Togel Online

Situs Bandar

Situs Togel Terpercaya

Togel Online Hadiah 4D 10 Juta

Bandar Togel

অমর একুশ চেতনায় বারে বারে


হীরেন পণ্ডিত: ভাষা আন্দোলনের মাস ও চেতনার মাস ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মদর্শনের সুযোগ এনে দেয়। পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় বাঙালির প্রাণের ভাষার মাস। এ মাসেই আমরা অর্জন করেছিলাম প্রিয় বাংলা ভাষা। অমর একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের কাছে ব্যাপকভাবে একুশে বইমেলা নামেই পরিচিত হয়েছে সবার কাছে।

একুশে ফেব্রুয়ারিকে জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য সম্মানের। এ ধরনের স্বীকৃতির মর্যাদা রক্ষার জন্য আমাদের দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কথ্য ভাষা রক্ষায় আবারও মনোযোগ দিতে হবে। তাদের সন্তানরা যাতে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করে এবং একই সঙ্গে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় যুক্ত হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। ভাষা আন্দোলন যেমন আমাদের গর্বিত করেছে, তেমনি কিছু কাজের জন্যও আমাদের দায়ী করেছে, যা এড়ানো যায় না। আমরা যদি শিক্ষা, সংস্কৃতিতে অগ্রসর হতে না পারি এবং উন্নত মানবসম্পদ হতে না পারি তাহলে আমরা আমাদের ভাষা ও দেশকে মহিমান্বিত করতে পারব না। দেশকে এগিয়ে নিতে পারব না। এক্ষেত্রে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে বৈষম্য দূরীকরণের পদক্ষেপ নিতে হবে। যা খুব জরুরি।

ভাষা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট এ দেশে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাকিস্তান আমলে আমরা সাংস্কৃতিক বিভাজন প্রত্যাখ্যান করেছি এবং গণতান্ত্রিক চেতনাকে লালন করে এগিয়েছি, যা এড়ানো উচিত নয়। বিভক্তি নয় ঐক্যের পথে এগিয়ে যেতে হবে। প্রগতিশীলতার চর্চা করতে হবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে, প্রতিটি দেশে এই পশ্চাৎপদ উপাদানগুলির মধ্যে আলাদাভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। এই স্রোতে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

বাঙালির প্রশ্নে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, সুবিধাবাদ ও আপস বরদাস্ত করা যায় না। এতে জাতীয় জীবনে বিরাট বিপর্যয় ঘটবে। এর ফলশ্রুতিতে একদিন হয়তো দেখা যাবে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারলেও আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। এই লড়াইয়ের মূলে রয়েছে শিক্ষা। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্যের ভিত্তি মজবুত করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন লিখিত এবং মুদ্রিত পাঠ্যপস্তকগুলি অপ্রত্যাশিত বিতর্কের সম্মুখীন হচ্ছে। তাতে বিভাজনের রেখা, ক্ষমতার বিবৃতি দিয়ে হাজির হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম এই মেলার ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশের মতোই প্রাচীন। যতদূর জানা যায়, ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার শুরু করেন। এই ৩২টি বই ছিল চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থানকারী বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই।

আমরা মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করব বা সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন করব এই ছিল আমাদের অঙ্গীকার। তা সম্পন্ন করার জন্য যে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়েজিন তা আমরা কতটুকু নিতে পেরেছি? উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে বাংলা মানসম্পন্ন বই লেখা এমনকি অনুবাদেও কতটা অগ্রগতি হয়েছে? ভাষা আন্দোলনের অমর স্মারক মাসে বইমেলার আয়োজন করছে বাংলা একাডেমি।

সময়ের সাথে সাথে মেলার প্রসার ঘটেছে এবং এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে বহুদূরে। এ উপলক্ষে সাহিত্যসহ নানা ধরনের বইও প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু মানের দিকে লক্ষ্য করলে অনেক ক্ষেত্রেই হতাশ হবেন। ভাষার ব্যবহারেও চলছে নৈরাজ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাষার বিষয়ভিত্তিক ব্যবহারও এর জন্য দায়ী। তবে অনলাইনে বাংলায় লেখা অনেক বেড়েছে। তরুণদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। ইংরেজিসহ বহুল ব্যবহৃত ভাষায় লেখা, বাংলায় লেখা উচ্চমানের সাহিত্যের মানসম্মত অনুবাদ ও প্রচার প্রয়োজন। জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা ও মননের প্রতীক বাংলা একাডেমিকেও এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না যে বাংলা একাডেমি ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফসল।

১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি মহান একুশে মেলা উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ হ্রাসকৃত মূল্যে একাডেমি প্রকাশিত বই বিক্রির ব্যবস্থা করে। এর পাশাপাশি মুক্তধারা, স্টান্ডার্ড পাবলিশার্স এবং এদের দেখাদেখি আরও কেউ কেউ বাংলা একাডেমীর মাঠে নিজেদের বই বিক্রির ব্যবস্থা করে। ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি তার নিজস্ব প্রকাশিত বই প্রদর্শন ও ম্যুরাল প্রদর্শনীর আয়োজন করে। বই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রফেসর আবু মহাম্মেদ হাবীবুল্লাহ। ঐ গণজমায়েতকে সামনে রেখে ঢাকার বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান একাডেমীর পূর্বদিকের দেয়াল বরাবর নিজেদের পছন্দমতো জায়গায় যে যার মতো কিছু স্টল নির্মাণ করে বই বিক্রির ব্যবস্থা করে।

১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন। একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণকে চারজন ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, বরকত ও শফিউরের নামে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া নজরুল মঞ্চের সামনে শিশু কর্নারে থাকবে শিশু কিশোর বিষয়ক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রতিবারের মতো এবারেও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে নজরুল মঞ্চে। মেলার প্রচার কার্যক্রমের জন্যে তথ্যকেন্দ্র থাকবে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে।

মেলায় থাকে মিডিয়া সেন্টার। যেখান থাকে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা। এছাড়া থাকে লেখক কর্নার এবং তথ্যকেন্দ্র। মেলা প্রাঙ্গণ রাখা হয় পলিথিন, ধূমপান এবং হকারমুক্ত। মেলায় বই বিক্রির উপর ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় থাকে। এছাড়া মেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর পাশাপাশি রাখা হয় বিশেষ টাস্কফোর্স।

মেলা চলাকালীন প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠের আসর বসে। প্রতি সন্ধ্যায় থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া মেলার লেখককুঞ্জে লেখকেরা তাঁদের বইয়ের ব্যাপারে পাঠক ও দর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রতিনিয়ত নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের খবর, প্রতিদিন প্রকাশিত বইগুলোর নাম, লেখক ও প্রকাশকের নাম প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেল মেলার মিডিয়া স্পন্সর হয়ে মেলার তাৎক্ষণিক খবরাখবর দর্শক শ্রোতাদের অবহিত করে।

সময়ের ব্যাপ্তির দিক থেকে হোক কিংবা কলেবরের দিক থেকে, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম বইমেলার একটি হলো অমর একুশে বইমেলা। সেখানে পুরোটাই মুদ্রিত বইয়ের উপস্থিতি। গত কয়েক বছর ধরে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইয়ের ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর আলাদা স্টল থাকলেও, সেটি যে পাঠককে সিকিভাগ প্রভাবিতও করছে না, তা স্পষ্ট। একদিকে, প্রযুক্তি সচেতন মানুষরা বলছেন, মুদ্রিত বই থাকবে না, আবার অন্যদিকে সেখানেই হচ্ছে পৃথিবীর দীর্ঘতম মুদ্রিত বইয়ের মেলা।

অমর একুশে বইমেলার কলেবর দিনে দিনে বেড়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই বইমেলাকে ঘিরে মানুষের আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রথমদিকে বাংলা একাডেমির সামনে, তারপর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এবং এখন সেটির গন্ডি পেরিয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছড়িয়ে পরেছে বইমেলার পরিসর। অথচ বইমেলা শুরুর ইতিহাস নিয়ে নেই তেমন কোনো কাজ।

বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা থাকলেও রুচি, উৎকর্ষ আর পরিশীলনের দিক থেকে বইমেলা এক অনন্য ব্যাপার। বইমেলা হয়ে উঠেছে বাঙালি মনন ও উৎকর্ষের স্মারক। সামষ্টিক সৃজনের উর্বর জমিন। বইমেলার কথা ভাবলেই প্রাণে খুশির দোলা লাগে, উৎফুল্ল হয়ে উঠে মন। বইমেলা আনন্দ, মিলন আর ভাব আদান-প্রদানের এক গতিশীল লক্ষ্য।

বইমেলায় প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হয়। পছন্দের লেখকদের সাথে কথা হয়। বইমেলা কেবল বইমেলা নয় কথামেলাও বটে। সামাজিক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কের এক অমিত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয় বইমেলা। বইমেলাকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পে এক অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। বলা যায় এ মেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে।

অমর একুশে বইমেলা দেখিয়ে দেয় বাঙালির চিন্তা-চেতনার সক্ষমতা। সৃষ্টিশীলতা ও মননের বিবেচনায় বইমেলা সমাজের খোলাজানালা। বই মেলায় পাশাপাশি সাজানো বইয়ের দিকে তাকালে বইমেলার আরেকটি বৈশিষ্ট্য সহজেই চোখে পড়ার কথা, তা হল সহিষ্ণুতা। একই বিষয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী, প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্যের বইয়েরা নির্বিবাদে সহাবস্থান করে, যেমন সমাজে থাকার কথা, রাষ্ট্রে থাকার কথা। একটি আধুনিক সমাজে পাঠক হলো সার্বভৌম সত্ত্বা। কোন বই তারা গ্রহণ করবে আর কোনটি প্রত্যাখ্যান করবে তা তাদের আওতার বিষয়। ভিন্নমত, ভিন্নযুক্তি, ভিন্ন ভাষা অপরাধ নয়। বরং অভিব্যক্তি প্রকাশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল মানদণ্ডে ভিন্ন মত গ্রহণযোগ্য বিষয়। সমাজে চিন্তার স্বাধীনতা রুদ্ধ হলে সেই সমাজ অন্ধকার নেমে আসতে বাধ্য।

একুশের বইমেলা এখন আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারি মাস হলো বাঙালির ভাষার মাস। সেই ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই বাংলা একাডেমি চত্বরে মাসব্যাপী বইমেলা শুরু হয়। আর নিয়ম অনুযায়ী এ বইমেলা দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করে থাকেন।

বই হলো জ্ঞানার্জনের প্রধানতম মাধ্যম। আধুনিক এ ডিজিটাল যুগেও ছাপানো বইয়ের এতটুকু গুরুত্ব কমেনি; বরং দিন দিন মানসম্পন্ন বইয়ের কদর বেড়েই চলেছে। বাংলা ভাষা চর্চা, বাংলা ভাষায় সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা, শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের গুরুদায়িত্ব নিয়ে ১৯৫৫ সালে ঢাকায় তৎকালীন বর্ধমান হাউস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমানে যা বাংলা একাডেমি হিসেবে বাঙালির হৃদয়-মনে স্থান পেয়ে এসেছে।

তারপর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালকে ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন সে বছরই ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলা অয়োজন করা হয়। সে থেকেই বাংলা একাডেমিতে বইমেলার সূচনা। বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী বইয়ের মেলা হিসেবে স্বীকৃত হলো জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বইমেলা। সে বইমেলাটি নাকি এখন থেকে প্রায় পাঁচশ বছর আগে, অর্থাৎ পঞ্চদশ শতাব্দীতে শুরু হয়েছিল। কথিত আছে, জোহানেস গুটেনবার্গ ছাপাখানা আবিষ্কারের পরই ছাপার অক্ষরে বই ছাপানো শুরু হয়েছিল। আর সেই ছাপানো বই প্রদর্শন, প্রচার ও বিক্রির জন্য তখন থেকেই মেলার আয়োজন হয়ে আসছিল। মাত্র পাঁচ দিনের এই মেলায় তিন লক্ষাধিক দর্শনার্থী ও সাত সহস্রাধিক প্রকাশকের সমাগম ঘটে।

তার পরে ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের বইমেলাটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলা বলা হয়ে থাকে। সে বইমেলাকে অবশ্য বইমেলা না বলে বইয়ের বাণিজ্যমেলাও বলা হয়ে থাকে। কারণ, মেলায় এসে পাঠক শুধু বই কিনবে এমনটিই নয়। এ মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বব্যাপী কীভাবে ভালো বই ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেটা। সেখানে প্রতিবছর দেড় শতাধিক দেশের প্রায় ২৩ হাজার প্রকাশক, গ্রন্থ বিক্রেতা, লিটারারি এজেন্ট, গ্রন্থাগারিক, গণমাধ্যম ও শিল্প সরবরাহকারীরা মেলায় অংশগ্রহণ করেন।

তার পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ হিসেবে খ্যাত কলকাতায় অনুষ্ঠিত বইমেলা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এটিকে পৃথিবীর বাংলা বইয়ের সবচেয়ে বড় মেলা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে লন্ডন মেলার মতো এটি কোনো বাণিজ্যিক বইমেলা নয়। প্রকৃত অর্থেই তা বাঙালির সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে আয়োজিত হয়ে থাকে। ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া কলকাতা বইমেলা ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। সেখানে প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে সেই বইমেলার আয়োজন হয়।

বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া এ বইমেলাকে সামনে রেখে দেশের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটে যায় এ ফেব্রুয়ারি মাসে। একুশের বইমেলাকে কেন্দ্র করে দেশের নামীদামি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ হাজারো প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মব্যস্ততা বাড়িয়ে দেয়।

বই প্রকাশনাকে একটি শিল্প হিসেবে ধরলে এ শিল্পে প্রচুর সৃজনশীল মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়ে থাকে। বইয়ের মতো সৃজনশীল কাজে সৃজনশীল মানুষই কাজ করেন। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় একসময় বাংলা একাডেমি চত্বরে শুরু হওয়া বইমেলার উপচেপড়া ভিড়ের অভিজ্ঞতায় এবার পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে মেলার স্থান হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

এই ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য সারাবছর বাংলাদেশের বইপ্রেমী পাঠক, লেখক এবং প্রকাশকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন। পুরো বইমেলা প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে নতুন বইয়ের গন্ধে, হাজারও মানুষের মুখর পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রূপ নেয় এক মহামিলন মেলায়।

তবে ইতিহাসের কথা বলতে গেলে যেটা বলতে হবে তা মূলত ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির বাংলা ভাষার জন্য মহান ভাষা শহীদদের আত্মোৎসর্গের অম্লান স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই এই বইমেলার নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ এবং তা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসেই পালিত হয় যা নিয়মিতভাবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, তবে ২০১৪ সাল থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমির মুখোমুখি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত হয়।

মেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রতিনিয়ত নতুন মোড়ক উন্মোচিত বইগুলোর নাম, লেখক ও প্রকাশকের নাম ঘোষণা করা হয় এবং দৈনিক প্রকাশিত বইয়ের সামগ্রিক তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়।

ফেব্রুয়ারি মাস ক্যালেন্ডারের একটি নির্দিষ্ট মাস শুধু নয়, এটি এখন বাঙালির আত্মমর্যাদা, প্রকাশের অহংকার ও নিজেকে উন্মোচনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়। মাসজুড়ে চলে বইমেলা। প্রতিটি বাঙালি অপেক্ষা করে কখন আসবে ফেব্রুয়ারি আর কখনই বা শুরু হবে বইমেলা। লেখক, পাঠক, প্রকাশক অধীর আগ্রহ অপেক্ষা এই প্রহরের। বাঙালির আবেগ আর ভালোবাসায় থরে থরে কম্পমান বইমেলা। অজস্র বই প্রকাশিত হয়। বইয়ের নামে এসেছে পরিবর্তন। প্রচ্ছদ সাইজ রয়েছে আকর্ষণ। সুসজ্জিত বইমেলায় প্রকৃতি নানা সাজে রঞ্জিত।

ঝরাপাতা, বিচিত্র ফুল, পাখির ডাক ও নানা বয়সি পাঠকের কলরবে মুখরিত বইমেলা শুধু মিলনমেলা নয়, স্মৃতিভারে গ্রথিত একটি অনন্য কেন্দ্র। ভালোবাসার টানে, নতুন বইয়ের গন্ধে আমরা বইমেলায় আসি, আবার ঘরে ফিরে যাই। সঙ্গে নিয়ে যাই প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য স্মৃতি। বইয়ে পড়া কোনো চরিত্র অলক্ষ্যেই হয়ে যাই। আনন্দ-বেদনায় লীন হয়ে কখনো দুই চোখ ভিজে যায়। দীর্ঘশ্বাস বুক ফুড়ে বেরিয়ে আসে। অতীতের পাওয়া না পাওয়া নিয়ে যে দোলাচালে আমরা বন্দি থাকি তার সামান্যটুকুই আমরা ধারণ করতে পারি। অমর একুশের মেলা, আমাদের প্রাণের মেলা, আমাদের চেতনা জাগ্রত করার এক উৎসব।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slot qris

slot bet 100 rupiah

slot spaceman

mahjong ways

spaceman slot

slot olympus slot deposit 10 ribu slot bet 100 rupiah scatter pink slot deposit pulsa slot gacor slot princess slot server thailand super gacor slot server thailand slot depo 10k slot777 online slot bet 100 rupiah deposit 25 bonus 25 slot joker123 situs slot gacor slot deposit qris slot joker123 mahjong scatter hitam

sicbo

roulette

slot server luar