Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

শতবর্ষে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


হীরেন পণ্ডিত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯২১ সালের ১ জুলাই, সীমিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চ্যান্সেলর ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক গভর্নর আলেকজান্ডার জর্জ রবার্ট বুয়ার। প্রথম উপাচার্য ছিলেন পি জে হার্টোগ। তিনি সতেরো বছর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ছিলেন। পূর্ববাংলার জনগণের উচ্চশিক্ষায় যে অগ্রগতি হয়েছিল তা বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণেই পরবর্তী সময়ে পূর্ববঙ্গের শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং এই আধুনিক শিক্ষার সহায়তায় তারা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগও পেয়েছিলেন। এটি শুধু অর্থনীতির উন্নতিই করেনি, তবে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণিও তৈরি করেছিল।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নয়, একটি শহরের মানুষের সমস্ত প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উঠতে এবং ধীরে ধীরে সোজা হয়ে ওঠার ইতিহাস, আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং রাজনৈতিক বিবর্তন এবং এই পিছিয়ে পড়া শহরের উত্থান। জাতীয় শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি বিকাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এ দেশের ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের উত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গৌরবময় ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের চিত্তের ও আবেগের একটা গভীর সম্পর্ক। এ দেশের মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রাণকেন্দ্র্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছে বাঙালি জাতির বিকাশ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাস। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন; বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছেন; অসীম সাহসিকতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন স্বাধীনতার সংগ্রামে ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে; প্রিয় মাতৃভূমির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষ্যে সকল বুদ্ধিবৃত্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁরা সদা-সর্বদা সক্রিয় রয়েছেন। তাই, দেশের সকল সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের লালনকারী প্রধান প্রতিষ্ঠানরূপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল। এখানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত এক শ বছরে নিঃসন্দেহে বহু ভালো ভালো গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল ও মননশীল কাজ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মশতবর্ষে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরম্পরা আমাদের বহন করে নিয়ে যেতে হবে নতুন প্রজন্মকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতির ধারায় ও যুগের চাহিদার নিরিখে আমাদের পড়ার বিষয়, পাঠ্যসূচি, পাঠদান, গবেষণা ও নব নব উদ্ভাবন নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্যে ‘বঙ্গবন্ধু ওভারসিজ স্কলারশিপ’ চালু হয়েছে। এই স্কলারশিপের আওতায় আমাদের তরুণ শিক্ষকরা বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান বাড়ছে এবং দেশের উন্নয়নে তা কাজে লাগবে। বিশেষভাবে উলেস্নখ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণায় আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে মুজিববর্ষ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ ফর ফরেন স্টুডেন্ক্ষস’-এর আওতায় দশজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশার কথা, এই বিষয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নিরন্তর তাগিদ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন বিভাগ, ছাত্র ও শিক্ষক সংখ্যায় সবার উপরে। সে ক্ষেত্রে পড়াশোনায় আগ্রহের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। আমরা আশা করব, যোগাযোগব্যবস্থার এই চরম উত্কর্ষের যুগে নতুন নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবন নিয়ে, সৃজনশীল বিষয়াদি নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র-শিক্ষকরা নিজেদের শাণিত করবেন। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবেন।

ঢাবি সত্যিই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত চাহিদা পূরণ করে চলেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে জাতির সেবা করে চলেছে। ঢাকা কিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন। ঢাবি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই সবার প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ছিল বিশ্বমানের। দ্বিতীয়ত, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ঢাবির গৌরবময় অতীত নিয়ে কথা বলার সময় কেউ তা এড়াতে পারে না। আমরা যখনই কোনো আলোচনা সামনে আসে তখন আমরা সর্বদা অতীত সম্পর্কে কথা বলি। কেউ বলেন না কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় একবিংশ শতাব্দীর দাবিগুলির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। বর্তমান বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে, ঢাবির ছাত্র-ছাত্রীদের দেশ গঠনের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রস্তুত করা উচিত? এই প্রতিষ্ঠান থেকে কতজন স্নাতক সফলভাবে কর্পোরেট বিশ্বে প্রবেশ করতে পারেন বা নতুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অভিযোজন করবেন তা কেউ বলেন না।

কিছু বুদ্ধিজীবী সমালোচনা করেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাঁদের দাবি, গণতন্ত্রের নামে ঢাবিকে ধ্বংস করা হয়েছে। তাঁরা দাবি করেন যে গত ১০০ বছরে ঢাবির অনেক কিছু বদলেছে। ঢাবি একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্রের উত্স হওয়ার কথা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন কোনো ‘একাডেমিক ডিসকোর্স’ নেই বলে মনে করেন। তবে তাঁরা এটি স্বীকার করেন যে এই বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান আমলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখন কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালন করতে পারছেনা কিংবা অন্য বিশ্বদ্যািলয় থেকে পিছিয়ে পড়ছে সেটা বের করার সময় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মূলত একটি শিক্ষার জায়গা এবং তারপরে একটি গবেষণা কেন্দ্র। তাঁদের কথাও উড়িয়ে দেয়া যায় না এই বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষের আরো মনোনিবেশ করা উচিত।

বেশ কিছু সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয় প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, এর ফলে শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তা ছাড়া গত এক দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেও তেমন কোনো ধরনের সেশনজটের মুখোমুখি হতে হয়নি যা একসময় ৪-৫ বছরের কোর্স ৭-৮ বছর লাগত। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে আরো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাইকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে, গবেষণাকাজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়াতে হবে এবং এ খাতে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে স্বাভাবিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা থেকে জোর দিয়েই বলা যায়, এই সমস্যাগুলোও খুব দ্রুতই এ বিশ্ববিদ্যালয় কাটিয়ে উঠবে এবং নিজের গৌরবকে করবে আরো সুসংহত হবে।
বিশ্বায়ন ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির শুভ ও অশুভ প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলার প্রত্যাশায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছে, এটা আমাদের আশাবাদী করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদার, মানবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে এটাই আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রত্যাশা। আজ আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে, জয়তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এগিয়ে যাও নিরন্তর।

লেখক : প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

togel online hongkong

situs togel