Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষিত ও আমাদের অগ্রযাত্রা


হীরেন পণ্ডিত: ২০১৬ সালে দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন নামে এক বই লিখেছিলেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস শোইয়াব। সাড়াজাগানো বইটির বাংলা অনুবাদ করে লেখকের ভাষায় ভাবান্তর পাঠকের হাতে পৌঁছে দিলেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য এবং বর্তমানে এর মুখ্য উপদেষ্টা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত এমন একটা বিষয় সাধারণ পাঠকের সামনে আনলেন যা প্রতিনিয়ত আমাদের পরিচালিত করছে লাঙল থেকে ট্রাক্টর, বগকাঁচি থেকে হলার মেশিন, শিল্প ও সেবায় যন্ত্রের যন্ত্রণা, তারবাহী থেকে তারবিহীন তথ্য বিনিময় ইত্যাদি। এই বিপ্লবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা অপ্রতুল এবং অসম্পূর্ণ। পরিবর্তনের চালিকাশক্তি এবং এদের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আমাদের সবার সম্যক জ্ঞান থাকা অবশ্যই জরুরি।
বিদেশী জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই নিজের ভাষায় অনুবাদ করে উন্নয়নের উঁচু শিখরে পৌঁছেছে অনেক দেশ যেমন জাপান। বিজ্ঞান বা সামাজিক বিজ্ঞানের মানসম্মত বইয়ের মানসম্মত অনুবাদ একেবারে নেই বললেও চলে আমাদের।
চতুর্থ বা বর্তমান শিল্প বিপ্লবের আগের বিভিন্ন ধাপ অবশ্য সংজ্ঞায়িত থাকলে ভালো হয়। পাঠকের মনে থাকার কথা যে প্রথম শিল্প বিপ্লব উৎপাদন যান্ত্রিকীকরণে পানি আর বাষ্পশক্তি ব্যবহার করেছিল, দ্বিতীয়টি বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের লক্ষ্যে ব্যবহার করেছিল বিদ্যুৎশক্তি আর তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে দেখা গিয়েছিল উৎপাদন স্বয়ংক্রিয় করার জন্য ইলেকট্রনিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ভূমিকা। চলমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের শুরুটা গেল শতাব্দীর মধ্য থেকে এবং তৃতীয় ধাপের ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল রেভল্যুশন নামে পরিচিত হয়ে আসছে যার প্রধান বৈশিষ্ট্য প্রযুক্তির সংমিশ্রণে শারীরিক, সংখ্যা এবং জীববিজ্ঞানসংক্রান্ত ক্ষেত্রের পার্থক্য রেখা অস্পষ্ট করে তোলা। আবার এটা যে শুধু তৃতীয় বিপ্লবের সম্প্রসারণ তা নয়, বস্তুত বেগ, ব্যাপ্তি এবং পদ্ধতির প্রভাব নিয়ে একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন চতুর্থ বিপ্লবের আগমন এবং যেটার চলমান প্রধান সাফল্যের দ্রæততার ঐতিহাসিক নজির নেই। অতীতের শিল্প বিপ্লবের তুলনায় বর্তমানটির বিকাশ এক্সপনেন্সিয়াল, রৈখিক নয়। তার ওপর দেখার মতো যে এটা সব দেশে সব শিল্পকে তছনছ করে দিচ্ছে এবং পরিবর্তনের প্রশস্ততা ও গভীরতা পুরো উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা এবং শাসনের রূপান্তরের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। অনুবাদকের কথায়, ‘আমাদের অজান্তেই আমরা এমন যুগে প্রবেশ করেছি, আর তা এমন নীরবে যে বুঝতেই পারিনি যুগান্তরের এ তাৎপর্যকে। এমন অভূতপূর্ব রূপান্তর মানবজাতি এর আগে আর কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। শুধু অর্থনীতিই নয়; জগৎ ও জীবনের সবকিছু মানুষের চিন্তাভাবনা, দর্শন, রাজনীতি, শিল্প ও সংস্কৃতি সবকিছুর ওপরই এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে, তৈরি হয়ে গেছে ন্যানোপদার্থ যা লোহা থেকে ২০০ গুণ শক্ত অথচ মাপে মানুষের চুলের ১০ লাখ ভাগের ১ ভাগ মাত্র।’
‘প্রভাব-প্রতিপত্তি’ শিরোনামে তৃতীয় অধ্যায়ে মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাঞ্চল্যকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন বইটির লেখক আশাবাদী ক্লাউস শোইয়াব ‘এটি এত ব্যাপক ও বহুমাত্রিক হবে যে একটি পরিবর্তনকে পরবর্তীটি থেকে আলাদা করে ভাবা যাবে না।’ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রবৃদ্ধির ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখছে এবং এই বিপ্লব নিয়ে আশাবাদের তিনটি কারণ প্রথমত, বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষের অপূরণকৃত প্রয়োজন বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ এবং অতিরিক্ত চাহিদা ও জোগানের সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব; দ্বিতীয়ত, নেতিবাচক বাহ্যিকময়টা শনাক্ত করার শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃতীয়, ডিজিটাল সক্ষমতা সৃষ্টিতে সবার আগ্রহ।
প্রযুক্তির প্রসারে চাকরির সুযোগ হ্রাস পাবে এ কথা অনেকটা চিরসত্যের মতো কথা এবং নতুন প্রযুক্তি বিপ্লবটি আগের শিল্প বিপ্লবের তুলনায় বেশি ঝড়ের সূচনা করবে। তবে প্রযুক্তি উদ্ভাবন সবসময়েই কিছুটা চাকরি লুপ্ত কওে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে আবার নতুন স্থানে নতুন ধরনের কাজের মাধ্যমে সেগুলো প্রতিস্থাপন করে যেমন কৃষি।
স্মার্ট সেন্সর এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। এই উদ্ভাবনধর্মী, সংযুক্ত সেন্সরগুলো জমিতে প্রাপ্ত তথ্য (পাতা-সংক্রান্ত, ভেজিটেশন ইন্ডেক্স, ক্লোরোফিল, হাইগ্রোমেট্রি, তাপমাত্রা, পানির প্রাপ্যতা, বিকিরণ) সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ কওে যোগাযোগ করে। এর উদ্দেশ্য হলো বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে স্মার্টফোন দিয়ে সঠিক সময়ে পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করে ফলাফল, সময় এবং অর্থের দিক দিয়ে জমি পরিচালনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কার্যকর করা। খামারে এ সেন্সরগুলো ব্যবহার করে শস্যের অবস্থা বোঝা যাবে এবং সঠিক সময়ে ইনপুট এবং চিকিৎসা পরামর্শ পাওয়া যাবে। এমনকি সেচের পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব। খাদ্য শিল্পে আরো বেশি বেশি সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা এবং পূর্ণ ডকুমেন্টেশন প্রয়োজন। এ নতুন প্রযুক্তিটি ট্র্যাকিং সিস্টেম হিসেবে এবং মানুষ ও পণ্যের ডাটা সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হয়।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ইম্যাজিনেশন এইজের সূচনা করে।
গবেষকরা ধারণা করেন, চতুর্থ বিপ্লব লিঙ্গবৈষম্যকে প্রভাবিত করবে। ভবিষ্যতে যেসব পেশার অটোমেশন দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম তার মধ্যে অন্যতম হলো ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত (ম্যানেজারিয়াল) পেশা। এ ধরনের কাজের জন্য অবশ্যই জটিল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে। নেতৃত্ব, কর্মদক্ষতা, মানবিক গুণের দিক দিয়ে নারীরা পুরুষদেও চেয়ে এগিয়ে থাকার প্রমাণ থাকলেও নারীদের অপেক্ষাকৃত কম সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জটিলতা, আগের তুলনায় ঘন ঘন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, বাঁধাধরা সামাজিক রীতি এসবই বৈষম্য তৈরি করতে পারে। আবার প্রায়োগিক বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণে নারীদের আগ্রহ এবং সুযোগ কম থাকায় অটোমেশনের ফলে নারীদের চাকরির ক্ষেত্র আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সার্বিকভাবে নারীদের জন্য ইন্ডাস্ট্রি চতুর্থ বিপ্লবের শিল্পের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলা আরো কঠিন হয়ে যেতে পারে।
খাদ্য উৎপাদন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লব
কৃষি ও শিল্প একই বন্ধনে আবদ্ধ। উভয়ই একে অন্যের পরিপূরক। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব একটি উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি, এটি এমন একটি সুযোগকে কেন্দ্র করে, যা মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। কৃষি খামার ও কারখানা দ্রæত এগিয়ে যাওয়ার জন্য এখানে স্মার্ট প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়। তাই আমাদের আরো উদ্ভাবনীসম্পন্ন হতে হবে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে গ্রহণ করার জন্য সেন্সর আইওটি নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বড় তথ্যভাÐার (বিগ ডাটা) একত্র করে তা বিশ্লেষণপূর্বক নির্ভুলভাবে কৃষিতে প্রয়োগ জরুরি। এর ফলে আবহাওয়ার তথ্য, ফসলে আগাম রোগ ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি নির্ণয় করা, মাটির পিএইচ, পুষ্টিগুণ ও আর্দ্রতা পরিমাপ করা, ফসলের পরিপক্কতার সময় নির্ণয় এবং ফসলের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা মানুষের পক্ষে করা অনেক জটিল ও সময়সাপেক্ষ। এটা এমন একটা শিল্প বিপ্লব, যা রোবোটিক প্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তার নির্ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষিকে বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে প্রসারিত করবে এবং স্মার্ট পর্যবেক্ষণের মধ্যে ফসলে নিখুঁত উৎপাদন কৌশলকে অনেক সহজ করে তুলবে, এ প্রযুক্তি সামান্য মানবিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের ডাটা থেকে রিয়েল টাইম তথ্য পুনরুদ্ধার করে ফসল ব্যবস্থাপনাকে অনেক সহজ করে দেবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো এমন একটি স্মার্ট কৃষি খামার ব্যবস্থা তৈরি করে থাকে, যা উন্নত করে তুলবে ফসলের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতের কৌশল এবং কৃষিতে আনবে টেকসই পরিবর্তন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব খামারের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তাদের মান বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। বাংলাদেশের কৃষিতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা দেখতে পাই, নতুন নতুন উদ্ভাবনী এবং প্রযুক্তি যেমন সুবিধা দেয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে, একই সঙ্গে আবহাওয়ার নিখুঁত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে উৎপাদনের ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব হবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ২০১১ সালে জার্মানিতে শুরু হওয়া প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে, যার ফোকাস ছিল কম্পিউটারাইজেশন এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে উদ্ভাবনী উৎপাদন ধারণা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এমন একটি সমন্বিত উদ্যোগ যেখানে ভ্যালু চেইনের সবার কাজের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমে ফসলের উৎপাদন কৌশল নিয়ে কাজ করার একটি প্রক্রিয়া। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বিভিন্ন ধরনের নতুন প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে ভৌত, জৈবিক এবং ডিজিটাল জগতে অন্তর্ভুক্ত করে বড় ডাটা ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ও সেবার মান উন্নয়ন করা হয়ে থাকে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কৃষি ক্ষেত্রের মান উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিকীকরণকে ত্বরান্বিত করার একটি সময়োপযোগী প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনগুলোর সমন্বয়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনবে, বিশেষত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেন্সর ও স্বনিয়ন্ত্রিত রোবটগুলো ব্যবহার করে কৃষির সমস্যা সমাধান করাকে বোঝায়। এ জাতীয় বুদ্ধিমান মেশিনগুলো ফসলের ফলন বৃদ্ধি ও মান যাচাই, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, দুধ ও মাংস উৎপাদনের জন্য প্রাণী পালন এবং ড্রোন দিয়ে কৃষি রাসায়নিক প্রয়োগে ব্যবহার হয়ে থাকে। অন্যান্য চাষের নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী ফসলের বিকাশের জন্য নতুন ধরনের জিন এডিটিং ও জিন ট্রান্সফার করা; ঊর্ধ্বমুখী খামার ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় গ্রিনহাউজ, সিনথেটিক বায়োলজি ল্যাবে নতুন পণ্য উৎপাদন এবং উদ্ভিদ উৎস হতে প্রোটিনসমৃদ্ধ মাংস তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি উৎপাদনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কী কী পরিবর্তন ঘটাবে
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহার করে শস্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে কেবল ফসলের স্বাস্থ্যের অবস্থাই নয়, জলবায়ু সম্পর্কিত তথ্য, পরিবেশ সম্পর্কিত তথ্য এবং শস্যের বৃদ্ধির তথ্যও বহুদূর হতে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সিস্টেমের ত্রæটি এবং ফসলের বৃদ্ধি, আবহাওয়া এবং কৃষিজাত সরঞ্জাম সম্পর্কিত ডাটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাক্সিক্ষত ফলন অর্জন করা সম্ভব, ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সিস্টেম ত্রæটি বা অন্যান্য কারণে ফসলের উৎপাদন ঝুঁকির আশঙ্কা হ্রাস করা সম্ভব।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রিমোট সেন্সরিংয়ের মাধ্যমে খামার পর্যবেক্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজনীয় খামার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এ পর্যায়ে সংগৃহীত ডাটা সংগ্রহ করা, প্রক্রিয়াজাত এবং বড় ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়। তারপরে, ডাটা সম্পর্কে দক্ষ এবং সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো এমনভাবে করা হয়, যা মানুষের বুদ্ধি-প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকেও ছাড়িয়ে যাবে।
অন্যদিকে বড় ডাটা ব্যবহার করে একটি কৃষি পরিষেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবাদ সম্পর্কিত ও পরিবেশ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। সংগৃহীত তথ্যটি বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণপূর্বক বাজারজাতের প্রবণতা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হয় এবং ডাটা (চাষের পরিবেশ, কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত তথ্য, জলবায়ু ও আবহাওয়ার তথ্য, মাটির উর্বরতা, টপোগ্রাফিক্যাল প্রাসঙ্গিকতা ইত্যাদি) কৃষকের অনুকূলে ব্যবহার উপযোগী করে কৃষকের উৎপাদন পরিবেশ কাক্সিক্ষত পর্যায়ে রাখা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রযুক্তিগুলো) কৃষি ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। আগামীতে আইন, বিধিমালা এবং সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর প্রভাবে বেড়ে ওঠা প্রচলিত খাদ্য ফসল এবং বায়োটেক ফসলের চাষ করা সম্ভব হবে, এমনকি প্রাণীর জিনগুলোকে আরো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং স্থানীয় পরিবেশের জন্য উপযোগী করার জন্য তাদের জিনের রূপান্তর করাও সম্ভব হবে। স্মার্ট ফার্ম মেশিনারি ব্যবহার করে পরিবর্তনশীল পরিবেশে কৃষকের জন্য উপযোগী ফসল নির্বাচন সহজ হবে। খামারের কৃষি জলবায়ু বিশ্লেষণপূর্বক ফসল উৎপাদনের উপযুক্ত উপকরণ নির্বাচন ও তার যথাযথ পরিমাণ নির্ণয় করা সহজ হবে। বড় বড় খামারে স্বনিয়ন্ত্রিত ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ ও ফসলের পরিচর্যা (সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ইত্যাদি) যথাযথভাবে করে নির্দিষ্ট সময়ে ফসল সংগ্রহ করা সক্ষম হবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি এরূপ হবে যে, রাতে কৃষক যখন ঘুমিয়ে থাকেন, তখন একটি স্বনিয়ন্ত্রিত রোবট এফপিএস এবং পূর্ব প্রোগ্রামকৃত মানচিত্র অনুসরণ করে পরিচালিত হয়ে জমিতে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় যেকোনো কৃষিকাজ শেষ করে ফেলতে পারবে এবং কৃষক ঘুম থেকে ওঠার আগেই রোবট ঘরে ফিরে যেতে পারবে। এ স্বপ্ন অদূর ভবিষ্যতেই একটি বাস্তবতা হবে।
প্রধানত তিনটি উপায়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলবে। প্রথমত, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট অপ্টিমাইজেশন কৃষিতে বিদ্যমান অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। কৃষিকাজ একটি প্রতিনিধিত্বমূলক শিল্প, যা ইনপুট এবং আউটপুটগুলোর মধ্যে আবহাওয়া ও সময়াবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণের অভাবে প্রায়ই আশানুরূপ ফলনপ্রাপ্তিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। বিশ্বব্যাপী সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য উৎপন্ন হয়, তবুও উৎপাদিত খাবারের ৩০-৫০ শতাংশ অপচয় হয়, অন্যদিকে অনেকে অনাহারে মারা যায়। পৃথিবীর মিষ্টি পানির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি ক্ষেত্রের জন্য ব্যবহৃত হয়, তার পরও ফসল উৎপাদনে কেবল কার্যকরভবে ব্যবহৃত হয় এ পানির শতকরা ২০ ভাগ পানি এবং অবশিষ্ট পানি অপচয় হয়। আবার অধিক নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের ফলে ফসলে রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সমস্যাগুলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিখুঁত কৃষি (প্রিসিসন এগ্রিকালচার) ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। নিখুঁত কৃষি, এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শস্যকে সঠিকভাবে পরিচর্যার জন্য তার বৃদ্ধি এবং মাটির অবস্থা রিমোট সেন্সরের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা ফসল উৎপাদন, বিতরণ এবং উৎপাদন ব্যয়কে হ্রাস করে একটি কাক্সিক্ষত কৃষি ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে কৃষকের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
দ্বিতীয়ত, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মানবসম্পদসহ প্রচলিত গ্রামীণ উৎপাদন উপাদানগুলোর চাহিদার যে পরিবর্তন আনবে তা কৃষিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
তৃতীয়ত, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে প্রযুক্তি আবহাওয়া সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। আবহাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রচলিত বিজ্ঞান ব্যবহার করে সঠিকভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা বলে থাকি, ঈশ্বরের কৃপার ওপরই কৃষককে নির্ভর করতে হয়। এ কারণে কৃষিকাজটি মানুষের অভিজ্ঞতাসহ বুদ্ধি ও প্রতিভার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল এবং এর ফলে আবহাওয়ানির্ভর কৃষিতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি এমন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে, যা মানবিক জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে ছাড়িয়ে যাবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এখন থেকে পাঁচ বা দশ বছরে বিশ্বে একটি ব্যাপক প্রভাব ফেলবে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো এরই মধ্যে সীমিত আকারে ব্যবহার শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এসব প্রযুক্তি বিশ্বকে পুনরায় নতুন রূপ দেবে, সে প্রযুক্তিগুলো পরীক্ষাগার প্রটোটাইপ হিসেবে ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এর মধ্যে অনেকগুলো প্রযুক্তি রয়েছে, যা এখনো বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে, যা শারীরিক ডিজিটাল এবং জৈবিক প্রযুক্তির সংশ্লেষে বিকশিত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তির অপ্রতিরোধ্য রূপান্তর এরই মধ্যে বাস্তব রূপ লাভ করেছে। রোবোটিকস, ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ স্বনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, থ্রিডি প্রিন্টিং, ন্যানো প্রযুক্তি, জৈব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ইত্যাদি। জৈবিক-সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেমগুলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মূল ভিত্তি হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং মানবকাজ সম্পন্ন করার জন্য এবং এদের ফিউশনে এআইএর পাশাপাশি মেশিন লার্নিং যোগ করে একাধিক জটিল ড্রাইভার এবং ক্রসকানেক্টেড প্রযুক্তিতে সেট করা একটি সিস্টেম, যেমন প্রযুক্তিগত মেগাট্রেন্ডগুলোকে ফিজিক্যাল ক্লাস্টার প্রযুক্তি (যেমন স্বনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং উন্নত রোবোটিকস) ডিজিটাল (উদাহরণস্বরূপ ইন্টারনেট অফ থিংস, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ও বিটকয়েন) এবং জৈবিক প্রবণতা (উদাহরণস্বরূপ জেনেটিক সিকোয়েন্সিং, সিনথেটিক বায়োলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জিন এডিটিং)এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ মেগাট্রেন্ডগুলোর আপাতদৃষ্টিতে উৎকর্ষে যথেষ্ট অগ্রগামী হওয়া সত্তে¡ও এটি ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং এর প্রতিনিয়ত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে এগিয়ে দেবে
সাধারণ কম্পিউটারকে যদি গরুর গাড়ির সঙ্গে তুলনা করা হয় তাহলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার হলো দ্রæত গতির বুলেট ট্রেন কিংবা রকেট। কোয়ান্টাম কম্পিউটার খুবই শক্তিশালী যা আজকের দিনের কম্পিউটারের তুলনায় কয়েক হাজার গুণ দ্রæত গতিতে কাজ করতে পারবে। অর্থাৎ এটি অনেক দ্রæত অনেক বেশি তথ্য প্রসেস করতে পারবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতার একক কোয়ান্টাম বিট বা কিউবিট। বর্তমানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ করছে প্রযুক্তি শিল্পের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান; এদের প্রত্যেকেই নিজস্ব কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতার মাত্রা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করে। সম্প্রতি ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস করপোরেশন (আইবিএম) নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ঘোষণা দিয়েছে। গত বছরের ইগল কোয়ান্টাম কম্পিউটারের চেয়ে তিনগুণ শক্তিশালী ৪৩৩-কিউবিটের ‘অসপ্রে’। এ প্রযুক্তি নিয়ে আইবিএমের অগ্রগতি প্রসঙ্গে কোম্পানির গবেষণা বিভাগের পরিচালক দারিও গিল জানিয়েছেন, এক হাজার কিউবিটের কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণের পথে আছে আইবিএম এবং এই লক্ষ্য অর্জনে একটি নতুন কৌশল নিয়ে কাজ করছে তার কোম্পানি।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে অসপ্রে চিপের ঘোষণা দিয়েছি এর সক্ষমতা যতটা সম্ভব বাড়ানোর চেষ্টা করেছি এবং আপনি যদি খেয়াল কওে দেখেন এটি ইতোমধ্যেই আকাওে বেশ বড়। আগামী বছরে এক হাজার কিউবিটের চিপ আরও বড় হবে।’ তাই এরপরের পদক্ষেপ হিসাবে মডিউলারিটিকে কেন্দ্র করে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একেবারে নতুন কাঠামোর নকশা ও নির্মাণের কাজ করছি। মডিউলারিটির মানে হচ্ছে, চিপগুলো একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। নতুন এ মডিউলার নির্মাণ কৌশলকে ‘কোয়ান্টাম সিস্টেম টু’ নামে ডাকছে আইবিএম।
কোয়ান্টাম সিস্টেম টু কার্যত বিশ্বের প্রথম মডিউলার কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সিস্টেম যেন আপনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বড় সিস্টেম বানাতে পারেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘আইবিএম কোয়ান্টাম সামিটে এসব কথা বলেন গিল। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ অসপ্রে পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আইবিএম। এ ছাড়াও, একাধিক কোয়ান্টাম সিস্টেম টু একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ‘কোয়ান্টামকেন্দ্রিক সুপারকম্পিউটিং’ কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।
প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, সমস্যা সমাধান করতে আগে একশ বছর লাগত সেটা এখন মুহূর্তের মধ্যেই করা যাবে। আগে একটা পাসওয়ার্ড ভাঙতে সাধারণ কম্পিউটারের হয়তো ১০ বছর লাগত। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটারের লাগবে কয়েক সেকেন্ড। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটার আবিষ্কৃত হলে মানুষের হাতে অপরিসীম কম্পিউটিং ক্ষমতা চলে আসবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও স্মার্ট বাংলাদেশ
ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তব। এই বাস্তবতা সামনে সরকারের নতুন লক্ষ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার। ‘ভবিষ্যৎ স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিদীপ্ত এবং উদ্ভাবনী’। অর্থাৎ সব কাজই হবে স্মার্ট। যেমন স্মার্ট শহর ও স্মার্ট গ্রাম বাস্তবায়নের জন্য স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, স্মার্ট ট্রান্সপোর্টেশন, স্মার্ট ইউটিলিটিজ, নগর প্রশাসন, জননিরাপত্তা, কৃষি, ইন্টারনেট সংযোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ, ওয়ান ড্রিমের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় সব ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত ক্লাউডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নাম পরিবর্তন করে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে সরকার। ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার যে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়েছিল, ২০২১ সালের লক্ষ্য ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’।
গতবছর ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়ন হয়েছে। এবার উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনস্থ ৯টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের নেতৃত্বে এই ভিশনের আওতায় ১৯৭ টি উদ্যোগ চিহ্নিত করে মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ৪টি (স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট গভর্নমেন্ট) স্তম্ভের আলোকে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে অটোমেটেড করার জন্য আগামী দিনের ‘স্মার্ট আইসিটি ডিভিশন’ নির্মাণের লক্ষ্যে ১৭৬টি সফটওয়্যার চিহ্নিত করে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় দুই লাখ বিদ্যালয়, ভূমি অফিস, হেলথ কমপ্লেক্সকে ফাইবার অপটিকের আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আগামীর তরুণ প্রজন্মের মেধা, বুদ্ধি ও জ্ঞানের বিকাশ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর। ইনকিউবেটরে বিটিসিএলের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। ইনকিউবেশন ভবনে একটি স্ট্যার্টআপ জোন, ইনোভেশন জোন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিক জোন, ব্রেইনস্টর্মিং জোন, একটি এক্সিবিশন সেন্টার, একটি ই-লাইব্রেরি জোন, একটি ডাটা সেন্টার, রিসার্চ ল্যাব, ভিডিও কনফারেন্সিং রুম এবং একটি কনফারেন্স রুম রয়েছে। রফতানি ক্ষেত্রে এটাই হবে সব থেকে বড় পণ্য, যা আমরা রফতানি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব। ৪ দশমিক ৭ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই স্থাপনা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রচারাভিযান থেকে দেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ রূপান্তরের নতুন ধাপ। এছাড়া বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের আওতায় অল্টারনেটিভ স্কুল ফর স্ট্যার্টআপ এডুকেটরস অব টুমোরো (অ্যাসেট) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতায় বাংলাদেশ নলেজ ডেভেলপমেন্ট পার্ক তৈরি করা হবে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের আওতায় সেন্টার ফর লার্নিং ইনোভেশন অ্যান্ড ক্রিয়েশন অব নলেজ (ক্লিক) স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় এজেন্সি ফর নলেজ অন অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড স্পেস হরাইজন (আকাশ) প্রতিষ্ঠা করা হবে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতায় সেলফ-এমপ্লয়মেন্ট ও এন্ট্রারপ্রেনিওরশিপ ডেভেলপমেন্ট (সিড) প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের আওতায় কন্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ও লিংকেজ ল্যাব (সেল) স্থাপন করা হবে এবং সার্ভিস এগ্রিগেঁর ট্রেনিং (স্যাট) মডেলে সরকারি সেবা ও অবকাঠামো-নির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সব ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত ক্লাউডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
২০৩১ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত আয় নিশ্চিতকরণ এবং ২০৪১ সাল-নাগাদ জ্ঞানভিত্তিক, উচ্চ অর্থনীতির উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫০০ ডলারে। গড়ে উঠবে স্মার্ট বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, যোগাযোগের ক্ষেত্রে দ্রæত পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ধারণা পেয়েছি আগামী ১০০ বছরের মধ্যে মহাকাশ গবেষণা এবং মাইনিং টেকনোলজি ভবিষ্যৎ বিশ্বের অর্থনীতিকে পাল্টে দিতে পারে। মহাকাশ গবেষণা ও মহাকাশনির্ভর সৌরশক্তি উৎপাদন, স্যাটেলাইট নির্ভর ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখবে। বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তি ও সক্ষমতা দিয়ে ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে। তাই এ যাত্রায় আমরা যেন পিছিয়ে না থাকি সেজন্য এজেন্সি ফর নলেজ অন অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড স্পেস হরাইজন আকাশ প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা যেন অনুমান করতে পারি যে ভবিষ্যতে কোনো কোনো নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেবে এবং ধাপে ধাপে ২০২৫, ২০৩১ কিংবা ২০৪১ সালের জন্য প্রয়োজনীয় ইমার্জিং, ফ্রন্টিয়ার কিংবা ফিউচার টেকনোলজিতে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। তবেই আমরা উন্নত দেশগুলোর মতো জাতীয় জিডিপির প্রায় ২০ শতাংশের বেশি প্রযুক্তি খাত থেকে অবদান রাখতে পারব।’
২০৪১ সালের লক্ষ্য স্মার্ট শহর ও স্মার্ট গ্রাম। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অত্যাধুনিক পাওয়ার গ্রিড, গ্রিন ইকোনমি, দক্ষতা উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে স্বীকৃতি প্রদান এবং নগর উন্নয়নে কাজ করছে। ডিজিটাল কানেক্টিভিটি হবে পরবর্তী উন্নয়নের মহাসড়ক। এই মহাসড়ক ছাড়া স্মার্ট সিটি বা স্মার্ট টেকনোলজি কোনোটাই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। স্মার্ট সিটি ও স্মার্ট ভিলেজ বিনির্মাণে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নে আমাদের ফাইভজি কানেক্টিভিটির সুবিধাকে কাজে লাগাতে হবে। ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী বাংলাদেশ। স্মার্ট সিটি ও স্মার্ট ভিলেজ বাস্তবায়নের জন্য স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, স্মার্ট ট্রান্সপোর্টেশন, স্মার্ট ইউটিলিটিজ, নগর প্রশাসন, জননিরাপত্তা, কৃষি, ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স, মাইক্রোচিপ ডিজাইনিং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ও সাইবার সিকিউরিটি এই চারটি প্রযুক্তিতে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত ক্লাউডে থাকবে সব ডিজিটাল সেবা। কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত ক্লাউডে থাকবে সব ডিজিটাল সেবা। এটি বাস্তবায়নে থাকবে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। ডাটা নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল সার্ভিস আইন, শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফন্ট্রিয়ার টেকনোলজি (শিফট) আইন, ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিওরশিপ অ্যাকাডেমি (আইডিয়া) আইন, এজেন্সি ফর নলেজ অন অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড স্পেস হরাইজন (আকাশ) আইন, ডিজিটাল লিডারশিপ অ্যাকাডেমি আইন ও জাতীয় স্ট্যার্টআপ পলিসি প্রণয়ন। এ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন কার্যক্রম নিশ্চিতে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ, ওয়ান ড্রিম’-এর আওতায় শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। স্মার্ট ও সর্বত্র বিরাজমান সরকার গড়ে তুলতে ডিজিটাল লিডারশিপ অ্যাকাডেমি বাস্তবায়ন করবে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। এছাড়া ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট, মাঝারি ব্যবসাগুলোর জিডিপিতে অবদান বাড়াতে এন্টারপ্রাইজভিত্তিক ব্যবসাগুলোকে বিনিয়োগ উপযোগী স্ট্যার্টআপ হিসেবে প্রস্তুত করা।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। অল্টারনেটিভ স্কুল ফর স্ট্যার্টআপ এডুকেটরস অব টুমরো (এসেট) প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এটি বাস্তবায়ন করবে। বাংলাদেশ নলেজ ডেভেলপমেন্ট পার্ক নির্মাণ ও পরিচালনা। এটি বাস্তবায়নে থাকছে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। সেন্টার ফর লার্নিং ইনোভেশন অ্যান্ড ক্রিয়েশন অব নলেজ (ক্লিক) স্থাপন। বাস্তবায়নে থাকছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। এজেন্সি ফর নলেজ অন অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড স্পেস হরাইজন (আকাশ) প্রতিষ্ঠা। বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। সেলফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিওরশিপ ডেভেলপমেন্ট (সিড) প্ল্যাটফর্ম স্থাপন। এটি বাস্তবায়ন করবে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। কনটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিংকেজ ল্যাব (সেল) স্থাপন। তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করবে। সার্ভিস এগ্রিগ্রেটর ট্রেনিং (স্যাট) মডেলে সরকারি সেবা ও অবকাঠামোনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরি করা। বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স’। এতে সদস্য আছেন পাঁচজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিবকে এই টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্ট্যার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ আরও পনেরো জন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি পদাধিকারী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন। গেজেটে টাস্কফোর্সের নয়টি কার্যপরিধিও সুস্পষ্ট করা হয়। এগুলো হলো- ১. অগ্রসরমান তথ্যপ্রযুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান। ২। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতের কার্যক্রম স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তরের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দিক নির্দেশনা প্রদান। ৩. স্মার্ট ও সর্বত্র বিরাজমান সরকার গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক পরিমন্ডলে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিধি-বিধান প্রণয়নে দিক নির্দেশনা প্রদান। ৪. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান। ৫. এজেন্সি ফর নলেজ অন এরানোটিক্যাল অ্যান্ড স্পেস হরাইজন (আকাশ) প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান। ৬. বেøন্ডেড এডুকেশন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ফাইভজি সেবা চালু পরবর্তী সময়ে ব্যান্ডউইথের চাহিদা বিবেচনায় চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবলে সংযোগের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান।
স্মার্ট সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্নেষণ করা হয়েছে যুক্তরাজ্যের ‘কনসোলিডেটেড ইন্টারঅপারেবল (আন্তঃচালিত) পেমেন্ট ব্যবস্থা, যা সব আন্তঃচালিত পেমেন্ট স্কিমকে একক এর আওতায় নিয়ে এসেছে। নাইজেরিয়ার ‘ফিনটেক অ্যাকসেলারেটর’, ভারতের ‘ইউপিআই’, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘স্মার্ট শহর’ স্মার্ট সমাজ প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম মডেল হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত। স্মার্ট অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব (ফোরআইআর) পলিসি’ ও উদ্যোগগুলোকে পর্যালোচনা করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রবোটিকস ও ফোরআইআর প্রযুক্তি চালানোর জন্য এমন একটি পলিসি প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া মহাপরিকল্পনার কর্মসূচি প্রণয়নে বিশ্নেষণ করা হয় ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা সেন্টার অব এক্সিলেন্স (সিওই) ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ভারতের সরকারি ক্লাউড ‘মেঘরাজ’, ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’, অস্ট্রেলিয়ার ‘জাতীয় ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক’, সিঙ্গাপুরের ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোর্ড’ উদ্যোগগুলোকে।
সামগ্রিক বিশ্নেষণে দেখা যায়, রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন দ্রæততর করা এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি স্মার্ট জাতি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এখন শুধু দেখার অপেক্ষা মহাপরিকল্পনার আলোকে স্মার্ট বাংলাদেশের বাস্তবায়ন শুরু।
হীরেন পণ্ডিত, প্রাবন্ধিক ও গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

sicbo

roulette

slot server luar