongkong

situs togel