Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি শান্তিপদক প্রাপ্তি

হীরেন পণ্ডিত: আজ থেকে ঠিক ৫১ বছর আগে ১৯৭৩ সালের ২৩ মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছিলো শান্তির পদক ‘জুলিও কুরি’। শুধুমাত্র জাতির পিতাকে পদকই তুলে দেওয়া হয়নি, বিশ্ব শান্তি পরিষদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববন্ধু উপাধীতেও ভূষিত করা হয়। ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেনশিয়াল কমিটির সভায় সবার ঐকমত্যে বাঙালীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।

১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় এশীয় শান্তি সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি পদক হস্তান্তর করেন বিশ্ব শান্তি পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল রমেশচন্দ্র। সেদিনের বক্তব্যেও বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন সারাবিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের কথা। ১৯৪৯ সালে বিশ্ব শান্তি পরিষদের যাত্রা শুরুর পর ১৯৫০ সাল থেকে শান্তি পদক প্রদান শুরু হয়। এরপর ১৯৫৮ সালে ফরাসী পদার্থ বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক জুলিও কুরির মৃত্যুর পর ১৯৫৯ সাল থকে শান্তি পদকটির নাম হয় জুলিও কুরি শান্তি পদক। সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদের বিরোধীতা ও মানবতা এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের এ পদক দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পদক প্রাপ্তির ৫১ বছর ও যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

আজকাল মাঝে মধ্যে শোনা যায়, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন তো আর নেই! স্নায়ুযুদ্ধ নেই, পরাশক্তির লড়াই নেই! এককেন্দ্রীক একটি বিশ্ব তৈরি হয়েছে! জোট নিরপেক্ষে আন্দোলন এখন কার্যকর কোন ভ‚মকিা রাখতে পারছে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সুতরাং শান্তি আন্দোলনের দরকারও এখন অনেকটা ফুরিয়ে গেছে! এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য এ নিয়ে অঅলোচনাও প্রাসঙ্গিক নয়। বিশ্বের নিপীড়িত জাতিসমূহ এবং শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির বিরুদ্ধে। এখন বিশ্ব মোড়ল খুব বেশি নয়। তারা কলহপ্রিয়, যুদ্ধবাজ, উগ্র জাতীয়তাবাদকে পুষে, এরা কখনো রেসিস্ট, রেপিস্ট, ধর্মীয় জঙ্গিবাদকে প্রকারান্তরে লালন করে। আবার কখনো নিওফ্যাসিস্ট।

আজকের দুনিয়ায় বাড়ির পাশে আফগান-তালেবান। কিছুটা দূরে প্যালেস্টাইন, ইউক্রেন। সবই সেই যুদ্ধবাজ রাজনীতির খেলা। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মানবাধিকার সনদ কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের নামে সেই যুদ্ধবাজ রাজনীতির খেলাই চলে। সিদ্ধান্ত আর হয় না! তারপরও একে একে বহু দেশ স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে থাকে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জনগণের সংগ্রাম জয়ের পথে আগায়। শান্তি ও মুক্তিকামী জনগণের এরকম বিজয়ের জন্যই আজ শান্তি আন্দোলন দেশে দেশে আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। এরকম এক বিরাট ও মহান সংগ্রামের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বখ্যাত জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তি এরপর ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। পরবর্তিতে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে, জুলিও কুরি শান্তি পদক সংশ্লিষ্ট প্রাচীন ও প্রকৃত সংগঠন বিশ্ব শান্তি পরিষদ তথা বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ ছিল অবহেলিত।

একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে লাখো শহিদের আত্মদান এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মূল নেতৃত্বদানের জন্য, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার অসামান্য প্রচেষ্টা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে সংহতি জ্ঞাপনের জন্য ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্বখ্যাত জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে। বঙ্গবন্ধুর এই পদক প্রাপ্তি ছিল তার সুবিশাল সংগ্রামের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তৎকালীন বিশ্ব রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার বিবেচনায় এই পদক প্রাপ্তির বিষয়টি শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুই নয়, গোটা বাঙালি জাতির জন্য ছিল এক বিশাল গৌরবের ব্যাপার।

বিশ্বের ১৪০ দেশের শান্তি পরিষদের ২০০ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত সকলে একমত হয়েছিলেন যে, সারাজীবনের রাজনীতি আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কত্বের বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদান করার। সে বিবেচনায় বিশ্বশান্তি পরিষদ ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর পদকপ্রাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করে।

জুলিও কুরি হচ্ছে বিশ্ব শান্তি পরিষদের একটি সম্মানজনক পদক। ফরাসি পদার্থ বিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডরিক জুলিও কুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রীর নাম ইরেন কুরি। তারা দুজনেই নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী। ইরিনার মা-বাবাও নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী দম্পতি পিয়েরে কুরি ও মাদাম কুরি। পরে বিশ্ব শান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জুলিও কুরি’ পদক। তার স্ত্রী ও তিনি নোবেল বিজয়ী ছিলেন। নোবেল পদকের আংশিক অর্থ দিয়ে তারা বিশ্ব শান্তি পরিষদকে সমৃদ্ধ করেন। তার কারণে ফ্রেডরিক জুলিও কুরি ও ইরেন জুলিও কুরির নামে এই পদকটি স্থায়িত্ব লাভ করে। ১৬৭ জন বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তি এই পদক লাভ করেন।

পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, চেকোস্লোভিকিয়ার জুলিয়াস ফুচিক, স্পেনের পাবলো পিকাসু, চিলির পাবলো নেরুদা, আমেরিকার পলরবসন, তুরস্কের নাজিম হিকমত, আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং, মিসরের কামাল আবদুল নাসের, সোভিয়েত ইউনিয়নের লিওনেদ ব্রেজনেভ, তানজানিয়ার জুলিয়াস নায়েরে, কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রো, দক্ষিণ ভিয়েতনামের হোচিমিন, চিলির সালভেদর আলেন্দে, ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা, মাদার তেরেসা, কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা, মার্টিন লুথার কিং, ভারতের জওহরলাল নেহরু ও ইন্ধিরা গান্ধীসহ বিশ্ববরেণ্য অনেক রাজনৈতিক নেতা, শিল্পী-সাহিত্যিক ও শান্তির প্রতি নিবেদিতগণ। এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের অনেকেই ওলনিন শান্তি পুরস্কারও পেয়েছেন।
১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এশীয় শান্তি সম্মেলনের এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে সেই পদক বঙ্গবন্ধুকে পরিয়ে দেন পরিষদের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মি. রমেশচন্দ্র। সেই অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রমেশচন্দ্র বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলার নন, তিনি বিশ্বের এবং তিনি বিশ্ববন্ধু।’ এই অনুষ্ঠানেরই একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ এখন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই বিরল সম্মননা অনুষ্ঠান আয়োজনের অগ্রণী সংগঠন বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ। সে সময় এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কমিউনিস্ট নেতা কমরেড আলী আকসাদ। মূলত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্য সংগঠন হিসেবেই বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় এশীয় শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করে। স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এই এশীয় শান্তি সম্মেলনে অনেক গণ্যমান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, দেশ-বিদেশের সন্মানিত অতিথিবৃন্দ, কূটনীতিকগণ এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক এই শান্তি সম্মেলন ছিল এশিয়ার তৎকালীন রাজনীতির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ, সময়টা ছিল পুঁজিবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের স্নায়ুযুদ্ধের সময়।

১৯৬১ সালে বেলগ্রেড শহরে জন্ম নেওয়া জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের ধারণা সারাবিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এই জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার নেতা মার্শাল টিটো, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ, মিশরের গামাল আবদেল নাসের, ভারতের জহরলাল নেহেরু, জাম্বিয়ার কেনেথ কাউন্ডা, ঘানার নক্রুমা, কিউবার ফিদেল ক্যাস্ট্রো, আলজেরিয়ার হুয়েরি বুমেদিনে প্রমুখ। শান্তির জন্য গড়ে ওঠা এই জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফলে শান্তি আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।

বিশ্ব শান্তি পরিষদ কেন সে সময় কারও কারও ভাষায় ‘রাজনৈতিক নোবেল পুরস্কার’ বলে খ্যাত জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মনোনীত করল? সকলের বিবেচনায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব একমাত্র বিবেচনা ছিল না। বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত পুরো সময়কাল জুড়ে বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তির সংগ্রামে বিভিন্নভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর যাপিত জীবনের দিকে তাকালে বিষয়টি সহজেই বুঝা যায়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। জেল থেকে মুক্তি পান ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। আর সে বছরই অক্টোবরে চীনে অনুষ্ঠিত হয় ‘পিস কনফারেন্স অব দ্য এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওন্স’।

বঙ্গবন্ধু এই শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে তিনি বিশ্বের ৩৭টি দেশ থেকে আগত শান্তিকামী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছিলেন। শান্তির সংগ্রামে চীন সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য ভূমিকার কথা অনেকেই তাঁদের রচনায় উল্লেখ করেছেন। ১৯৫৬ সালের ৫৯ এপ্রিল স্টকহোমে বিশ্ব শান্তি পরিষদের সম্মেলনেও অংশ নেন বঙ্গবন্ধু। শান্তি প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বিশ্বশান্তি আমার জীবনের মূলনীতি। নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত ও স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষ, যেকোনো স্থানেই হোক না কেন, তাঁদের সঙ্গে আমি রয়েছি। আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক, তাকে সুসংহত করা হোক।’

আজকে যখন প্যালেস্টাইন পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রকে পালটে দিচ্ছে, যখন এ যুদ্ধ ক্রমান্বয়ে আরও একটি বিশ্বযুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করছে, যখন এর ফলে পুরো বিশ্ব এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে; যখন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বাংলাদেশের ওপর দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী চাপিয়ে দিয়েছে, যখন আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদী জঙ্গী তালেবান গোষ্ঠী পুরো দক্ষিণ এশিয়া তথা সারা বিশ্বের জন্য এক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। তখন শান্তির সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও শিক্ষা খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু বুকের রক্ত দিয়ে সারা দুনিয়ার মানুষকে শিখিয়ে গেছেন অস্ত্রর জোরে জনতাকে বেশিদিন দাবিয়ে রাখা যায় না। তিনি তাঁর জীবন দিয়ে শিখিয়ে গেছেন শান্তির বিকল্প শুধু শান্তিই।

জুলিও কুরি পদকের প্রবর্তন হয় মূলত সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা এবং মানবতার ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলস কর্মীদের উৎসাহিত করার জন্য। ১৯৪৯ সালে ফরাসি পদার্থবিদ জঁ. ফ্রেডেরিক জুলিও কুরি এই পুরস্কারের প্রবর্তন করেন। তার জীবদ্দশায় এই পদকের নাম ছিল ‘মেডেল অব পিস’।

জুলিও কুরি উপলব্ধি করেছিলেন যে পারমাণবিক শক্তি শান্তি অপেক্ষা ধ্বংসের কাজে নিয়োজিত হতে পারে। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগসাকির আনবিক বোমার মহাআতঙ্ক তাকে শান্তির প্রতি ব্রতী হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, ব্রিটিশ অধ্যাপক জেডি বার্নাল, শিল্পী পাবলো পিকাসু, অভিনেতা চার্লি চ্যাম্পলিন, চিলির বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক পাবলো নেরুদা, তুরস্কের কবি ও রাজনীতিবিদ নাজিম হিকমত, রাশিয়ার ইলিয়া ইরেনবুর্গের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ১৯৪৯ সালে বিশ্ব শান্তি পরিষদ গঠন করেন।

১৯৫০ সালে চেকোস্লাভিয়ার সাহিত্যিক জুলিয়াস ফুবিক প্রথম এই পুরস্কার পান। শান্তির সপক্ষে আজীবন শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামের স্বীকৃতিই তাকে এ পদক এনে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর অন্তত দু’টি উক্তি- যেমন- বিশ্ব আজ দুভাগে বিভক্ত, ‘একাংশ শোষক ও অপরাংশ শোষিত; আমি শোষিতের পক্ষে’ কিংবা ‘আমার ভাগ্য যদি চিলির আলেন্দের মতোও হয়, তাহলেও সাম্রাজ্যবাদের কাছে আমি মাথা নত করব না’, তার শান্তির সপক্ষে এবং সাম্রাজ্যবাদের বিপক্ষে অবস্থানকে স্পষ্ট কওে দেয়। চীনে ১৯৫৭ সালের শান্তি সম্মেলনে তার যোগদান দিয়ে তার এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা দৃঢ়তর হয়।

১৯৭৩ সালে ঢাকা সম্মেলনে তিনি শান্তির সপক্ষে দাঁড়িয়ে যে বঙ্গবন্ধু বলেন, আপনারা বিশ্ব শান্তি আন্দোলনের সহমর্মী প্রতিনিধিরা আমাকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করেছেন। এই সম্মানের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু একই সঙ্গে আমি এটাও একান্তভাবে অনুভব করি যে, এই সম্মান কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য নয়। এ সম্মান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহীদদের, স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানিদের। জুলিও কুরি শান্তি পদক সমগ্র বাঙালি জাতির। এটা আমার দেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষের।

আমরা সর্বপ্রকার অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে দুনিয়ার সব শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে বিশ্বাসী বলেই বিশ্বের সব দেশ ও জাতির বন্ধুত্ব আমরা কামনা করি। সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়, শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের এই নীতিতে আমরা আস্থাশীল। তাই সামরিক জোটগুলোর বাইরে থেকে সক্রিয় নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি আমরা অনুসরণ করে চলেছি। শুধু সরকারের নীতিই নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সংহতি সুদৃঢ় করা আমাদের সংবিধানের অন্যতম অনুশাসন। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, আমাদের সংবিধান জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই চারটি স্তম্ভের উপরেই রচিত। এই আদর্শের ভিত্তিতেই আমরা একটি শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চাই।

বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশে এক অপরিমেয় সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও রাজনীতি ছিল মানবতাকে সমুন্নত রাখা- তার বিচক্ষণতা ও দৃঢ় চিত্ততাই তাকে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের রাষ্ট্রনায়ক থেকে বিশ্ব নেতার আসনে বসিয়ে ছিল। এ জাতির জন্য এটা যে কী বিরল ঘটনা তা উপলব্ধির দিন প্রতি বছর ফিরে আসে।

বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে শান্তি পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পদক দেওয়ার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক নীতিমালা, ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। শান্তি প্রতিষ্ঠায় কয়েকটি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক’ নামের পদক পাবেন।

প্রতি দুই বছর পর পর এই পদক দেওয়া হবে। প্রতিবার প্রধানত এক ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানকে এই পদক দেওয়া হবে। নীতিমালা অনুযায়ী এই পদকের অর্থমূল্য হবে এক লাখ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে থাকবে ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক ও একটি সনদ। দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে, যুদ্ধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ও অবদান রাখে, দ্বন্দ্ব সংঘাতময় পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং টেকসই সামাজিক পরিবেশগত অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধনে ভুমিকা রাখে, সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই কেবল বঙ্গবন্ধু শান্তি পদকের জন্য মনোনীত হতে পারে।

এই বিষয়গুলো মাথায় নিয়েই বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক প্রদানকারী জুরিবোর্ড দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি দুই বছর পর পর এই পদক প্রদানের জন্য নির্বাচন করবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবার ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এই পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হবে। তারপর ২৩ মে বা কাছাকাছি সময়ে সেই পুরস্কার দেওয়া হবে। ২৩ মে পদক দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ধরার কারণ হলো, ওই তারিখে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য জুলিও কুরি পদক পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

বাঙালি জাতির অহঙ্কার, বিশ্বমানবতার পরম বন্ধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বিশ্বের মুক্তিকামী নিপীড়িত মেহনতি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা। নিপীড়িত মানুষের মুক্তির এই দিশারী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন সাম্য, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য।

প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, আমরা কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ চাই না। আমরা চাই সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মানবতার জননী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব সভার অন্যতম রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পিতার দেখানো পথ ধরে সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। শান্তি ও মানবতার এই দিশারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি।

হীরেন পণ্ডিত : প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কলামিস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

sicbo

roulette

slot server luar