এসডিজি স্থানীয়করণে গুরুত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা

হীরেন পণ্ডিত: বাংলাদেশ বৈশ্বিক এসডিজি অর্জনের র‍্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে, মাত্র সাত বছরে ১২০তম স্থান থেকে ১০১তম স্থানে উঠে এসেছে। গ্লোবাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৩ অনুযায়ী ২০২২ সালে ১৬৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০১তম স্থানে রয়েছে, ২০১৯ সালে এই অবস্থান ছিলো ১১৬ নাম্বারে। বাংলাদেশ গত পনের বছর ধরে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্ব প্রদানসহ একটি আশাব্যঞ্জক ৬.৭% গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

প্রথম তিনটি এসডিজি যেমন দারিদ্র্য বিলোপ, ক্ষুধা মুক্তি এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতির সাথে সম্পর্কিত এবং বাংলাদেশ তিনটিতেই ভালো অগ্রগতি করেছে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে। তিনটি এসডিজির অধীনে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে চারটি ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ছয়টি ট্র্যাকে রয়েছে এবং পাঁচটিতে আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এসডিজিতে বাংলাদেশ ১০১তম অবস্থানে রয়েছে। এসডিজির অন্যতম লক্ষ্য হল দারিদ্র্য বিলোপ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, শিক্ষার উন্নতি এবং লিঙ্গ বৈষম্য রোধ করা। চলতি বছরের এসডিজি সূচকে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৮৩.৫%। গত বছর এই স্কোর ছিল ৬৩.২৭ শতাংশ। ২০১৫ সালে যখন এসডিজি গৃহীত হয়েছিলো, তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫৯.০১ শতাংশ। বিশ্বের ১৬৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ১০১।

বিভিন্ন সামাজিক অগ্রগতির সূচকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এর ভূমিকা, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন ইত্যাদি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য রয়েছে বাংলাদেশের। বিশেষ করে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু ও জন্মহার হ্রাস, দরিদ্রদের জন্য টয়লেট ও স্বাস্থ্য সুবিধার ব্যবস্থা এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এসডিজির সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এসডিজি অর্জনে আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো তথ্যের অভাব। অনেক ক্ষেত্রে, অগ্রগতি বিশ্লেষণ করার জন্য পর্যাপ্ত ডেটাও পাওয়া যায় না। বৈষম্য দূরীকরণ, শান্তি ও ন্যায়বিচার, জলবায়ুু সুরক্ষায় ভূমিকা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে বাংলাদেশ এখনও কার্যকর অগ্রগতি করতে পারেনি। মানুষের পুষ্টিতে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। এর জন্য সকল স্তরে নারী নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এটা ঘর থেকে শুরু করতে হবে এবং সরকারের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। তৃণমূল ও জাতীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব এবং অংশগ্রহণ নারীর অধিকার, লিঙ্গ সমতা, টেকসই উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এসডিজি-এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব প্রয়োজন। পদ্ধতিগতভাবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও এসডিজি অর্জনে সফল হবে।

তবে আরও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। বিশেষ করে, একটি মধ্যম আয়ের দেশের জন্য প্রয়োজন প্রচুর বিনিয়োগ, শক্তিশালী উন্নয়ন সহায়তা, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ এবং একটি উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশ, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। সর্বোপরি, এসডিজি অর্জনে সফল হতে হলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সকল প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ১৭টি অভীষ্ট, ১৬৯টি লক্ষ্য এবং ২৪৭টি সূচক গ্রহণ করেছে। শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং উন্নত শাসন কাঠামোর উন্নয়ন, এসডিজি ১৬ এর ১২টি লক্ষ্য, ২৪টি সূচক এবং ২২টি প্রভাইডার রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করা, এসডিজি ১৭-এর ক্ষেত্রে, ১৯টি লক্ষ্য, ২৪টি সূচক এবং ২০টি প্রভাইডার রয়েছে সেগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এসডিজি স্থানীয়করণের জন্য প্রধানত জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়ন পরিকল্পনার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ৪০টি অগ্রাধিকার সূচক চিহ্নিত করেছে যা ৩৯+১ নামে পরিচিত। অতিরিক্ত (+১) স্থানীয় সূচক প্রতিটি জেলা এবং উপজেলা পিছিয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যারা আছেন তাদের “কাউকে পেছনে ফেলে নয়” নীতিকে প্রতিফলিত করার লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

বেশ কয়েকটি সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, রূপকল্প ২০৪১ স্মার্ট বাংলাদেশ এবং ডেল্টা পরিকল্পনা এসডিজির সাথে সঙ্গতি বা মিল রেখে কাজ করা। এসডিজিগুলির স্থানীয়করণ শুরু করা এবং ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ এবং এসডিজি এসডিজি ¥প্লিমেন্টশন রিভিউ বা পর্যালোচনা (এসআইআর) প্রবর্তন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের ম্যাপিং, ফাইন্যান্সিং গ্যাপ অ্যানালাইসিস এবং বিদ্যমান বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ডেটা প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়াও, প্রতিটি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে এসডিজি-এর ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ করা হয়েছে এবং বার্ষিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যালোচনা বা মূল্যায়ন (এপিএ) প্রবর্তন এই অগ্রগতির অন্যতম চাবিকাঠি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করায় বিশ্ব পরিমণ্ডলে এই উন্নয়ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশগত সুরক্ষা: তিনটি মূল উপাদানের সমন্বয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এসডিজি অর্জনে সবচেয়ে সক্রিয় এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশ হিসেবে, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নে গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং সেভাবেই অগ্রগতি করছে। সমন্বিতভাবে এসডিজি অর্জনের জন্য সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এসডিজির সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সকল পর্যায়ের অংশীজনদের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বর্ধিত অংশগ্রহণের উপর। তাই, বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, নাগরিক সমাজের সংগঠন, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, একাডেমিয়া এবং মিডিয়ার ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিমালায় বাংলাদেশ এসডিজিকে মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, শোভন কাজের মাধ্যমে সামষ্টিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এসডিজি-৮, দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস, এসডিজি-১ এবং ১০, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ এসডিজি-৩, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন এসডিজি-৬, মানসম্পন্ন শিক্ষা-এসডিজি-৪ এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এসডিজিগুলিকে একীভূত করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, এসডিজি-৮, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা এসডিজি-২, পরিবহন ও যোগাযোগ এসডিজি-৯, শক্তি ও খনিজ সম্পদ-এসডিজি-৭, লিঙ্গ ও অসমতা, এসডিজি-৫ এবং ১০১১। পরিবেশ, জলবায়ুু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এসডিজি-১.৪, ৪.৪, ১৩, ১৪ এবং ১৫ নগর উন্নয়ন এসডিজি-১১, গভর্ন্যান্স এসডিজি ১৬, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব এসডিজি -১৭. সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অধীনে বাস্তবায়নের জন্য তাদের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে মন্ত্রণালয়গুলিকে সহজতর করতে একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে, ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার জন্য একটি হ্যান্ডবুক তৈরি করেছে। ২০১৬ সালে এসডিজি অভীষ্ট (কোন অভীষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে কী করতে হবে) সেই মন্ত্রণালয় বা বিভাগের জন্য ম্যাপিং প্রস্তুত করেছে। বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিষয়ে এটি একটি বিশেষ উদ্যোগ। ২০২২ সালে এসডিজি অর্জন ও প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা ও সংশোধিত করার কাজ সম্পন্ন করা হয়। সংশোধিত ম্যাপিং এসডিজি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ একটর হিসেবে অভিভাবক ও অংশীদার সংস্থাকে কাজ করতে উৎসাহ প্রদান করছে। ২০১৮ সালে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এসডিজি অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি কর্ম পরিকল্পনা) দ্বারা মন্ত্রী/বিভাগের জন্য কর্মের একটি বিস্তৃত উদ্যোগ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এটি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দ্বিতীয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করেছে।

বাংলাদেশ মানসম্মত এবং সময়োপযোগী ডেটা তৈরির উপর জোর দিয়েছে কারণ এসডিজি বাস্তবায়নে অগ্রগতি বিশ্বাসযোগ্য এবং মানসম্পন্ন ডেটা ছাড়াই একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ হবে। বাংলাদেশ সরকার এসডিজি সম্পর্কিত তথ্য সংকলন ও প্রতিবেদনের বিষয়ে এসডিজি ফোকাল পয়েন্টের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করছে। এসডিজি অর্জনের জন্য ডেটা গ্যাপ মূল্যায়ন করার জন্য ২০১৭ সালে প্রথম বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি “ন্যাশনাল ডেটা কোঅর্ডিনেশন কমিটি (এনডিসিসি)” ডাটা জেনারেশন সিস্টেমের আধুনিকীকরণ, দ্বৈততা কমাতে, জরিপের ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে, ডেটা গ্যাপগুলি চিহ্নিত করতে, মানসম্পন্ন ডেটার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এবং মন্ত্রণালয়গুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এসডিজি-এর জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক ডেটা তৈরির জন্য কাজ করছে।

বাংলাদেশ সরকার এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী এর নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। জিইডি এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে। একটি ওয়েব-ভিত্তিক তথ্য ভাণ্ডার এসডিজি ট্র্যাকারের মাধ্যমে এসডিজি এবং অন্যান্য জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের দিকে অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে।

১০৪টি পরিমাপযোগ্য সূচক ব্যবহার করে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কার্যক্রম বাস্তবায়ন মূল্যায়ন করার জন্য একটি ডেভেলপমেন্ট রেজাল্ট ফ্রেমওয়ার্ক (ডিআরএফ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬টি সূচক এসডিজি গ্লোবাল ইন্ডিকেটর ফ্রেমওয়ার্ক থেকে। দেশের অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য ২০১৭ সালে এসডিজিগুলির একটি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালে গ্লোবাল ইন্ডিকেটর ফ্রেমওয়ার্কের ব্যাপক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এই কাঠামোটি সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য, জিইডি ২০১৮, ২০২০ এবং ২০২২ সালে এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ এসডিজি অগ্রগতি রিপোর্ট ২০২২ প্রায় ১৫৩টি সূচক নিয়ে আলোচনা করেছে, যার মধ্যে-অন ট্র্যাকে আছে ৪২টি সূচক, লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত করেছে ১৬টি সূচক, আরো মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন ৪৬টি সূচকে, আপডেট করা ডেটার অভাব ৪৯টি সূচকে।

২০১৮ সালে ১ম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২২ সালের মে মাসে সরকারী, এনজিও, ডিপি, বেসরকারী সেক্টরের প্রতিনিধি, একাডেমিয়া, মিডিয়া, নাগরিক সমাজের সংগঠন থেকে পঅংশগ্রহণকারীদের নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা (এসডিজি) ২য় জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জিইডি একটি প্রতিবেদনও প্রস্তুত করেছে। প্রক্রিয়াটিতে এসডিজিগুলির অগ্রগতি এবং চ্যালেঞ্জগুলির উপর ডেটা এবং গুণগত মূল্যায়ন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ অতিরিক্ত সম্পদের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করেছে এবং এসডিজি-এর অর্থায়নের ব্যবধান পূরণের জন্য উন্নয়ন অর্থায়নের ল্যান্ডস্কেপের একটি ব্যাপক বিশ্লেষণ রয়েছে এতে।

এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭-২০৩০ অর্থবছরে এসডিজি অর্জনের জন্য বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৯২৮.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এটি অনুমান করা হয় যে, গড়ে, অভ্যন্তরীণ উৎসগুলি থেকে এসডিজি এ অর্থায়নের ৮৫.১% অর্থায়ন করতে হবে এবং ১৪.৯% অর্থায়ন বাইরের উৎস থেকে আসবে। এখানে, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রায় ৪২% বেসরকারি খাত দ্বারা অর্থায়ন করা হবে। এসডিজি অর্থায়ন কৌশল এবং উন্নয়ন অর্থায়ন মূল্যায়ন বর্তমানে আপডেট করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টেকসই বন্ডের মতো উদ্ভাবনী অর্থায়ন সমাধান নিয়ে কাজ করছে। সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বন্ড এবং গ্রিন বন্ড চালু করেছে, বিশেষ করে বেসরকারি খাত থেকে প্রয়োজনীয় সংস্থান সংগ্রহের জন্য।

সরকার সামুদ্রিক এবং মহাসাগর-ভিত্তিক প্রকল্পগুলির অর্থায়নের জন্য নীল বন্ডের সম্ভাবনাও অন্বেষণ করছে যা পরিবেশগত স্থায়িত্ব¡ এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে অবদান রাখবে। এই সমীক্ষায় বাংলাদেশের জন্য ৬০টি সূচকের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩টি টিয়ার ও (২৬টি সূচকের জন্য উপলব্ধ ডেটা), ১৫টি টিয়ার ও সূচক (মাত্র ৫টি সূচকের জন্য ডেটা উপলব্ধ) এবং বাকি ১২টি পর্যায়ের ও সূচক যেগুলোর কোন আপডেট তথ্য নেই স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসডিজি একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে দূরবর্তী অবস্থানে বসবাসকারী জনগণের কাছে পৌঁছাতে এবং উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে।

এসডিজি স্থানীয়করণ ফ্রেমওয়ার্ক জিইডি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে যা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং জনগণকে এসডিজি স্থানীয়করণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সক্ষম করার জন্য কৌশলগুলির একটি সেট সরবরাহ করে। স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ৩৯+১ জাতীয় অগ্রাধিকার সূচক চিহ্নিত করা হয়েছে এসডিজি স্থানীয়করণের জন্য যেখানে +১ সূচক স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট দ্বারা নির্বাচিত হয়েছে। বাংলাদেশে এসডিজি স্থানীয়করণের জন্য বেসলাইন স্টাডি ০৫টি উপজেলায় খুলনার ডুমুরিয়া, কুড়িগ্রামের উলিপুর, ভালার দৌলতখান, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে পরিচালিত হচ্ছে। সেসব উপজেলার কর্মপরিকল্পনাও সম্পন্ন ও ভাগ করা হয়েছে।

প্রধান চ্যালেঞ্জগুলি হল ডেটা স্বল্পতা, এসডিজি-এর অর্থায়নের জন্য সম্পদের ব্যবধান, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট, কোভিড-১৯-এর প্রভাব, স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি-এর বাস্তবায়ন। এই “ডিকেড অব একশন”, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, বৈষম্য হ্রাস এবং বাস্তুতন্ত্রের সুস্থ কার্যকারিতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিশাল সম্পদের ব্যবধান বন্ধ করতে আমাদের উন্নত বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা এবং সংহতি প্রয়োজন। বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, এমডিজি অর্জনের মতো এসডিজি বাস্তবায়ন অন্যতম চ্যাম্পিয়ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *